• ঢাকা
  • সোমবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১,

ছাত্র ইউনিয়নের দুই নেতাকে বহিষ্কারাদেশের নিন্দা ও প্রতিবাদ


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৪, ০৯:৫৪ পিএম
ছাত্র ইউনিয়নের দুই নেতাকে বহিষ্কারাদেশের নিন্দা ও প্রতিবাদ
ছাত্র ইউনিয়নের দুই নেতা। ছবি : সংগৃহীত

সিন্ডিকেট সভায় ছাত্র ইউনিয়ন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার দুই নেতাকে এক বছরের জন্য বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রশাসনের এরকম সিদ্ধান্তকে চূড়ান্তভাবে স্বৈরাচারী ও অগণতান্ত্রিক বলে আখ্যায়িত করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জাবি শাখা কাউন্সিল প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক সোহাগি সামিয়া।

বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পূর্বের একটি গ্রাফিতি মুছে গ্রাফিতি করায় এরকম সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে দাবি প্রশাসনের। গ্রাফিতি কোনো স্থায়ী শিল্প নয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে বা প্রাসঙ্গিকতা পাল্টে গেলে পূর্বের দেয়াল মুছে দেয়াল লেখার বা গ্রাফিতি করার প্রচলন চিরাচরিত। এর সঙ্গে বিশেষভাবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুমতি ব্যতিরেকে এক সংগঠনের দেয়াল, আর এক সংগঠন না মোছার নিয়ম সংস্কৃতির অংশ হিসেবেই চর্চিত হয়ে আসছে।

নিন্দা জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যে দেয়াল নিয়ে কথা হচ্ছে তার পাশেই আর একটিতে পূর্বে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের গণরুম-গেস্টরুমে ছাত্র-নিপীড়ন-বিরোধী খুবই প্রাসঙ্গিক একটি গ্রাফিতি ছিল। যেটি মুছেই পরবর্তী দেয়াল লেখা হয়েছে। হলগুলোতে ভয়ানক নিপীড়ন নির্যাতন, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ লুটপাটের গুরুতর অসংখ্য অভিযোগেও চুপ থাকা প্রশাসনের প্রকৃত বিষয় তদন্ত না করে তড়িৎগতিতে এহেন বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে ক্ষমতাসীন দলের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করে সুবিধা আদায়ের ঝোঁক স্পষ্ট। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের চরিত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক মুস্তাফিজ ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের দ্বারা সংঘটিত গণধর্ষণের ঘটনায় গত ৩ ফেব্রুয়ারি হতে ধর্ষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে ৫ দফা দাবিতে আন্দোলন চলমান। এই আন্দোলনের চাপেই ধর্ষকদের গ্রেপ্তার এবং এই সিন্ডিকেটে যৌন নিপীড়ক শিক্ষক মাহমুদুর রহমান জনিকে স্থায়ী বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যা প্রশাসনের সদিচ্ছা নয় বরং আন্দোলনকারীদের অর্জন এবং ৩০ কর্ম দিবসের মধ্যে অছাত্রদের হল থেকে বের করা হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

কিন্তু গণরুমে থাকা ছাত্রদের এবং ছাত্রলীগের চাপে পড়ে এক হলের ছাত্র যারা অন্য হলে আছেন তাদের কীভাবে নিজ হলে সিট দেওয়া হবে, তা নিয়ে পরিষ্কার কোনো বক্তব্য নেই। উপরন্তু ইতোমধ্যেই অছাত্রদের বের করার নামে ছাত্রত্ব থাকা শিক্ষার্থীদের হয়রানি করা হয়েছে। ৪১/৪২ ব্যাচকে বহালতবিয়তে হলে রেখে নিচের ব্যাচগুলোকে আগে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এরকম স্বায়ত্তশাসন খর্ব করা অগণতান্ত্রিক স্বৈরাচারী ভূমিকার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

Link copied!