অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ প্রথমবার চলচ্চিত্র পরিচালনা করলেন। এর নাম রাখা হয়েছে ‘সোমেশ্বরী’। সিনেমার গল্পে পরিবেশ দূষণ এবং প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।
পরিচালকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এতে একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন নওশাবা। তিনি জানিয়েছেন, ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি অব ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়ার (আইএফএম) উদ্যোগ ‘গ্রিন ফিল্মস’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে এই চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিকল্পনা শুরু হয়। পরিবেশ সংরক্ষণ এবং প্রকৃতিবান্ধব চলচ্চিত্র নির্মাণের ধারণা থেকে এই প্রকল্পের সৃষ্টি। এর আগে একই উদ্যোগের অংশ হিসেবে গোলাম রাব্বানীর পরিচালনায় স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘নিশি’ তৈরি হয়। সেই অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে গড়া নতুন একটি দলে যুক্ত হন নওশাবা। কোনো চিত্রনাট্য ছাড়াই তারা সুনামগঞ্জের মধ্যনগর এলাকায় যান। সেখানে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মিশে তাদের জীবনযাপন পর্যবেক্ষণ করে দলটি। একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া ও সময় কাটিয়ে গল্পের কাঠামো তৈরি করা হয়।
নওশাবা বলেন, ‘আমরা কোনো স্ক্রিপ্ট নিয়ে শুটিংয়ে যাইনি। সেখানে গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলতে বলতে, তাদের জীবনকে জানতে জানতে গল্পটা তৈরি হয়েছে। হাওরের মানুষ, রাখাল, নৌকাচালকরা যেভাবে জীবনযাপন করেন, সেভাবেই তারা এই সিনেমায় অভিনয়শিল্পী হয়ে উঠেছেন।’
নির্মাতা যোগ করেন, ‘গ্রিন ফিল্মস মানে শুধু প্রকৃতি নিয়ে গল্প বলা নয়, বরং পুরো নির্মাণ প্রক্রিয়া পরিবেশবান্ধব রাখা। আমরা প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার এবং প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর চেষ্টা করেছি।’
নওশাবা উল্লেখ করেছেন– ‘সোমেশ্বরী’ কোনো একক ব্যক্তির কাজ নয়। এটি একটি সম্মিলিত প্রয়াস। নির্মাণে যুক্ত ছিলেন আপন, লতা, জাহিদসহ আরও কয়েক জন তরুণ চলচ্চিত্রকর্মী। পুরো প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন আইএফএম-এর বিবেশ রায় ও আকতানিন খায়ের তানিন।
বিবেশ রায় প্রায় ২৫ বছর আগে মধ্যনগরে গিয়ে চিত্রনায়িকা মুনমুন ও অভিনেতা মাহমুদুল ইসলাম মিঠুকে নিয়ে ‘ধানের কাব্য’ নামের একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। এবার তিনি প্রযোজকের ভূমিকায় থেকে ‘সোমেশ্বরী’ নির্মাণে কাজ করেছেন।
বর্তমানে সম্পাদনার টেবিলে রয়েছে নওশাবা পরিচালিত প্রথম সিনেমা। এটি দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবগুলোতে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।





































