গতকাল (৭ জুলাই) বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কিত ম্যাচে মিশরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে চলে যায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
নাটকীয় সেই ম্যাচ শেষে রেফারিং ও ভিএআর নিয়ে রীতিমতো বিতর্ক হচ্ছে। মিশরের কোচ হোসাম হাসান সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সুবিধা দিতে এবং লিওনেল মেসিকে টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখতে ম্যাচটিতে কারচুপি করা হয়েছে। তার এই বিস্ফোরক মন্তব্য ফুটবল বিশ্বে তীব্র আলোড়ন তৈরি করেছে, যা নিয়ে থিয়েরি অঁরি, রয় কিন ও জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের মতো কিংবদন্তিরাও দ্বিমুখী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
এব্যাপারে আর্সেনাল ও ফ্রান্সের সাবেক স্ট্রাইকার থিয়েরি অঁরি মিসরের হতাশা বুঝতে পারলেও ষড়যন্ত্রের অভিযোগকে সমর্থন করেননি। তিনি বলেন, আসুন শান্তভাবে বিষয়টি বুঝি। সবাই চিৎকার করছে, কিন্তু সবাই এক ঘটনা দেখছে না। আমি রিপ্লে বেশ কয়েকবার দেখেছি এবং মিসরের হতাশার কারণ বুঝতে পারছি। আবার আর্জেন্টিনাও কেন বিশ্বাস করে যে সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল, তাও বুঝছি। এই কারণেই বিতর্ক এত তীব্র।
অঁরির মতে মূল সমস্যা সিদ্ধান্ত ভুল বা সঠিক হওয়া নয়, বরং রেফারিংয়ের ধারাবাহিকতা। তিনি বলেন, মিশর যখন গোল করল, ভিএআর পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তা রিভিউ করে বাতিল করা হলো। কিন্তু পরে মিশরের পেনাল্টির আবেদনের সময় সেই একই রকম পুঙ্খানুপুঙ্খ রিভিউ দেখা যায়নি, খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখানেই সমর্থকরা প্রশ্ন তুলতে শুরু করে। ফুটবল বিশ্ব ভিএআর গ্রহণ করেছে ধারাবাহিকতার আশায়, নিখুঁত হওয়ার জন্য নয়। সমর্থকরা শুধু চায় প্রতিটি দলের জন্য যেন একই নিয়ম প্রযোজ্য হয়।
তবে অঁরি দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য আর্জেন্টিনার মানসিকতা এবং বীরোচিত লড়াইয়ের জন্য মিসরের প্রশংসা করেন।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক অধিনায়ক রয় কিন মিসর কোচের অভিযোগকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ম্যাচ হারার পর এমন অজুহাত সমর্থকরা করতেই পারে, কোনও জাতীয় দলের কোচ নয়। আপনার দল যদি ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ২-০ ব্যবধানের লিড হাতছাড়া করে, তবে সবার আগে নিজের আয়নায় মুখ দেখা উচিত।
কিন আরও বলেন, মেসি জিতলেই মানুষ ফুটবলের কথা বাদ দিয়ে ষড়যন্ত্রের গল্প খোঁজে। এটি অলসতা। পরাজয় মেনে নিন, কোথায় ভুল হয়েছে বিশ্লেষণ করুন এবং দলের উন্নতি করুন। রেফারি বা মার্কেটিং স্কিমকে দোষ দিয়ে লাভ নেই যে আপনাদের দল ম্যাচটি ধরে রাখতে পারেনি। নেতাদের দায়িত্ব নিতে হয়, অজুহাত খুঁজতে হয় না।




































