হঠাৎ বাস বন্ধে জামালপুরে দুর্ভোগে ঢাকাগামী যাত্রীরা


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬, ১১:৪২ এএম
হঠাৎ বাস বন্ধে জামালপুরে দুর্ভোগে ঢাকাগামী যাত্রীরা

জামালপুর-ঢাকা রুটে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। বাসের আশায় জামালপুর আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে এসে কাউকে ফিরে যেতে হয়েছে, কেউ ছুটছেন বিকল্প যানবাহনের খোঁজে। হঠাৎ বাস বন্ধের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ঢাকাগামী রোগী, শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীরা।

বুধবার রাত থেকে কর্মবিরতি পালন করছে জামালপুর বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন। মহাসড়কে চালক ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং নান্দিনা বাজার এলাকায় দুটি বাসে হামলা, ভাঙচুর ও শ্রমিকদের মারধরের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করছেন পরিবহন শ্রমিকরা।
আজ সকাল থেকে জামালপুর-ঢাকা রুটে কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। একই সঙ্গে কয়েকটি দূরপাল্লার রুটেও বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

জামালপুর পৌর শহরের পাথালিয়া ছাতার মোড় এলাকার নিপা আক্তার ঢাকার কেরানীগঞ্জে যাওয়ার জন্য সকালে টার্মিনালে আসেন। সেখানে এসে বাস চলাচল বন্ধের কথা জানতে পেরে বিপাকে পড়েন তিনি।

নিপা ক্ষোভ প্রকাশ করলেন, ‘বাস বন্ধ এটা জানতাম না। বাস বন্ধ থাকবে এটা আগেই যাত্রীদের জানানো উচিত ছিল। তাহলে আমাদের দুর্ভোগে পড়তে হতো না।’
ঢাকাগামী যাত্রী মো. রফিকুল ইসলাম বললেন, ‘জরুরি কাজে ঢাকায় যাওয়ার জন্য ভোরে বাড়ি থেকে বের হয়েছি। টার্মিনালে এসে জানতে পারলাম বাস চলবে না। এখন কীভাবে যাব বুঝতে পারছি না। কোনো আগাম ঘোষণাও পাইনি। যদি আগে থেকেই বলা হতো, তাহলে বিকল্প ব্যবস্থা করতাম।’

বগুড়াগামী বাসের অপেক্ষায় থাকা এক যাত্রী বলেছেন, ‘হঠাৎ করেই বাস বন্ধ। আমরা জানতাম না। আজ সকালে এসে জানতে পারলাম বাস বন্ধ। এখন কী করব আর। আর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করি। যদি না যেতে পারি, তাহলে তো ফিরেই যেতে হবে।’

টার্মিনালে অপেক্ষমাণ যাত্রীরা জানিয়েছেন, পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সমস্যা থাকতেই পারে, তবে এর খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে রোগী, শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীরা বেশি বিপাকে পড়েছেন।

জামালপুর বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম আহ্বায়ক হারুনুর রশিদ জানিয়েছেন, বুধবার সকালে জামালপুরগামী ও ঢাকাগামী দুটি রাজীব পরিবহনের বাসে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় চালক ও সহকারীদের মারধর করে এবং টাকা নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বিষয়টি পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে তারা কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেন। চালক-শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বাস চলাচল বন্ধ থাকবে।

বাসে ভাঙচুর ও শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

গত সোমবার সন্ধ্যায় জামালপুর থেকে ঢাকাগামী রাজীব পরিবহনের বাসের সঙ্গে উল্টা দিক থেকে আসা অটোরিকশার সংঘর্ষ হয়। এতে বাসের নিচে চাপা পড়ে মারা যান অটোরিকশায় থাকা চারজন। 

এর জেরে বুধবার সকালে রাজীব পরিবহনের রুট পারমিট বাতিল ও বাস চলাচল বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে নান্দিনার স্থানীয় ছাত্র-জনতা। একপর্যায়ে পরিবহনটির দুটি বাস থামিয়ে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হয়। পরে বাস দুটি নান্দিনা পূর্ববাজার খেলার মাঠ এলাকায় নিয়ে ভাঙচুর করা হয়।

Link copied!