বিশ্বকাপে স্ট্রাইকার নিয়ে বারবার প্রশ্নের মুখে পড়েছিলেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। কিন্তু সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে ৩-১ গোলের জয়ের পর সেই দুশ্চিন্তা অনেকটাই কেটেছে তার। এই ম্যাচে গোল করেছেন হুলিয়ান আলভারেজ ও লাউতারো মার্তিনেজ, দুজনই।
নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ শেষ হয় ১-১ গোলে। এরপর অতিরিক্ত সময়ে গোল করেন আলভারেজ ও মার্তিনেজ। এই জয়ে বিশ্বকাপে টিকে থাকল শিরোপাধারী আর্জেন্টিনা। এই দুই স্ট্রাইকারের পারফরম্যান্স আবারও দেখিয়ে দিল, আক্রমণভাগে কতটা গভীরতা আছে স্কালোনির দলে। এই গভীরতাই যেমন কোচকে ভাবিয়েছে, তেমনি দিয়েছে বাড়তি বিকল্পও।
বিশ্বকাপের আগে গোড়ালির চোট থেকে সেরে ওঠেন আলভারেজ। তিনিই ছিলেন নিয়মিত একাদশের সদস্য। কিন্তু টুর্নামেন্ট শুরুতে স্কালোনি বেছে নেন মার্তিনেজকে। ২০২২ বিশ্বকাপেও একই ছবি দেখা গিয়েছিল। সেবারও শুরুতে প্রথম পছন্দের স্ট্রাইকার ছিলেন ইন্টার মিলানের এই ফরোয়ার্ড। এরপর তৃতীয় ম্যাচ থেকে দায়িত্ব নেন আলভারেজ।
সুইজারল্যান্ড ম্যাচের পর স্কালোনি বলেন, বিশ্বকাপের শুরুর দিকে স্ট্রাইকারদের গোল না পাওয়া নিয়ে তিনি কখনোই চিন্তিত ছিলেন না। একাদশ থেকে বাদ পড়ার পর মার্তিনেজের এই প্রাপ্তিতে বিশেষ খুশি তিনি।
স্কালোনি বলেন, ‘সেদিন লোকজন আমাকে বলছিল, দলের ৭০-৮০ শতাংশ গোল করেছে লিও (মেসি)। কিন্তু আমি চিন্তিত ছিলাম না। কারণ লাউতারো আর হুলিয়ান যেসব সুযোগ পাচ্ছিল, তাতে আমার বিশ্বাস ছিল। আজ তারা গোল করেছে, তাই আমার দুশ্চিন্তা আরও কমেছে।’
টানা দ্বিতীয় ম্যাচে একাদশে ছিলেন আলভারেজ। অন্যদিকে টুর্নামেন্টের প্রথম চার ম্যাচে একাদশে থাকা মার্তিনেজ এই ম্যাচে নামেন ৮৫ মিনিটে। মাঠ ছাড়েন মিডফিল্ডার রদ্রিগো দে পল।
শনিবারের ম্যাচে বেশিরভাগ সময় কোনো দলই গোলের দেখা পাচ্ছিল না। প্রথমার্ধে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা, দ্বিতীয়ার্ধে সমতা ফেরায় সুইজারল্যান্ড। পেনাল্টি শুটআউটের দিকে যখন এগোচ্ছিল ম্যাচ, তখনই জ্বলে ওঠেন আলভারেজ। ১১২ মিনিটে দূরপাল্লার শটে দারুণ এক গোল করেন। এর নয় মিনিট পর তৃতীয় গোল করেন মার্তিনেজ।
দুই ফরোয়ার্ডের মানসিকতার প্রশংসা করেন স্কালোনি। তিনি বলেন, একাদশে জায়গা পাওয়ার এই প্রতিযোগিতা দলকে বিভক্ত করেনি, বরং শক্তিশালী করেছে।
স্কালোনি বলেন, ‘লাউতারোর জায়গায় থাকা সহজ নয়। প্রথম চার ম্যাচে সে খেলেছে, এরপর দল থেকে বাদ পড়েছে। হুলিয়ান দলে এসেছে, আর যে দুই ম্যাচ সে খেলেছে, তাতে সে ছিল নির্ধারক।’
তবে আলভারেজ, লাউতারোর দুই গোলের আড়ালে ফাঁকা পড়ে গেছে আরও এক ফরোয়ার্ডের কথা। বিশ্বকাপে মোটে দ্বিতীয় বারের মতো মাঠে নেমেছিলেন তিনি। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ১১০ মিনিটে মাঠে নামানো হয় তাকে, এর ৪ মিনিট পর তার পাস থেকেই আসে আলভারেজের দুর্দান্ত সে গোল।
দলের তিন ফরোয়ার্ডের দুজন করেছেন গোল আর একজন করেছেন অ্যাসিস্ট। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের আগে তিন ফরোয়ার্ডের জ্বলে ওঠা নিশ্চয়ই কোচ স্কালোনিকে বেশ স্বস্তিই এনে দেবে।































