প্রতি বছর দুর্গাপূজার সময়ে সনাতনধর্ম পালনকারীরা মা দুর্গার প্রতিমা তৈরি করে। দশ হাতের শক্তিময়ী মা দুর্গা অসুরকে পায়ের কাছে ফেলে তাকে বধ করে। এটা মূলত একটা প্রতীকী ব্যাপার। অশুভ শক্তির উপরে শুভ শক্তির বিজয় দেখাতেই এই পূজার আয়োজন শুরু হয়েছিল দূর কোনো এক অতীতে। সেটাকেই প্রতি বছর ঘটা করে পালন করে সনাতনধর্মীরা।
কয়েক দিন ঢাকঢোল সহযোগে পূজা করার পরে বিজয়া দশমীতে মা দুর্গাকে তারা নদীতে নিয়ে গিয়ে বিসর্জন দেয় সনাতনপন্থীরা। সেই বিসর্জনেও দুঃখের চেয়ে আনন্দের ভাগই থাকে বেশি। সে কারণে সেই বিসর্জন ঘটে শোভাযাত্রা সহকারে, ঢাক-ঢোল ঘণ্টা বাজিয়ে। দেবী দুর্গাকে সবাই মিলে তুলে নেয় কাঁধে কিংবা কোনো শকটের উপরে। তারপর আনন্দ শোভাযাত্রাসহকারে সেটাকে নিয়ে গিয়ে বিসর্জন দেওয়া হয়। অনিন্দ্যসুন্দরী দেবী দুর্গা অশুভশক্তিনাশিনী হিসাবে বুক ফুলিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে মৃতপ্রায় অসুরকে পায়ের কাছে ফেলে দিয়ে।
এই বছর অবশ্য ঘটনা ঘটেছে উল্টো। দেবী দুর্গা তার নিয়মিত অসুর বধ করতে পারেননি। তার বদলে যবনকুলের জাহাবাজ অসুরেরাই তাঁকে বধ করে ফেলেছে অস্ত্রশস্ত্র হাতে নিয়ে। বিসর্জনের আগে যেখানে অসুর নিহত হয়, দেবীকে বিসর্জন দেওয়া হয়, এবার দেবী নিজেই নিহত হয়ে গিয়েছেন অসুরদের প্রবল আক্রমণের সামনে। তার মাথা গিয়েছে ঘাড় থেকে খসে। হাত-পা হয়ে গিয়েছে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন। জীবন্ত দেবী দুর্গাকে প্রকাশ্যে নদীর জলে বিসর্জনের বদলে তার খণ্ড-বিখণ্ড লাশকে কাপড়ে ঢেকে নিয়ে সবাই গিয়েছে নদীর পারে, শ্মশান ঘাটে, দেবীর লাশের সৎকার করতে। আনন্দ শোভাযাত্রা পাল্টে গিয়ে তা পরিণত হয়েছে এক শোকযাত্রায়।








































