কারাগারে পাঠানো হয়েছে শ্রোতাপ্রিয় লোকসংগীত শিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালক মুজিব পরদেশীকে। চেক ডিজঅনার মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ।
আজ মঙ্গলবার কারাগারে পাঠানো হয় তাকে। এর আগে দশ লাখ টাকার চেক ডিজঅনারের অভিযোগে ইদ্রিস আলী বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তি ২০২২ সালে মাগুরার আদালতে মুজিব পরদেশীর বিরুদ্ধে এ মামলা করেন।
মামলার রায়ে ২০২৩ সালের ১৫ মার্চ মাগুরার দ্বিতীয় যুগ্ম দায়রা জজ মুহাম্মদ আনোয়ার ছাদাত এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং চেকের সমপরিমাণ ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করেন মুজিব পরদেশীকে। পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
সেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানামূলে সোমবার উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই হেলাল উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেছেন, পুলিশ আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
তবে মুজিব পরদেশীর পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। বাদীপক্ষের আইনজীবী সফিকুল ইসলাম জামিনের বিরোধিতা করেন।
আসামির আইনের প্রতি শ্রদ্ধা নেই মন্তব্য করে শুনানিতে বাদীপক্ষের আইনজীবী বললেন, মামলার বিষয়ে অবগত থাকলেও তিনি পলাতক ছিলেন। সোমবার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। আসামিকে জামিন দিলে বাদীর ক্ষতি। সে জন্য তার জামিন নামঞ্জুর করে আসামিকে কারাগারে পাঠানো হোক।
মুজিব পরদেশীর আসল নাম মুজিবুর রহমান মোল্লা। তিনি আশির দশকে বাংলা লোকগীতির মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
এই গায়কের জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘আমি বন্দী কারাগারে’, ‘কলমে নাই কালি’, ‘তোমায় আমি হলেম অচেনা’, ‘আমার সাদা দিলে কাদা লাগাই গেলি রে বন্ধুয়া’, ‘আমি যার লাগি হইলাম অনুরাগী গো প্রাণসজনী’, ‘আমার জনম গেলো কাঁদিতে’, ‘আমারে নি পড়ে তোমার মনে’, ‘আমার সোনা বন্ধু রে’ প্রভৃতি।



















