ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় আটকে আছে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী ও সদরের কাঁঠালবাড়ির ফায়ার স্টেশন নির্মাণকাজ। ১০ বছর ধরে ভূরুঙ্গামারীর স্টেশন নির্মাণ না হওয়ায় এ স্টেশনের জন্য বরাদ্দ গাড়ি, জনবল ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ কুড়িগ্রাম ও রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ে পড়ে আছে। অন্যদিকে জমি না পাওয়ায় দুই বছর ধরে কাঁঠালবাড়ি স্টেশনের কাজও থমকে আছে।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেই পার্শ্ববর্তী উপজেলা নাগেশ্বরী থেকে ১৮ কিলোমিটার অতিক্রম করে নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে হয় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের। অনেক ক্ষেত্রে সঠিক সময়ে অগ্নিকাণ্ডের স্থলে পৌঁছাতে না পারা ও দ্রুত সময়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতেও বেগ পেতে হয় বলে জানান ভুরুঙ্গামারীর অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা নাগেশ্বরী উপজেলার ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা মো. ইমন মিয়া।
মো. ইমন মিয়া বলেন, “নাগেশ্বরী থেকে ভূরুঙ্গামারীর দূরত্বের কারণে অনেক ক্ষেত্রে সঠিক সময়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। বিলম্বের কারণে স্থানীয়দের রোষানলে পড়তে হয় অনেক সময়। আবার নাগেশ্বরীতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে সেখানেও কাজ করতে আমাদের বেগ পেতে হয়।”
উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা দীপক কুমার দেব শর্মা জানান,পূর্বে স্টেশন নির্মাণের যে জায়গা নির্বাচন করা হয়েছিল, সেটি জমিদাতা সেটি না দেওয়ায় গত বছরে নতুন করে জায়গায় নির্বাচন করা হয়েছে। নতুন করে প্রস্তাব জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
স্টেশন নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত উপজেলার অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি এড়াতে অস্থায়ীভাবে স্টেশন নির্মাণ করা যায় কি না, জানতে চাইলে তিনি জানান, এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের নিজস্ব কোনো সক্ষমতা নেই।
উপজেলার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মো.মাজেদ বলেন, “গত মাসে উপজেলার কামাত আঙ্গারিয়া গ্রামে মধ্যরাতে একটি বাড়িতে আগুন লাগে। নাগেশ্বরীতে খবর দেওয়া হলে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন দেড় ঘণ্টা দেরিতে ঘটনাস্থলে আসে। ততক্ষণে আগুনে পুড়ে ২টি গরু, ৪টি ঘর, প্রায় ২০ মণের মতো ধান ও চাল, ঘরের জিনিসপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। যদি আমাদের উপজেলায় ফায়ার সার্ভিসের অফিস থাকত, তাহলে হয়তো এ ক্ষতি কিছুটা কম হতো।”
অগ্নিঝুঁকির নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সেইফটি ম্যানেজমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সাখাওয়াত স্বপন বলেন, “প্রতি উপজেলায় ফায়ার স্টেশনের একটি ইউনিট স্থাপন করা এখন সময়ের দাবি। হরহামেশাই অগ্নিকাণ্ডসহ নানা দুর্ঘটনা ঘটছে।”
কুড়িগ্রাম সদরের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, “সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ি বাজারটি একটি জনবহুল গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এখানে ফায়ার স্টেশন নির্মাণের জন্য আমরা অধিদপ্তর থেকে চিঠি পেয়েছি। কিন্তু জমি না পাওয়ার কারণে দুই বছর ধরে আমরা কাজ করতে পারছি না।”
কুড়িগ্রাম গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা ফায়ার স্টেশন নির্মাণের জন্য চিঠি আসে। চিঠি পাওয়ার পর কয়েক দফায় জায়গা নির্ধারণ করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর স্টেশনের জন্য বরাদ্দ অর্থ প্রদান করা হয়। পরে জমিদাতা জমি বিক্রিতে অস্বীকৃতি জানালে বরাদ্দকৃত অর্থ ২০১৮ সালের মার্চে জেলা প্রশাসনকে ফেরত দেওয়া হয়। সর্বশেষ ২০২০ সালের জুলাই মাসে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় গণপূর্ত বিভাগ পুনরায় জমি নির্বাচন করে মাটি পরীক্ষা করে মন্ত্রণালয়ের কাছে স্টেশন নির্মাণে জমি বুঝে চেয়ে চিঠি পাঠায়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয় ২০২০ সালে জমি অধিগ্রহণ করা হলে ২০২১ সালে ফায়ার স্টেশনটি নির্মাণ করা সম্ভব হবে। কিন্তু জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় ২০২৩ সালেও আলোর মুখ দেখেনি ভূরুঙ্গামারী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনটি।
অন্যদিকে সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়িতে ফায়ার স্টেশন নির্মাণের বিষয়ে কোনো চিঠি পায়নি বলে জানায় কুড়িগ্রাম গণপূর্ত বিভাগ।
কুড়িগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের উপসহকারী পরিচালক মো. আলী আকবর বলেন, “এখানকার লোকজন জমি দিতে চাইছে না। জমি না পাওয়ার কারণে ভূরুঙ্গামারী ও সদরের কাঁঠালবাড়ির ফায়ার স্টেশন নির্মাণ সম্ভব হচ্ছে না। আমরা ডিসি মহোদয়কে বিষয়টি জানিয়েছি।”
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ বলেন, “চলতি বছরের ২০ মার্চ নতুন করে ভূরুঙ্গামারীর দেওয়ানের খামারে এক একর জায়গা দেখে মূল্য নির্ধারণ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। নতুন জমিদাতা জমি দিতে সম্মত। মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন এলেই কাজ শুরু করা হবে। কাঁঠালবাড়ি বাজারের স্টেশন নির্মাণের জন্য কুড়িগ্রাম-রংপুর মহাসড়কের পাশে আমবাড়ি নামক স্থানে একটি জায়গা দেখা হয়েছে। দ্রুতই বাকি কাজগুলো সম্পন্ন করা হবে।”








































