মশা কাদের বেশি কামড়ায়


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ১৮, ২০২৬, ০২:৪৮ পিএম
মশা কাদের বেশি কামড়ায়

গরমের রাতে কিংবা সন্ধ্যায় অনেকেই হয়তো লক্ষ্য করেছেন- মশা যেন কিছু মানুষকে বেশি পছন্দ করে। কারও শরীর মশার কামড়ে ভরে যায়, আবার পাশে থাকা মানুষটি প্রায় অক্ষতই থেকে যান। এটা কি শুধুই কাকতালীয়? বিজ্ঞানীরা বলছেন, মোটেও নয়।

ফ্রান্সের ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ ফর ডেভেলপমেন্টের চিকিৎসা কীটতত্ত্ববিদ ফ্রেদেরিক সিমার্ডের মতে, মশা সত্যিই কিছু মানুষের প্রতি অন্যদের তুলনায় বেশি আকৃষ্ট হয়। তবে কেউ সব সময় মশার ‘প্রিয়’ থাকে না। শরীরের বিভিন্ন রাসায়নিক সংকেতের ওপর নির্ভর করে এই আকর্ষণ বদলাতে পারে।
মশা মানুষকে খুঁজে পায় মূলত তিনটি বিষয়ের মাধ্যমে- আমাদের নিঃশ্বাসে থাকা কার্বন ডাই-অক্সাইড, শরীরের গন্ধ এবং শরীরের তাপমাত্রা। শুধু স্ত্রী মশাই রক্ত খায়, আর তারাই এসব সংকেত শনাক্ত করে শিকার বেছে নেয়।

মশার নিশানায় আপনি কেন?
সুইডেনের গবেষক রিকার্ড ইগনেল জানান, শত বছরেরও বেশি সময় ধরে বিজ্ঞানীরা জানেন যে মানুষের নিঃশ্বাসে থাকা কার্বন ডাই-অক্সাইড মশাকে দূর থেকে আকৃষ্ট করে। কয়েক ডজন মিটার দূর থেকেও তারা এই গ্যাস শনাক্ত করতে পারে। এরপর কাছাকাছি এলে শরীরের গন্ধ তাদের আরও আকৃষ্ট করে। আর একেবারে কাছে পৌঁছালে শরীরের তাপ ও আর্দ্রতা মশার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে।
অনেকের ধারণা, নির্দিষ্ট রক্তের গ্রুপের মানুষকে মশা বেশি কামড়ায়। কিন্তু এ ধারণার পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। একইভাবে ত্বক, চোখ বা চুলের রঙের সঙ্গেও মশার পছন্দের কোনো সরাসরি সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।

তবে শরীরের গন্ধের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের ত্বকে থাকা অণুজীব বা মাইক্রোবায়োটার কারণে বিভিন্ন ধরনের গন্ধ তৈরি হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের শরীর থেকে ৩০০ থেকে ১,০০০ ধরনের গন্ধযুক্ত রাসায়নিক যৌগ নির্গত হতে পারে। এর মধ্যে কোনগুলো মশাকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করে, তা নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে।

সম্প্রতি এক গবেষণায় ৪২ জন নারীর ওপর পরীক্ষা চালানো হয়। গবেষকেরা দেখতে পান, যে-সব নারীকে মশা বেশি কামড়ায়, তাদের শরীরে ‘১-অক্টেন-৩-অল’ নামে একটি রাসায়নিক যৌগ তুলনামূলক বেশি ছিল। এটি ত্বকের প্রাকৃতিক তেল ভেঙে তৈরি হয়। এমনকি এই যৌগের সামান্য বৃদ্ধিও মশার আকর্ষণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে।

বিয়ার খেলে কামড়ায় মশা
আরেকটি মজার তথ্য হলো, বিয়ার পান করলেও মশার কাছে মানুষ বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। কারণ বিয়ার শরীরের তাপমাত্রা বাড়ায়, নিঃশ্বাসে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি করে এবং ত্বকের গন্ধে পরিবর্তন আনে। নেদারল্যান্ডসের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা আগের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিয়ার পান করেছিলেন, তারা অন্যদের তুলনায় প্রায় ৩৫ শতাংশ বেশি মশা আকর্ষণ করেছিলেন।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের নতুন নতুন অঞ্চলে মশার বিস্তার বাড়ছে। ফলে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও চিকুনগুনিয়ার মতো রোগের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই মশা কেন কিছু মানুষকে বেশি পছন্দ করে, সেই রহস্য উন্মোচন এখন শুধু কৌতূহলের বিষয় নয়; জনস্বাস্থ্যের জন্যও তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট 

Link copied!