শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নে ধীরগতি


নেত্রকোণা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ১৪, ২০২১, ০৫:৫৫ পিএম
শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নে ধীরগতি

শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় উন্নয়নকাজের ধীরগতির ফলে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলেও অবকাঠামোগত উন্নয়ন এখনো দৃশ্যের বাইরে।

২০১৮ সালের ৭ নভেম্বর (বুধবার) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক কমিটির (একনেক) সভায় নেত্রকোণায় শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য দুই হাজার ৬৩৭ কোটি টাকার অনুমোদন দেওয়া হয়। 

স্থানীয় টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) ভবনে অস্থায়ী ভিত্তিতে প্রশাসনিক এবং একাডেমিক কার্যক্রম চলছে। আবাসিক বিল্ডিং ভাড়া নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের আবাসন চাহিদা মেটানো হচ্ছে।

শিক্ষা অনুরাগীরা মনে করছেন, দ্রুত অবকাঠামো উন্নয়ন না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মৌলিক কার্যক্রম বেগবান করা সম্ভব হবে না।

২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রকল্প মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রথম টেন্ডার আহ্বান করা হয়। পর্যায়ক্রমে শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ৪৩টি টেন্ডারের মধ্যে মাত্র চারটি ই-টেন্ডার আহ্বান করা হয়।

এরমধ্যে, ল্যান্ড ডেভেলপমেন্টের জন্য ২৪০ কোটি, প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের জন্য ১১৮ কোটি, একাডেমিক ভবনের জন্য ১১৪ কোটি ও স্কুল অ্যান্ড কলেজের জন্য ৫৬ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। 

জানা গেছে, উক্ত অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য, ইতোমধ্যে টেন্ডার কমিটি টেন্ডার প্রক্রিয়া মূল্যায়ন শেষে শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি রফিক উল্লাহ খানের স্বাক্ষরসহ নথি শিক্ষা মন্ত্রণালয় পাঠিয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সচিব, উপমন্ত্রী ও মন্ত্রীর স্বাক্ষর সম্বলিত নথি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে সময় বর্ধিতকরণের নথিটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে না যাওয়ায় মূল নথিটি উপস্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না। এই অর্থবছরে শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজগুলো শুরু না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যাশিত উন্নয়ন আরো ঝিমিয়ে পড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তারা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী যদি এ বিষয়গুলোর দিকে বিশেষ দৃষ্টি দেন তাহলে খুব দ্রুতই বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন দৃশ্যমান হবে।

শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পিডি সেলিম আহমেদের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, “টেন্ডার প্রক্রিয়াসহ নিয়ম অনুযায়ী সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ওয়ার্ক অর্ডারসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আমাদের থেকে সকল নথিপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। উপরের নির্দেশনা পেলেই দ্রুত কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”

শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি রফিকউল্লাহ খান জানান, “জমি অধিগ্রহণ ও মাস্টার প্ল্যান তৈরিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক কাজই দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। ল্যান্ড ডেভেলপমেন্টসহ প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবন নির্মাণ প্রক্রিয়া ওয়ার্ক অর্ডারের অপেক্ষায় রয়েছে। নির্দেশনা পেলেই আশা করা যায় দ্রুত কাজ শুরু হয়ে যাবে। দৃশ্যমান এই কাজগুলো হয়ে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম আরো বেগবান হবে।”

শিক্ষা বিভাগের আরো খবর

Link copied!