• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২০ জুন, ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১, ১৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

ঢাবি অধ্যাপক ওয়াহিদুজ্জামানকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান শিক্ষার্থীদের


নোবিপ্রবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: আগস্ট ৩০, ২০২৩, ০৯:১১ পিএম
ঢাবি অধ্যাপক ওয়াহিদুজ্জামানকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান শিক্ষার্থীদের

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সাবেক উপাচার্য ও ঢাবি অধ্যাপক ড. এম অহিদুজ্জামানের নারীর পর্দাবিরোধী বক্তব্য, হিজাবী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা ও ভুক্তভোগীকে উগ্রবাদী বলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (৩০ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এ মানবন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বক্তারা অধ্যাপক ড. এম অহিদুজ্জামানকে বক্তব্য প্রত্যাহার করে জাতির সামনে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।

মানবনবন্ধনে বাংলাদেশ ও স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী এস এম রাসেলের সভাপতিত্বে বক্তব্য প্রদান করেন ইইই বিভাগের নেহাল মাহমুদ, পরিসংখ্যান বিভাগের মোহাম্মদ সাকিব, অর্থনীতি বিভাগের ফয়সাল মাহমুদ, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের আশিকুল ইসলাম ও তৌফিক আহমেদ।

ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধ স্টাডিজ বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের এস এম রাসেল মানববন্ধনে বলেন, বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক চেতনার আদর্শ ভূমি। এই দেশে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও পোষাকের স্বাধীনতা রয়েছে। ক্যাম্পাসে মেয়েরা কোন পোশাক পরবে, কোন পোষাক পরবে না। এটা নির্দিষ্ট করে দেওয়ার এখতিয়ার কারও নেই। কিন্তু সম্প্রতি পর্দা পালনকারী শিক্ষার্থীদের নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ওয়াহিদুজ্জামান চাঁন মিয়া বারংবার হেনস্থার মুখে ফেলেছেন। শুধু এখানেই ক্ষ্যান্ত না থেকে হিজাব পরিধান করায় হেনস্থার শিকার শিক্ষার্থীকে উগ্রবাদী দলের সদস্য বলে মন্তব্য করে ব্লেমিংয়ের অপরাধও করেছেন তিনি। তার এই অমূলক মন্তব্যের জন্য অবিলম্বে তাকে ক্ষমা চাইতে হবে।

বিবিএ ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আশিকুল ইসলাম বলেন, মেয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ঢাবির এই শিক্ষক দাবি করেন যে ‘তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে না এসে বাসায় লেখাপড়া করা উচিৎ।’ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সঙ্গে পর্দা পালন করার কোনো সাংঘর্ষিকতা নেই। শিক্ষাকে কখনোই কোনো জাত, বর্ণ কিংবা পোশাকের সীমাবদ্ধতায় আবদ্ধ করার সুযোগ নেই। এই ইস্যুকে মুখ্য করে একজন শিক্ষার্থীকে শিক্ষার অধিকার ও সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা শিক্ষকসুলভ আচরণ হতে পারে না। এই মন্তব্য চরমভাবে নারী শিক্ষা বিরোধী। তার মন্তব্য সম্পূর্ণই ইসলাম বিদ্বেষপ্রসূত ও ইসলামী সংস্কৃতি বিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) প্রাক্তন উপাচার্য ও ঢাবি অধ্যাপক ড. এম ওয়াহিদুজ্জামান যারা পর্দা করে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি না হয়ে বাসায় থেকে পড়াশোনা করার পরামর্শ দেন। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) ২০১৯-২০ সেশনের ছাত্রীদের জোরপূর্বক নেকাব খুলে ভাইভা (মৌখিক পরীক্ষা) নেওয়া ও হেনস্থার অভিযোগ ওঠে এ অধ্যাপকের বিরুদ্ধে।

Link copied!