সোশ্যাল মিডিয়া কি মূল ধারার গণমাধ্যম থেকে বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠছে?


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৯, ২০২৬, ০২:২০ পিএম
সোশ্যাল মিডিয়া কি মূল ধারার গণমাধ্যম থেকে বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠছে?

সোশ্যাল মিডিয়া দ্রুত শক্তিশালী হয়ে উঠলেও এটি মূলধারার গণমাধ্যমকে পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করেছে কি না—সে প্রশ্নের উত্তর এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না; বরং অনেকের মতে, এটি একদিকে বিকল্প ধারা হিসেবে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে মূলধারার সমান্তরাল শক্তি হিসেবে দাঁড়াচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক শামীম রেজা মনে করেন, সোশ্যাল মিডিয়ার কাঠামো মূলত বিকল্প ধারার হলেও এটি ক্রমেই প্রভাব তৈরির বড় ক্ষমতা অর্জন করছে। তাঁর ভাষায়, সোশ্যাল মিডিয়া আদৌ বিকল্প মাধ্যম হিসেবে বিকশিত হবে নাকি মূলধারার গণমাধ্যমের সমান্তরাল হয়ে উঠবে—এটি বুঝতে আরও সময় প্রয়োজন।

বিবিসি বাংলার ফেসবুক পেজে এক কোটি ছাড়ানো অনুসারীর সংখ্যা দেখিয়ে দেয়, খবর ও তথ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতি মানুষের নির্ভরতা কতটা দ্রুত বাড়ছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বজুড়েই সোশ্যাল মিডিয়া এখন শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম—অনেক দেশে প্রতিবাদ-আন্দোলন সংগঠিত করতেও এটি বড় ভূমিকা রাখছে। ফলে জনমত গঠন, বিতর্ক তৈরি, এমনকি রাজনৈতিক ও সামাজিক অ্যাক্টিভিজমের ক্ষেত্রেও সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব দিন দিন বেড়েছে।

তবে অধ্যাপক শামীম রেজা মনে করেন, সোশ্যাল মিডিয়া যতই শক্তিশালী হোক, এতে বাংলাদেশের মূলধারার গণমাধ্যম—সংবাদপত্র, টেলিভিশন, রেডিও—ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে, এমন সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না। তাঁর যুক্তি, এখানে প্রযুক্তি বদলাচ্ছে, প্ল্যাটফর্ম বদলাচ্ছে, ফরম্যাট বদলাতে হচ্ছে—কিন্তু ‘সংবাদ’ তো বদলাচ্ছে না। সংবাদ পরিবেশনের রীতি, ভালো সাংবাদিকতার চাহিদা এবং সমাজ-রাজনীতি-অর্থনীতি-সংস্কৃতিতে তথ্যভিত্তিক প্রয়োজন—এসব চাহিদা থেকেই যাচ্ছে।

বরং বাস্তবতা হলো, পুরনো গণমাধ্যমগুলোও সোশ্যাল মিডিয়ার সুযোগ গ্রহণ করছে। তারা নিজেদের কনটেন্ট প্রচার ও পাঠক-দর্শকের কাছে পৌঁছাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করছে, অনলাইনভিত্তিক সংবাদমাধ্যমও বাড়ছে। ভবিষ্যৎ যেদিকে যাচ্ছে এবং ব্যবহারকারীদের চাহিদা যেহেতু সেই দিকেই বাড়ছে—মানুষ যখন ক্রমশ সোশ্যাল মিডিয়ায় খবর পড়তে চাইছে—তখন মূলধারার গণমাধ্যম “নষ্ট হয়ে যাবে” না; বরং তারা নিজেদের কৌশল ও উপস্থিতি বদলে টিকে থাকবে—এমনটাই মত তাঁর।

সোশ্যাল মিডিয়ার বড় শক্তি হিসেবে তিনি যে দিকটি তুলে ধরেন, তা হলো শেয়ারিং ও বিনিময়ের সক্ষমতা। এই মাধ্যম তুলনামূলকভাবে কম ‘কঠোর’ সাংগঠনিক কাঠামোর, অনেক বেশি অংশগ্রহণমূলক এবং অ্যাক্টিভিজমের জন্য সহজ। রাষ্ট্রের নির্বাহী প্রধান থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত—সবার জন্য এখানে মত প্রকাশ ও প্রতিক্রিয়া জানানোর সুযোগ তৈরি হয়। এই অর্থে সোশ্যাল মিডিয়াকে তিনি তুলনামূলকভাবে বেশি “গণতান্ত্রিক” প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখেন এবং মনে করেন, যে মাধ্যমে গণতান্ত্রিক কাঠামো বেশি থাকবে, ভবিষ্যতেও তার প্রভাব টিকে থাকার সম্ভাবনা বেশি।

সামাজিক যোগাযোগ বিভাগের আরো খবর

Link copied!