• ঢাকা
  • রবিবার, ১৬ জুন, ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১, ৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

ভরা বর্ষায়ও নেই বৃষ্টি, আমন নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক


নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: আগস্ট ৩, ২০২৩, ০২:৪৬ পিএম
ভরা বর্ষায়ও নেই বৃষ্টি, আমন নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

চলছে শ্রাবণ মাস। এ সময় প্রকৃতিতে থাকার কথা ভরা বর্ষাকাল। কিন্তু এ মৌসুমেও মিলছে না বৃষ্টির দেখা। আকাশে মেঘের আনাগোনা থাকলেও একপশলা বৃষ্টির দেখা নেই। তাই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন নীলফামারীর কৃষকরা।

আমনের চারা রোপণের উপযুক্ত সময় আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহ থেকে শ্রাবণের শেষ পর্যন্ত। এবার মৌসুমের শুরু থেকেই স্বাভাবিক বৃষ্টির দেখা পাচ্ছেন না কৃষকরা। পর্যাপ্ত বৃষ্টি না থাকায় সেচযন্ত্র ব্যবহার করে আমন চারা রোপণ করছেন এ জেলার কৃষকরা। ফলে আবাদে খরচ বৃদ্ধি ও উৎপাদন নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন তারা।

কৃষি বিভাগ বলছে, চারা রোপণের এখনো সময় আছে অন্তত ১৫ দিন। এ জন্য তারা বিকল্প উপায়ে আমন চারা রোপণের পরামর্শ দিয়েছে কৃষকদের।

সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আমন চারা রোপণে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষকরা। কোথাও জমি তৈরি, কোথাও সেচ দেওয়া, কোথাও চারা রোপণ আবার কোথাও বীজতলা থেকে চারা উত্তোলন করা হচ্ছে। বৃষ্টির আশায় না থেকে সেচযন্ত্র ব্যবহার করে আমন চাষাবাদে নেমে পড়েছেন কৃষকরা।

নীলফামারী সদরের টুপামারী নিজ পাড়া এলাকার কৃষক জাকারিয়া বলেন, “প্রতিবছর বৃষ্টির পানি দিয়েই এই সময় ধান লাগানো শেষ করি। কিন্ত গতবছর থেকে বর্ষার ভরা মৌসুমেও বৃষ্টি দেখা পাচ্ছি না। এই সময় খাল-বিল ভরপুর থাকার কথা বৃষ্টির পানিতে। ধানের চারাও বড় হয়ে যাচ্ছে তাই বাধ্য হয়ে সেচ পাম্প দিয়ে জমি তৈরি করে চারা রোপণ করেছি।”

ডোমার উপজেলার চিলাইপাড়া এলাকার তহিদুল ইসলাম বলেন, “বর্ষাকালেও বৃষ্টি নেই। আর কত দিন অপেক্ষা করবো। বৃষ্টির পানি নেই। আবাদ করবো কেমন করি। মেশিনের পানি দিয়ে আবাদ করলে খরচ বেশি হচ্ছে।”

একই এলাকার কৃষক রমজান আলী বলেন, “বৃষ্টি না হওয়ায় এখনো আমনের চারা রোপণ করতে পারিনি। জমিগুলো রোদে ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। শ্যালো মেশিন বা মোটর দিয়ে পানি তুলে জমি তৈরি করতে তো টাকা প্রয়োজন। টাকা পয়সার সংকটে আছি। বৃষ্টির পানি না হলে ধান লাগানো হবে না।”

নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. এস এম আবু বকর সাইফুল ইসলাম সংবাদ প্রকাশকে বলেন, বৃষ্টি না হওয়ায় আমন চারা রোপণে ব্যাঘাত ঘটছে। মূলত আমন চারা রোপণ হয় বৃষ্টির পানির ওপর ভর করে। এখনো সময় রয়েছে বৃষ্টি হওয়ার। তবে বিকল্প উপায়ে আমন চারা রোপণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে কৃষকদের।

জেলার ডিমলা কৃষি আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সংবাদ প্রকাশকে বলেন, সাধারণত জুলাই মাসে ৫২৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা থাকলেও নীলফামারীতে গড়ে ৪৪১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। রংপুর বিভাগের হিসেব করলে এর পরিমাণ নেমে আসবে ২০০ মিলিমিটারের ঘরে। জুনের তুলনায় একটু কম হয়েছে বৃষ্টিপাত।

Link copied!