• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৪ জুন, ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫
কান ডায়েরি-৬

'যদি জোডি‍‍`র মতো ফরাসী বলতে পারতাম!'


পার্থ সনজয়
প্রকাশিত: আগস্ট ২৬, ২০২১, ০৫:৪৩ পিএম
'যদি জোডি‍‍`র মতো ফরাসী বলতে পারতাম!'

'বিকজ দ্য ফেস্টিভ্যাল ইজ অ্যাবাভ অল...' ছড়িয়ে দেয়া বার্তাটাকে অর্থবহ করেই উৎসবের পর্দা উঠলো সন্ধ্যায়। গ্র্যান্ড থিয়েটার লুমিয়েরে সেই জ্বলে ওঠা আলোয় যতটা না ফিরে এলো রোমাঞ্চ, তার চেয়ে বেশী এলো স্বস্তি।

স্প্যানিশ পরিচালক পেদ্রো আলমোদোভারের পাশে জোডি ফস্টার। তার পাশে ২০১৯ এর স্বর্ণপাম জেতা 'প্যারাসাইট' খ্যাত বঙ জুন হ'কে নিয়ে গোলােপি পোশাকে স্পাইক লি যেন ঘোষণা করলেন, 'সিনেমা মরে যায়নি'!

মার্কিন সুপারস্টার জোডি ফস্টারকে বিশেষ স্বর্ণপাম দেয়ার ঘোষণাটা উৎসবের আগেই এসেছিল। উদ্বোধনী মঞ্চে পেদ্রো আলমোদোভারের কাছ থেকে 'আজীবন সম্মাননা' নিয়ে এই অভিনেত্রী ফিরে গেলেন ৪৫ বছর পেছনে। মনে করলেন, ১৯৭৬ সালে ১৩ বছর বয়সে 'ট্যাক্সি ড্রাইভার' ছবি দিয়ে কানে প্রথম পা রাখার মেদুর স্মৃতি। 

দারুণ ফরাসী উচ্চারণে তার কথা শেষ হতেই আফসোস স্পাইক লি'র। স্বভাবসুলভ হাস্য ভঙ্গিতে লি বললেন, "আমি যদি জোডি'র মতো ফরাসী বলতে পারতাম!"

উদ্বোধন পর্ব

হলভর্তি দর্শকের মুখর হাততালিতে উধাও সব অনিশ্চয়তা। করোনাকে সাথী করেই উদ্বোধন হয়ে গেলো বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে বড় আসরটির।  

তবে এর মাঝেই সমালোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে প্রেস জোনে। লালগালিচায় যে মানা হয় নি 'সোশাল ডিস্টেনসিং'! ছিল না মাস্কও। 

মানা বা থাকার কথাও ছিল না। তবে বিদ্রুপের ঢেউ উঠেছিল 'নো কিসিং রুল'কে ঘিরে। 

লাল গালিচায় হেঁটে এসে উদ্বোধনী ছবি 'অ্যান্নেত্তে'র অভিনেতা অ্যাডাম ড্রাইভার অবশ্য ধার ধারেননি এমন সমালোচনার। ক্যামেরায় বলেই ফেললেন, 'কোভিড ইজ স্টিল দেয়ার, বাট ইট'স আ হিউজ সেন্স অব রিলিফ এন্ড এক্সাইটমেন্ট।'

এই 'ব্যান্ড স্পার্কস মিউজিক্যাল মুভি'ই ছিল উৎসবের উদ্বোধনী ছবি। ফরাসি পরিচালক লিও ক্যারাক্সের ষষ্ঠ ও ইংরেজি ভাষার প্রথম চলচ্চিত্র 'অ্যান্নেত্তে'র চিত্রনাট্য লিখেছেন  আমেরিকার রন ও রাসেল মায়েল ভ্রাতৃদ্বয়।

মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে লড়া এই ছবির গল্প লস অ্যাঞ্জেলসের পটভূমিতে তৈরি। সুখী যুগল হেনরি ও অ্যান। হেনরি স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান আর অ্যান আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গায়িকা। তাদের প্রথম সন্তান অ্যান্নেত্তে'র জন্মের পরই জীবন বদলে যায় 'হেনরি-অ্যানে'র।

হেনরি ও অ্যানের ভূমিকায় আছেন যথাক্রমে আমেরিকান অভিনেতা অ্যাডাম ড্রাইভার ও ফরাসি অভিনেত্রী মারিয়ন কতিয়াঁ।

সন্ধ্যায় উদ্বোধনের পর ছবি প্রদর্শনী। কানে যখন রাত বাড়ছিলো, তখন বাংলাদেশ থেকে যাওয়া আমরা দুই সাংবাদিকের সাথে জার্মান থেকে যোগ দেয়া ডি ডব্লিউ'র বাংলা বিভাগের আরো দুই সাংবাদিকের ফোকাস, 'টিম রেহানা মরিয়ম নূর'। 

দুপুরেই জেনেছি, সাত সদস্যের দলটি প্যারিস থেকে ট্রেনে কানে পৌঁছেছে। মেসেঞ্জারেই হয়েছে হাই, হ্যালো।

জেনেছি, জে ডব্লিউ ম্যারিয়ট হোটেলে উঠেছেন সাদ ও বাঁধন। আলাদা অ্যাপার্টমেন্টে আছেন চিত্রগ্রাহক তুহিন তমিজুল, প্রোডাকশন ডিজাইনার আলী আফজাল উজ্জল, শব্দ প্রকৌশলী শৈব তালুকদার, কালারিস্ট চিন্ময় রয় এবং নির্বাহী প্রযোজক এহসানুল হক বাবু।

কানে পৌঁছে 'টিম রেহানা মরিয়ম নূরে'র ফটো সেশন

এর ফাঁকেই অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন জানিয়ে রাখলেন, ছবির প্রযোজক সিঙ্গাপুরের জেরেমি চুয়ার সঙ্গে তার প্রথম সাক্ষাৎ আজই। জেরেমিসহ আট সদস্যের 'টিম রেহানা মরিয়ম নূর' এর মধ্যেই সেরে নিয়েছে ছবিটির ওয়ার্ল্ড ডিস্ট্রিবিউটর 'ফিল্মস বুটিকে'র সাথে আলাপ। 

উত্তেজনার পারদটা চড়ছিল। কালই যে সেদিন! বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ৫০ বছর ধরে এমন একটি দিনের অপেক্ষায় তো ছিল। ৩ রা জুন উৎসব পরিচালক থিয়েরি ফ্রেমোর কন্ঠে উচ্চারিত 'রেহানা মরিয়ম নূর, আবদুল্লাহ সাদ আর বাংলাদেশ' শব্দগুলোই এরমধ্যে করে নিয়েছে ইতিহাস। সেই ইতিহাসের অনুবাদের দিন আর কয়েক ঘন্টা দূরে! 

এক্রিডেটেড সাংবাদিক হিসেবে নিজস্ব একাউন্ট থেকে 'রেহানা মরিয়ম নূর' দেখার টিকেট কেটেছিলাম প্যারিসেই।

রক্তের মধ্যে টের পাচ্ছিলাম উত্তেজনাটা। আ সার্টেন রিগার্ড বিভাগে ঠাঁই করে নেয়া ছবিটার প্রদর্শনী হবে 'সালে দেবুসি'তে। সেই থিয়েটারের সামনে ক্যামেরায় 'অ্যাজ লাইভ' করে ঢাকায় পাঠিয়ে দিলাম। 

অপেক্ষায় 'ডেটলাইন ৭ জুলাই। সকাল ১১টা ১৫।।'

(চলবে)

Link copied!