তারেক রহমানের চীন সফরে বড় বিনিয়োগের আশা


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ১৯, ২০২৬, ০১:২৫ এএম
তারেক রহমানের চীন সফরে বড় বিনিয়োগের আশা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফরে ‘প্রতিরক্ষা থেকে শুরু করে অনেক বিষয়’ থাকার কথা বলেছেন চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।

এ সফর সামনে রেখে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের অনেক কাজ ‘খুব দ্রুত’ এগিয়ে আনা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান।

জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন ঘটলে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়। বিপরীত প্রবণতা দেখা যায় ঢাকা-বেইজিং সম্পর্কের ক্ষেত্রে।

২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পর থেকে চীন সফর করতে দেখা গেছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের। চিকিৎসা খাতে ভারতের বিকল্প হিসেবে চীনের কথাও আলোচনা এসেছে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়।

সেই ধারাবাহিককায় লক্ষ্য করা যাচ্ছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়েও। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দ্বিতীয় বিদেশ সফর হিসেবে চীনকে বেছে নিয়েছেন তারেক রহমান। চলতি মাসের শেষ দিকে এ সফর হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রথম সফরে মালয়েশিয়া যাওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। তবে আঞ্চলিক রাজনীতি কিংবা বাণিজ্যের বিচারে চীন সফরকেই বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে না।

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের আলোচনার মধ্যে গত মঙ্গলবার একনেকে অনুমোদন পায় ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প, যেখানে বেইজিংয়ের ঋণে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে।

এই প্রকল্প গত এক দশক ধরে আলোচনায় থাকলেও নানা জটিলতায় তা আটকে ছিল।

মঙ্গলবার প্রকল্পটি অনুমোদনের পর ব্রিফিংয়ে আসেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। সেখানে তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, এ প্রকল্পের অনুমোদনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সফরের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কিনা।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের নিয়ে বিডা একটি কর্মশালা আয়োজন করলে সেখানেও তারেক রহমানের চীনা সফরের প্রসঙ্গ আসে। প্রসঙ্গক্রমে আসে অর্থনৈতিক অঞ্চলের কথাও।

জবাবে বিডা নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, “চীনে আমাদের বিনিয়োগের দিকটা নিয়ে বলি, কারণ অবশ্যই আপনারা জানেন যে, কূটনৈতিক জায়গা থেকে তারা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং বড় ধরনের একটা অংশীদার।

“সুতরাং সামগ্রিকভাবে চীন সফরটা বাংলাদেশের জন্য ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ সফর’। সেটার মধ্যে শুধু বিনিয়োগ না, এটার বাইরে আরও অনেকগুলা বিষয়, প্রতিরক্ষা থেকে শুরু করে আরও অনেকগুলো বিষয় উঠে আসবে। রাজনৈতিক বিষয় উঠে আসবে, অনেক বিষয় উঠে আসবে।”

বিষয়টি পরবর্তী সময়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামগ্রিকভাবে তুলে ধরবে বলে তার ভাষ্য।
বিনিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা গত পাঁচ বছরে একই প্রবণতা দেখছি যে, বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য চীন সবচেয়ে বড় উৎস। সে কারণেই আমরা এই সফরকে টার্গেট করে চায়নিজ ইকোনমিক জোনের অনেক কাজ কিন্তু খুব দ্রুত এগিয়ে একটা ভালো জায়গায় নিয়ে আসতে পেরেছি। আমরা চীন থেকে এসেই হয়ত প্রকল্পের কাজ শুরু করতে পারব।

“কাজটা শুরু হয়ে গেলেই আমরা দেখব যে ওখানে চীনের বিনিয়োগে একটা আমূল পরিবর্তন এসেছে।”

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সম্ভাব্য চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাইরে মংলা বন্দর নিয়েও চীনের আগ্রহ থাকার কথা তুলে ধরেন বিডা নির্বাহী।

তিনি বলেন, “উনারা মংলার ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছেন। চট্টগ্রামের পাশাপাশি দ্বিতীয় আরেকটা জোন চেয়েছেন মংলার দিকে। সেটার ব্যাপারেও হয়ত কিছু ডিসিশন আপনারা দেখতে পাবেন।“

তিনি বলেন, “আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেশ কিছু বড় চায়নিজ বিনিয়োগকারী, যাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার বেশ শক্তপোক্ত সম্ভাবনা আছে, তাদের সঙ্গে উনার কিছু মিটিংও সেট করছি।

সো আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে এই যে, নতুন সরকার এসেছে যারা আগামী পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকবে এবং সবসময় বলা হয় যে যেকোনো ইলেক্টেড গভমেন্টের প্রথম দুই বছর ইনভেস্টমেন্ট করার জন্য সবচেয়ে আইডিয়াল টাইম। এবং আমরা দেখছি যে সরকারও বুঝতে পারছে যে বড় বড় কিছু ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্টও করা দরকার আমাদের ওভারঅল ইকোনমিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। তো সেই জায়গাগুলোতে আমরা চায়নিজ এই সফরে তুলে ধরব।”

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করার ক্ষেত্রে জ্বালানি সরবরাহের সংকট, বিভিন্ন দপ্তরে অনুমোদন নিতে গিয়ে সময় ও অর্থের অপচয় এবং নানাবিধ বাধার সমস্যা কাটানোর উদ্যোগের কথা বলেন তিনি।

এ সময় চলতি বছরে এ সংকট পুরোপুরি না কাটার শঙ্কায় দেশিয় বিনিয়োগ বেশি বাড়ানো এবং সামনের বছরে বিদেশি বিনিয়োগে চাঙ্গা ভাব আসার আশার কথা শোনান তিনি।

-বাংলাদেশ জার্নাল

Link copied!