বাংলাদেশের ‘বাঁচা মরার’ লড়াই আজ


সংবাদ প্রকাশ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ১৯, ২০২৬, ১২:৪৯ পিএম
বাংলাদেশের ‘বাঁচা মরার’ লড়াই আজ

চট্টগ্রামে টি-টোয়েন্টি সিরিজের শুরুটা প্রত্যাশামতো হয়নি বাংলাদেশের। ওয়ানডে সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়েই মাঠে নেমেছিল স্বাগতিকরা। তবে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪ উইকেটে হেরে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছে তারা। শুক্রবার শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুপুর ২টায় শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ। বাংলাদেশের জন্য এটি বাঁচা-মরার লড়াই। এই ম্যাচে হেরে গেলে সিরিজ নিশ্চিত হয়ে যাবে অস্ট্রেলিয়ার। আর জিততে পারলে সমতায় ফিরেই শেষ ম্যাচে সিরিজ নির্ধারণের সুযোগ পাবে স্বাগতিকরা।

গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে বৃহস্পতিবার অনুশীলনের বদলে বিশ্রামেই সময় কাটিয়েছে বাংলাদেশ দল। ক্রিকেটাররা হোটেলের জিম ও সুইমিংপুলে সময় কাটিয়ে নিজেদের ফিট ও সতেজ রাখার চেষ্টা করেছেন। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের পরাজয়ের বড় কারণ ছিল ব্যাটিং ব্যর্থতা। ৩৯ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর হঠাৎই ধস নামে ইনিংসে। এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি স্বাগতিকরা। অ্যাডাম জাম্পা ও জোয়েল ডেভিসের স্পিনে দিশেহারা হয়ে মাত্র ১৩১ রানেই অলআউট হয় বাংলাদেশ।


যদিও বোলিং বিভাগ কিছুটা আশা দেখিয়েছে। মোস্তাফিজুর রহমান ও শরিফুল ইসলাম শুরুতেই অস্ট্রেলিয়াকে চাপে রাখার চেষ্টা করেন। অভিষেক ম্যাচে দুই উইকেট নিয়ে নজর কাড়েন আব্দুল গাফ্ফার সাকলাইনও। কিন্তু মাত্র ১৩১ রানের লক্ষ্য নিয়ে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটিং লাইনআপকে আটকে রাখা সম্ভব হয়নি। কুপার কনোলির ৪৭ রানের ইনিংসে ভর করে ১৮.২ ওভারেই জয় নিশ্চিত করে সফরকারীরা।

দ্বিতীয় ম্যাচের আগে বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক খবর হতে পারে নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাসের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন। কাফ মাসলের চোটের কারণে প্রথম ম্যাচে খেলতে পারেননি তিনি। তার অনুপস্থিতিতে নেতৃত্ব দেন তাওহিদ হৃদয়। শুক্রবার লিটন ফিরলে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি নেতৃত্ব ও দলীয় ভারসাম্য দুই ক্ষেত্রেই বাড়তি শক্তি পাবে বাংলাদেশ।


প্রথম ম্যাচের পরও ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়। গত ম্যাচে হারের পর তিনি বলেছিলেন, ‘ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে আজ আমরা ব্যর্থ হয়েছি। আশা করি এখান থেকে আমরা ঘুরে দাঁড়াবো। আমরা সবাই জানি কী ধরনের ভুল করেছি, তাই আশা করি পরের ম্যাচে সেটা কাটিয়ে উঠতে পারবো। প্রতিটি সিরিজ আর প্রতিটি ম্যাচে বোলিং ইউনিট ভালো করেছে। পরেরবার আমরা আরও ভালো করবো।’

দ্বিতীয় ম্যাচে উইকেটের আচরণও আলোচনায় রয়েছে। প্রথম ম্যাচের উইকেট ছিল কিছুটা ধীরগতির, আর বাউন্ডারিও ছিল তুলনামূলক বড়। তবে এবার উইকেট প্রস্তুতি ও বাউন্ডারির মাপে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে বলে জানা গেছে। সেটি হলে ব্যাটাররা প্রথম ম্যাচের তুলনায় কিছুটা সুবিধা পেতে পারেন।

অন্যদিকে প্রথম ম্যাচ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই মাঠে নামবে অস্ট্রেলিয়া। মিচেল মার্শ, টিম ডেভিড ও জশ ইংলিসদের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের সঙ্গে স্পিনে অ্যাডাম জাম্পা ও তরুণ জোয়েল ডেভিস আবারও বাংলাদেশের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারেন।

 

ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর টি-টোয়েন্টিতেও ধারাবাহিকতা ধরে রাখার স্বপ্ন দেখেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু প্রথম ধাক্কায় সেই পথ কঠিন হয়ে গেছে। এখন সিরিজে টিকে থাকতে হলে শুক্রবার নিজেদের সেরা ক্রিকেট খেলতেই হবে স্বাগতিকদের। নইলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই অস্ট্রেলিয়ার কাছে সিরিজ খোয়ানোর হতাশা সঙ্গী হবে লাল-সবুজদের।

Link copied!