কুবির ৪০ শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ


কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২১, ১১:২২ এএম
কুবির ৪০ শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) প্রত্নতত্ব বিভাগের চতুর্থ ব্যাচের ৪০ জন শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বিভাগটি। আগামী সাত দিনের মধ্যে এই নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিভাগটির বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ সোহরাব উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কারণ দর্শানোর নোটিশে বলা হয়, আপনারা বিভাগীয় ৪র্থ ব্যাচ, ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা গত ১ সেপ্টেম্বর তারিখ ও তৎপরবর্তী সময়ে অনলাইন প্লাটফর্ম, সোশ্যাল মিডিয়া এবং ফেসবুকে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ও বিভাগীয় শিক্ষকদের নিয়ে নানা ধরনের কটূক্তি ও বিব্রতকর মন্তব্য করেছেন। এমনকি শিক্ষকের সঙ্গে আপনাদের একাডেমিক অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের ভাষা উন্মুক্তভাবে উপস্থাপন এবং স্কিনশট শেয়ার করে বিরূপ মন্তব্য করেছেন। এটি আপনারা করতে পারেন কি না, সে বিষয়ে বিভাগ জানতে চায়। 

নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, বিভাগীয় শিক্ষকরা অবশ্যই শিক্ষার চলমান অচলাবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিভাগ একাডেমিক বিষয়ে তৎপর। তথাপি আপনাদের এ ধরনের অশোভন আচরণে বিভাগ মর্মাহত। তা ছাড়া বিভাগীয় একাডেমিক বিষয় নিয়ে আপনারা বিভাগীয় ছাত্র-উপদেষ্টা ও বিভাগীয় প্রধানের সঙ্গে আলোচনা ব্যতিরেকে বিভাগের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশগ্রহণ ও সরাসরি উপাচার্য মহোদয়ের স্মরণাপন্ন হয়েছেন। আপনাদের ও ধরনের আচরণ বিভাগীয় শৃঙ্খলা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচরণবিধিকে লঙ্ঘন করেছে।

এ বিষয়ে ব্যাচটির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন,  বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে যেহেতু পরীক্ষা গ্রহণের ক্ষমতা বিভাগের হাতে নেই, তাই আমরা সরাসরি উপাচার্য স্যারের কাছে গিয়েছিলাম আমাদের পরীক্ষার দাবিতে ৷ আর এসব নিয়েই ফেসবুকে আমরা লেখালেখি করেছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে বিভাগের কারণ দর্শানোর এমন নোটিশে আমরা শঙ্কিত ও হতবাক। 

কারণ দর্শানোর নোটিশ নিয়ে বিভাগটির বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ সোহরাব উদ্দীন বলেন, “ছাত্রদের দাবি দাওয়া ছাত্ররা করবেই। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কোনো শিক্ষককে বিব্রত করা যাবে না। আর কোনো বিষয়ে বিভাগে আলোচনা না করে সরাসরি উপাচার্য স্যারের কাছে গেলে বিভাগে শৃঙ্খলা থাকে না। এসব কারণেই তাদেরকে এ নোটিশটি দেওয়া হয়েছে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বিভাগীয় প্রধানের এমন বক্তব্যে বলেন, এর আগেও সেশনজট নিরসনে আন্দোলন করা হলেও বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষক শ্রেণিকক্ষেই বলেছে আন্দোলন করতে চাইলে আরও কর। এই বিভাগকে মধ্যে মধ্যে বিভাগ মনে হয় না, মনে হয় পারিবারিক নিয়োগের কারখানা।

কুবির প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ দীর্ঘদিন ধরেই সেশনজটে বিপর্যস্ত। কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়া ব্যাচটি ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও এরা প্রায় পাঁচ বছরে মাত্র ৪টি সেমিস্টার শেষ করতে পেরেছে।

রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) থেকে ব্যাচটির ৫ম সেমিস্টারের পরীক্ষা শুরু হয়েছে।

শিক্ষা বিভাগের আরো খবর

Link copied!