মেসি কখনো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেননি!


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ১২, ২০২৬, ১১:২২ এএম
মেসি কখনো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেননি!

আর্জেন্টাইন ফুটবলের ইতিহাসে ‘সুপার ক্লাসিকো’ বলতে যদি কিছু থেকে থাকে, তবে সেটি হলো আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড লড়াই। ১৯৮৬ সালের সেই ঐতিহাসিক ম্যারাডোনা-স্মৃতি থেকে শুরু করে মাঠের উত্তাপ—সব মিলিয়ে এই দুই দলের দ্বৈরথ সবসময়ই আলাদা মর্যাদা পায়। কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে, লিওনেল মেসির বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের দীর্ঘ ১৯ বছরেও একবারের জন্য আর্জেন্টিনার জার্সিতে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ হয়নি!

আগামী বুধবার দিবাগত রাত ১টায় আটলান্টায় বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে সেই বহু প্রতীক্ষিত এবং অসম্পূর্ণ ঘটনাটিই ঘটতে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবেন এলএম টেন। ৩৬ বছর বয়সী মেসি এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনা দলের হয়ে সব বড় প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই খেলেছেন। কিন্তু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোনো ম্যাচেই তিনি মাঠে নামার সুযোগ পাননি। এমনকি কোনো প্রীতি ম্যাচেও নয়।

২০০৫ সালের ১২ নভেম্বর জেনেভায় আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের সর্বশেষ সেই ঐতিহাসিক লড়াইয়ে (আর্জেন্টিনা ২-৩ ইংল্যান্ড) মেসি দলে থাকলেও লাল কার্ডজনিত নিষেধাজ্ঞার কারণে কেবল গ্যালারিতে বসে খেলা দেখতে হয়েছিল। সেদিন হারনান ক্রেসপো ও রবার্তো আয়ালার গোল করা সত্ত্বেও মাইকেল ওয়েনের জোড়া গোলে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল ইংলিশরা। এরপর দীর্ঘ দুই দশকে আর কখনো এই দুই দলের দেখা হয়নি।
সুইজারল্যান্ডকে অতিরিক্ত সময়ে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে স্কালোনির শিষ্যরা। অন্যদিকে, কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের বিপক্ষে জয় এসেছে অনেক কষ্টে। এখন আটলান্টায় বুধবারের ম্যাচটি শুধু ফাইনালের টিকিট পাওয়ার লড়াই নয়, এটি মেসির ক্যারিয়ারের এক বড় অপূর্ণতা দূর করারও উপলক্ষ।

আর্জেন্টাইন ফুটবল ভক্তদের কাছে ইংল্যান্ড এক স্বপ্নের প্রতিপক্ষ। ২০২৪ সালে এক জনমত জরিপেও দেখা গিয়েছিল, ইংল্যান্ডই ছিল আর্জেন্টিনা ভক্তদের পছন্দের শীর্ষে থাকা ইউরোপীয় প্রতিপক্ষ, যাদের বিপক্ষে তারা দলকে দেখতে চায়। সেই চাওয়া এবার বাস্তবরূপ পাচ্ছে বিশ্বকাপের মঞ্চে। ১৯৮৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনালের পর থেকে গত দুই দশকে বিশ্বকাপের মঞ্চে এই দুই দলের দেখা না হওয়াটা ছিল বিস্ময়কর। সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে আটলান্টায়।
দুই দলের পরিসংখ্যান, পুরনো স্মৃতি আর মাঠের বর্তমান উত্তাপ—সব মিলিয়ে আটলান্টার লড়াইটি হতে যাচ্ছে ২০২৬ বিশ্বকাপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অধ্যায়। ফুটবলপ্রেমীরা কি আবারও দেখতে পাবে ১৯৮৬ সালের সেই ম্যারাডোনা-সুলভ কোনো জাদুকরী মুহূর্ত? মেসির ক্যারিয়ারের সেই ‘মিসিং লিংক’ বা অপূর্ণ ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্য গড়ে দেবে—সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Link copied!