পর্তুগালের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল ক্রোয়েশিয়া। সেই সঙ্গে বিশ্বকাপে শেষবারের মত দেখা গেল ক্রোয়েশিয়ার মিডফিল্ডার লুকা মডরিচকেও।৪০ বছর বয়সী এই মাঝমাঠের যাদুকরকে আর হয়তো দেখা যাবে না বিশ্বকাপে কিংবা ক্রোয়েশিয়ার হয়েই খেলতে, তবে মডরিচ থেকে যাবেন ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে। ম্যাচের পর এমনটাই জানিয়েছেন প্রতিপক্ষ পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্তিনেজ।
' সে (মডরিচ) ফুটবলের লোকগাঁথায় চিরদিনের জন্য থেকে যাবে উদাহরণ হিসেবে। সে ছিল এমন একজন খেলোয়াড় যে বলে পা ছুঁইয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারত বলটা কোথায় যাবে। মডরিচ ছিল একজন ফুটবলারের জন্য আদর্শ উদাহরণ। খেলাটা যেমনই হোক, সে জায়গা করে নিতে পারত, সঠিক পাসটা দিতে পারত,তাকে খেলতে দেখাটা খুবই আনন্দের, (এখনো), সে যুবকের মতই খেলছে', টরোন্টোতে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ২-১ গোলে জয়ের পর বলেছেন পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্তিনেজ।
সাবেক যুগোস্লাভিয়ার থেকে আলাদা হবার পর ক্রোয়েশিয়া ১৯৯৮ বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে হয়েছিল তৃতীয়, তবে এরপর আরো তিনটা বিশ্বকাপে খেলে তারা গ্রুপ পর্ব পার করতে পারেনি। ২০১৮ সালে মডরিচদের প্রজন্মের পায়ে ফের ঘুরে দাঁড়ায় ক্রোয়েশিয়ার ফুটবল, রাশিয়াতে ২০১৮ সালে রানার্স আপ হয় ক্রোয়েশিয়া আর চার বছর পর কাতারে হয়েছিল তৃতীয়। এবারই শেষ ৩২ থেকে বিদায় নিল ক্রোয়েশিয়া। দলের কোচ জলাতকো দালিচ বলেছেন, ' এটা খুব সম্ভবত তার শেষ বিশ্বকাপ আর এটা এভাবে শেষ হলো সেজন্য খুব খারাপ লাগছে। সে তার মান ও খেলোয়াড় হিসেবে তার দক্ষতা দেখিয়েছে, সে শেষ সময় পর্যন্ত ক্রোয়েশিয়াকে নেতৃত্ব দিয়ে গেছে।'
ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো আর মডরিচ একসঙ্গে খেলেছেন রিয়াল মাদ্রিদে, ভাগ করেছেন অনেক স্মরণীয় মুহূর্ত। নিয়তি তাদের করেছে প্রতিপক্ষ আর রোনালদোর দলের কাছে হেরেই শেষ হয়েছে মডরিচের বিশ্বকাপ। বিদায় বেলায় সাবেক সতীর্থকে নিয়ে রোনালদোর স্মৃতিচারণ, 'লুকার বিপক্ষে অনেক ম্যাচ খেলেছি এবং আমাদের বয়সও প্রায় এক। ও ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তি। আমি ওকে বলেছি, 'তোমার সবকিছুর জন্য অভিনন্দন। আবারও তোমার সাথে দেখা করার অপেক্ষায় রইলাম এবং তোমার ক্যারিয়ারের আগামী দিনগুলোর জন্য অনেক শুভকামনা।' ওর বিপক্ষে আরেকবার খেলতে পারাটা দারুণ এক অনুভূতি ছিল।"
বিশ্বকাপ থেকে ক্রোয়েশিয়া বিদায় নিলেও এখনই বুটজোড়া তুলে রাখবেন কি না, এই নিয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি ৪০ বছর বয়সী মডরিচ, 'ম্যাচটাকে দুভাগে দেখা যায়। প্রথমার্ধে আমরা নিজেদের সেরাটা দিতে পারিনি, কিছুটা রক্ষণাত্মক খেলেছি। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে আমাদের পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত। এটা আমাদের অন্যতম সেরা ম্যাচ ছিল এবং ম্যাচটা আরও আগেই নিজেদের করে নেওয়া উচিত ছিল আমাদের।'
মডরিচ রেফারিং নিয়েও কিছু বলতে চান না, 'সুযোগগুলো আমরা কাজে লাগাতে পারিনি, আর এরপর এমন কিছু জিনিস ঘটেছে যা আমার বিশ্বাসই হচ্ছে না। ম্যাচের পরপরই এসব নিয়ে মন্তব্য করা কঠিন, কারণ আবেগের বশে ভুল কিছু বলে ফেলতে চাই না। তবে আমাদের পারফরম্যান্স নিয়ে আমরা গর্ব করতেই পারি। আমরা জয় পাওয়ার যোগ্য ছিলাম, কিন্তু ফুটবল এমনই (নিষ্ঠুর)।'
































