• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১, ৮ শাওয়াল ১৪৪৫
১৩ লাখে বসুন্ধরা কিংসে আসিফ

শেষ হলো বাফুফের ঐতিহাসিক নিলাম


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: আগস্ট ২৬, ২০২৩, ০৭:৩১ পিএম
শেষ হলো বাফুফের ঐতিহাসিক নিলাম
রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাফুফের নিলাম অনুষ্ঠান

ইতিহাসে নাম লেখাল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। নিজেদের ফুটবলে প্রথমবারের মতো ১০ জন খেলোয়াড়কে ক্লাবগুলোর কাছে নিলাম তুলে বিক্রি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

সবচেয়ে বেশি ১৩ লাখ টাকায় গোলকিপার আসিফকে দলে ভিড়িয়েছে বসুন্ধরা কিংস। আর নিলাম থেকে ব্রাদার্স ইউনিয়ন কিনেছে সর্বোচ্চ ৬ খেলোয়াড়কে।

হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠান শুরুর আগে উপস্থাপক নিজেই বলেন, “এমন ঘটনার সাক্ষী বাংলাদেশ ফুটবল আগে কখনও হয়নি। হয়েছে কিনা তা জানার জন্য অনেককেই ফোন দিয়েছেন, ঘেটেছেন ইতিহাসও। পাননি কোনও তথ্য। এমনকি বাফুফে সভাপতিকেও জিজ্ঞাস করেছি, আগে কখনও এমন হয়েছে কিনা। তবে এর আগে নিলামে খেলোয়াড় কেনা হোক বা না হোক, তা নিয়ে না ভেবে বাংলাদেশ ফুটবল যে ইতিহাস গড়ল তার জন্য সাদুবাদ পেতে পারে বাফুফে।”

সাবেক ফুটবলাররা প্রায় বলতেন, ক্লাবগুলো রেডি করার দরকার ছিল তরুণ ফুটবলারদের নিয়ে। যেটা তারা করতে ব্যর্থ হয়েছে। বাহিরের প্রত্যেকটা ক্লাব নিজেদের জন্য এ বা বি টিম রেডি রাখে। সেখান থেকে তারা তাদের মূল দলে খেলোয়াড়দের জায়গা দেয়। পাশাপাশি টাকা উপার্জনের জন্য তাদের বিভিন্ন ক্লাবে বিক্রিও করে দেয়।

আমাদের দেশের ক্লাবগুলো তা করতে ব্যর্থ। তাই নিজেদের পাইপলাইনে খেলোয়াড় বাড়াতে উদ্যেগ নিয়েছে বাফুফে। তারা তৈরি করে এলিট একাডেমি। যেখানে দেওয়া হয় ফুটবলারদের উন্নত প্রশিক্ষণ। এবার তাদের সেই এলিট একাডেমি থেকে ১০ জন ফুটবলারকে শনিবার (২৬ আগস্ট) নিলামে তোলা হয়। অনেক কিছুর ভিতরেও বাফুফের এমন একটা উদ্যোগ অবশ্যই প্রসংশনীয়।

নিলামের জন্য বাফুফের এলিট একাডেমির ১০ তরুণ ফুটবলারকে দুটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। ‘এ’ ক্যাটাগরিতে ৬ জনের ভিত্তিমূল্য ছিল ৫ লাখ টাকা। ‘বি’ ক্যাটাগরির ৪ জনের ভিত্তিমূল্য ৪ লাখ টাকা। নিলাম শেষে মঞ্চেই সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়কে পেতে বাফুফের সঙ্গে ক্লাবগুলোর সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে এক বছরের জন্য।

নিলামে সর্বোচ্চ ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছেন ৫ লাখ টাকা ভিত্তিমূল্যের একাডেমির গোলকিপার মোহাম্মদ আসিফ। তাঁকে পেতে বসুন্ধরা কিংস, আবাহনী, ব্রাদার্স বিডিংয়ে অংশ নিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁকে পেয়েছে বসুন্ধরা কিংস।

দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে নাম আসে মো. রুবেল শেখের। তবে প্রথম ডাকে অবিক্রিত থেকে যান তিনি। ‍‍`বি‍‍` ক্যাটাগরিতে থাকা এই ফুটবলারের ভিত্তিমূল্য ছিল ৪ লাখ। প্রথম ডাকে অবিক্রিত থাকলেও, নিলাম শেষে দ্বিতীয় ধাপে আবারও উঠানো হয় তাকে। দ্বিতীয় ধাপে তাকে ভিত্তিমূল্য ৪ লাখেই দলে নেয় ব্রাদার্স।

এছাড়া ফরোয়ার্ড আসাদুল মোল্লাকে ৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় দলে নিয়েছে আবাহনী লিমিটেড। সেন্টারব্যাক ইমরান খানকে ভিত্তিমূল্য ৪ লাখ টাকায় দলে নিয়েছে ব্রাদার্স ইউনিয়ন। ৭ লাখ ২৫ হাজার টাকায় সাজেদ হাসান জুম্মনকে দলে নেয় ফর্টিস এফসি। ৪ লাখ করে শ্রী সুমন সোরেন, সিরাজুল ইসলাম রানাকে দলে নেয় ব্রাদার্স।

আজ নিলামের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন মিরাজুল ইসলাম। ইতোমধ্যেই ইউরোপের ক্লাবে খেলার ডাক পেয়েছেন তিনি। ফলে তার সঙ্গে চুক্তি করলে লম্বা সময় তাকে দলে পাওয়ার সম্ভাবনা কম। তারপরও ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকায় তাকে দলে নিয়েছে ব্রাদার্স  ইউনিয়ন।

আজ নিলামে সর্বোচ্চ খেলোয়াড় দলে নিয়েছে ব্রাদার্স। তারা পাঁচজন ফুটবলারকে দলে ভিড়িয়েছে। দুইজন ফুটবলারকে দলে নিয়েছে আবাহনী। একজন করে খেলোয়াড় কিনেছে বসুন্ধরা কিংস, শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র এবং ফর্টিস এফসি।

নিলাম শুরুর আগে স্বাগত বক্তব্য দেন বাফুফের সহসভাপতি ও ডেভেলমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আতাউর রহমান ভূঁইয়া। তিনি বলেন, “২০২১ সালে আমরা বাফুফে এলিট একাডেমি চালু করি। উদ্দেশ্য ছিল জাতীয় দলের জন্য পাইপলাইন তৈরি করা।”

বাফুফে সভাপতি সালাউদ্দিন ছিলেন উচ্ছ্বসিত, “একাডেমি নিয়ে আমাদের সমালোচনা হয়েছে অনেক। সেটাকে আমরা কানে তুলিনি। আমরা ভেবেছি যে একটি একাডেমি আমরা করতে পারব। সেটা করতে পেরেছি। এবং সেখান থেকে খেলোয়াড় বেরোচ্ছে। এটা ভালো দিক।”

Link copied!