নিজেকে যেভাবে বদলেছেন মেসি


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ২১, ২০২৬, ০২:৫১ পিএম
নিজেকে যেভাবে বদলেছেন মেসি

সময় তার কাঁধে হাত রেখেছে। হয়তো বলতে চাইছে, বয়সের দাবি মেনে থামার কথা। তাই বলে তিনি সময়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামেননি। বরং সময়ের সঙ্গে মিতালী করে বদলে ফেলেছেন নিজেকে। কয়েক বছর ধরেই বদলাচ্ছেন। তারুণ্যে বিস্ময়কর ড্রিবলার হয়ে উঠেছেন নিখুঁত শুটার।

এটা ৩৯ ছুঁই ছুঁই লিওনেল মেসির গল্প। যার পায়ের ড্রিবলে ফুটবল পেতো শিল্পিত রূপ সেই তিনি এখন শরীরের সক্ষমতা মেপে নিজেকে কার্যকর রাখতে হয়ে উঠেছেন নিখুঁত ফিনিশার। আলজেরিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে বক্সের বাইরে থেকে আর্জেন্টাইন মহাতারকার দুটো শটে কি খানিকটা ইঙ্গিত মেলে না! আগে হলে ড্রিবল করে বক্সে ঢুকে পড়তেন, এখন মারছেন শট।

সেই বার্সেলোনার মেসির দিকে ফিরে থাকান। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে দুই-চার জন ডিফেন্ডারকে ধোঁকা দিয়ে পৌঁছে যাচ্ছেন গোলমুখে। সেই খেলাটা ছিল বল পায়ে তার ড্রিবল ও গতির অনন্য সমন্বয়। ক্যারিয়ারের ওই সেরা সময়ে তিনি প্রতি ম্যাচে ৪.৫ থেকে ৫.৫ টি সফল ড্রিবল করতেন। এটিই ছিল মেসির ট্রেডমার্ক এবং সাফল্যের বড় অস্ত্রও।  

কিন্তু বয়স যে তার ফুটবল যৌবন কেড়ে নিচ্ছে, সেটা তিনি বুঝতে শুরু করেছেন আগে থেকেই। আগের মতো দৌড়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণ তছনছ করে দেওয়া সম্ভব নয়। শক্তি সঞ্চয় ও দীর্ঘ মৌসুমজুড়ে সর্বোচ্চ কার্যকারিতা ধরে রাখতে নিজেকে বদলে ফেলতে হবে। ইন্টার মায়ামিতে যাওয়ার পর ২০২৩ সালে ফ্যাব্রিজিও রোমানোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেসির ওই উপলব্ধির প্রমাণ মেলে, ‘সময়, বর্তমান অবস্থা ও বয়সের কারণে আমি খেলার ধরন পরিবর্তন করেছি।’

যারা রোজ ভোরে ইন্টার মায়ামির খেলা দেখেন তার হয়তো পরিবর্তনটা ধরতে পারছেন। না দেখলেও পরিসংখ্যানে সব স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আগে প্রতি ম্যাচে যে ফুটবলারটির সফল ড্রিবলের সংখ্যা ছিল ৫.৫, সেটি এখন নেমে এসেছে ২-এ। ড্রিবল কমার সঙ্গে সঙ্গে তার শট নেওয়ার হার বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। এখন প্রতি ম্যাচে গড়ে শট নিচ্ছেন ৫.৫ থেকে ৬টি যা আগে দেখা যেতো না তার খেলায়। অর্থাৎ বল পায়ে দীর্ঘ সময় রাখার চেয়ে এখন আক্রমণ শেষ করার দিকেই বেশি মনযোগ।

তাতে ফলও মিলছে হাতেনাতে। ২০২৬ মৌসুমে ১৪ ম্যাচে ৮৪টি শট থেকে তিনি ১২টি গোল করেছেন, সঙ্গে ৭টি অ্যাসিস্ট। এই পরিসংখ্যান বলছে, বয়স বাড়লেও মেসির আক্রমণাত্মক কার্যকারিতা রয়ে গেছে সেরাদের মতোই।

নিজেকে বদলের খেলা মেসির জীবনে প্রথম নয়। যেমন ফ্রি-কিক এখন তার জন্য ডাল-ভাত হলেও বার্সেলোনায় শুরুর দিকে তিনি ফ্রি-কিকই নিতেন না। ২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর গড়ে এক থেকে দুটি ফ্রি-কিক নিতেন। তখন অবশ্য দলে ছিলেন রেনালদিনহো ও ডেকোর মতো ফ্রি-কিক মাস্টার। দীর্ঘ সময় ধরে অনুশীলন করে তিনি রপ্ত করেছিলেন রোনালদিনহোর ফ্রি-কিক মারার কৌশলটা। ২০১২ সাল থেকে নিয়মিত ফ্রি-কিক মারতে শুরু করেন সেই বছর করেছিলেন ৭ গোল। আস্তে আস্তে মেসির ফ্রি-কিকই হয়ে যায় গোলের বড় উৎস। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে এ পর্যন্ত তার ফ্রি-কিক গোল ৭১টি।   

এভাবেই একেকটি অস্ত্রে নিজেকে সাজিয়েছেন লিওনেল মেসি। সময়ের সঙ্গে কার্যকারিতা বাড়াতে বা ধরে রাখতে বারবার নিজেকে বদলেছেন তিনি। আর এ কারণেই ৩৮ বছর বয়সেও ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারেন এবং ফুটবলপ্রেমীদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখতে পরেন।

Link copied!