বিশ্বকাপ বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনায় নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন জিয়ানি ইনফান্তিনো। তবে মরক্কোয় অনুষ্ঠিত সভায় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সমর্থন পেয়ে ফিফা সভাপতি পদে টিকে গেছেন তিনি।
তীব্র সমালোচনার মুখে বুধবার মরক্কোর রাবাতে ফিফার আফ্রিকা কার্যালয়ে ব্যবস্থাপনা বোর্ডের সদস্যদের জরুরি বৈঠক ডেকেছিলেন ইনফান্তিনো। বৈঠক শেষে চার ঘণ্টা পর ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি তার প্রতি সমর্থনের বার্তা দিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে।
‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ প্রস্তাবটির বেশিরভাগ সমালোচনা এসেছিল ফিফার ভেতর থেকেই। সমালোচকদের অন্যতম ফিফা মহাসচিব মাতিনাস গ্রাফস্ট্রোম, যিনি বুধবারের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের পর এক বিবৃতিতে গ্রাফস্ট্রোম ও ব্যবস্থাপনা বোর্ড সভাপতি হিসেবে ইনফান্তিনোর প্রতি তাদের ‘পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত’ করেন।
ইনফান্তিনো ও গ্রাফস্ট্রোম যৌথভাবে স্বাক্ষরিত একটি চিঠি ফিফার ভাইস-প্রেসিডেন্ট, কাউন্সিল ও ২১১টি সদস্য সংস্থাকে পাঠিয়েছেন। সেখানে তারা তাদের ভুলের জন্য ‘আন্তরিকভাবে ক্ষমা চেয়েছেন’। পাশাপাশি এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। বৈঠক শেষে এই দুজন রাবাতে মেয়েদের আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের একটি ম্যাচ একসঙ্গে উপভোগও করেছেন।
বিবৃতিতে ফিফা জানায়, ‘ফিফা কাউন্সিল ও সদস্য সংস্থাগুলোকে প্রক্রিয়াটি থেকে বাদ দেওয়ার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না, তবে পুরো বিষয়টি অন্যভাবে পরিচালনা করা উচিত ছিল। গণমাধ্যমে প্রস্তাবটি ফাঁস হওয়ার পরও ভুল করা হয়েছিল।’
গত ২৮ জুলাই ‘দ্য টাইমস’ পত্রিকা প্রথম ইনফান্তিনোর এই পরিকল্পনার খবরটি প্রকাশ করেছিল। তবে বিবৃতিতে ফিফা এও উল্লেখ করেছে যে, সংস্থাটি ‘তার সততা, সুশাসন এবং যথোপযুক্ত প্রক্রিয়ার ওপর কোনো আক্রমণ আর বরদাস্ত করবে না এবং সুনাম রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।’
এর আগে, দ্য টাইমসের একটি প্রতিবেদন অস্বীকার করে ফিফা। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল মরক্কোতে আয়োজন করতে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ইনফান্তিনো দেশটির সমর্থন পেতে চেয়েছিলেন। ফিফা এই দাবিকে ‘মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর’ বলেছে। স্পেন ও পর্তুগালের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজিত হতে যাওয়া ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল কোথায় হবে, সেটা পরে জানাতে চেয়েছে ফিফা।
৫৬ বছর বয়সী ইনফান্তিনো চতুর্থ মেয়াদে সভাপিত হিসেবে নির্বাচন করতে এখন প্রস্তুত। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য প্রতিদ্বন্দীদের হাতে আগামী ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত সময় আছে। নির্বাচনটি ২০২৭ সালের মার্চ মাসে মরক্কোতে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা কংগ্রেসে অনুষ্ঠিত হবে। জয়ী হতে একজন প্রার্থীর ফিফার ২১১টি সদস্যের মধ্যে ১০৬টি ভোটের প্রয়োজন।
ফিফা আরও জানিয়েছে, ‘ভুলত্রুটি হলেও, যা কিছু করা হয়েছে তা ফিফার নিয়মকানুন পুরোপুরি মেনে করা হয়েছে।’ সংস্থাটি মনে করে, এই বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো ‘ফিফার সুশাসনকে আরও শক্তিশালী করবে’। তবে এই ধরনের বিবৃতি কিংবা অল্প কয়েকজন কর্মকর্তার অনুমোদন উয়েফার রাগ পুরোপুরি শান্ত করতে পারবে বলে মনে হয় না।
ইনফান্তিনোর এফএফই পরিকল্পনা সামনে আসার পর থেকে উয়েফা দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। এফএফই-এর প্রাথমিক প্রত্যাখ্যান থেকে শুরু করে ৫৫টি সদস্য সংস্থাই ফিফার প্রতিযোগিতা বয়কটের হুমকি দিয়েছিল।
ইনফান্তিনো নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার পর, কনফেডারেশন হিসেবে শুধু কনকাকাফ ফিফা সভাপতির সমালোচনা করেছে। তবে উয়েফার মতো তারাও কিন্তু তার ওপর থেকে আস্থা হারিয়েছে বলে ঘোষণা দেয়নি।
এশীয় কনফেডারেশন পরিকল্পনাটি প্রত্যাখ্যান করলেও, ইনফান্তিনো তা বাতিল করার পর থেকে কোনো ঢালাও বিবৃতি দেয়নি।
উয়েফার প্রচুর ক্ষমতা থাকলেও একা ইনফান্তিনোকে ক্ষমতাচ্যুত করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য তাদের বিশ্বব্যাপী আরও সমর্থনের দরকার।
ইনফান্তিনোকে সমর্থন জানানো দেশের তালিকা বেশ দীর্ঘ—যার বেশিরভাগই এশিয়া ও আফ্রিকার দেশ। মিসর, মরক্কো, নাইজার, মৌরিতানিয়া, ডিআর কঙ্গো এবং ফিলিপাইন ইনফান্তিনোকে সমর্থন দিয়েছে।
এসব দেশ ইনফান্তিনোর ‘ফিফা ফরোয়ার্ড’ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতি তিন বছরের চক্রে ৮০ লাখ ডলার (৫৯ দশমিক ৪ লাখ পাউন্ড) করে আর্থিক সুবিধা পায়।





























