• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৬ জুলাই, ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১, ১৯ মুহররম ১৪৪৫

শার্শা-বেনাপোল নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার গাড়ি


বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: আগস্ট ১২, ২০২২, ১০:১৫ এএম
শার্শা-বেনাপোল নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার গাড়ি

যশোরের বেনাপোল ও শার্শা থানার ভেতর মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন ধরনের কয়েকশত যানবাহন অযত্ন, অবহেলা ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে অযত্নে অবহেলায় এসব যানবাহন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

তিনটি কারণে থানায় জব্দ যানবাহন নষ্ট হচ্ছে। গাড়ি ছাড়িয়ে নিতে মালিকের না আসা, আদালতের নির্দেশনা ছাড়া এসব যানবাহন নিলামে বিক্রি করতে না পারা এবং থানা কর্তৃপক্ষও জব্দ যানবাহন সম্পর্কে আদালতকে কিছু অবগত না করা।

চুরি, সড়ক দুর্ঘটনা, চোরাই পণ্য, মাদকদ্রব্য বহনসহ বিভিন্ন অভিযোগে পুলিশ, বিজিবি ও কাস্টমস জব্দ করে মোটরসাইকেল, ট্রাক, বাস, প্রাইভেট কার, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মাইক্রোবাস ইত্যাদি। জব্দ করার পর মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এসব যানবাহন অযত্নে পড়ে থাকে থানা চত্বরে। এক পর্যায়ে এগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

থানা সূত্রে জানা যায়, নানা ধরনের অপরাধে জব্দ ও মামলার আলামত হিসেবে বেনাপোল পোর্ট থানা ও শার্শা থানার অভ্যন্তরে রোদ বৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন যানবাহন। যেগুলো বছরের পর বছর খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে। এখানে রয়েছে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, অটোরিকশা, ট্রাক, বাইসাইকেল। মামলার আলামত হিসেবে এসব যানবাহন জব্দ করা হলেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খোলা আকাশের নিচে দিনের পর দিন পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান সম্পদ।

প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, বিচারিক কার্যক্রম বিলম্ব হওয়ায় জব্দ এসব যানবাহন নিলামে কিংবা মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা যাচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, মালিক না আসায় যানবাহনগুলো বছরের পর বছর থানা চত্বরে পড়ে থাকলেও আইনি জটিলতায় বিক্রিও করা যায় না। মামলার আলামত হিসেবে এগুলো রাখতে হচ্ছে।

স্থানীয়রা বলেন, বছরের পর বছর রোদ বৃষ্টিতে শতশত যানবাহন মাটির সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। থানায় পড়ে থাকা এসব যানবাহন নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করলে অনেকেই এই যানবাহনগুলো কিনতে পারবে। আমরা চাই দ্রুত সময়ের মধ্যে এ যানবাহনগুলো এখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হোক। এসব থানায় জব্দকৃত যানবাহনগুলো পরিত্যক্ত স্থানে ফেলে না রেখে একটি নির্দিষ্ট স্থানে শেডের নিচে রাখলে দীর্ঘ সময়েও নষ্ট হবে না। সেটি না করলে কোনটা সচল আর কোন অচল বোঝার উপায় থাকবে না।

এ বিষয়ে আইনজীবী মিজানুর রহমান বলেন, চোরাই পণ্য, মাদকদ্রব্য বহন, চুরি, দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন কারণে জব্দ করা যানবাহন সিজার লিস্টের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তখন এগুলো চলে যায় আদালতের জিম্মায়। থানার মাধ্যমে মালিক এলে আদালতের নির্দেশে সেটি মালিকের জিম্মায় দেওয়া যায়। মূলত বেশির ভাগ সময় মালিক আসেন না। মামলার আলামত হিসেবে থানা কর্তৃপক্ষও এগুলো সরাতে পারে না। এর থেকে বের হতে নতুন পদ্ধতি ভাবা দরকার।

নাভারণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. জুয়েল ইমরান বলেন, “গাড়িগুলো মামলার আলামত। আদালতের নির্দেশে এসব গাড়ির নিষ্পত্তি করা হয়। এর বাইরে কিছু করার নেই। যেসব গাড়ির মালিক পাওয়া যায় না, সেগুলোর নিলাম হলে বিক্রি করা যায়। জব্দকৃত যানবাহনগুলো থানায় দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় আমাদের বেগ পেতে হয়। যদি বিজ্ঞ আদালত মামলা গুলো নিষ্পত্তি করেন তাহলে আমরা এসব আলামত দ্রুত নিষ্পত্তি করতে পারবো।”

Link copied!