রূপপুর পৌঁছেছে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউরেনিয়াম


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: অক্টোবর ৩, ২০২৬, ০২:২২ পিএম
রূপপুর পৌঁছেছে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউরেনিয়াম

পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে পৌঁছেছে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের ‘ফ্রেশ নিউক্লিয়ার ফুয়েল’ বা ইউরেনিয়াম।

আজ শনিবার বেলা ১২টা ২০ মিনিটে সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় ইউরেনিয়াম বহনকারী গাড়িগুলো রূপপুর প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করেছে।

গতকাল শুক্রবার রাত পৌনে ১২ টার দিকে পারমাণবিক জ্বালানি বহনকারী বিমানটি রাশিয়া থেকে ঢাকায় পৌঁছায়। জ্বালানিবাহী বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর পরমাণু শক্তি কমিশনের কর্মকর্তারা তা বুঝে নেন।

শনিবার সকাল সোয়া ৭টার দিকে তিনটি লরিতে করে বিমানবন্দর থেকে রূপপুরের পথে রওয়ানা হয় ইউরেনিয়াম বহনকারী গাড়িগুলো। পরে সেনাবাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়ে নাটোরের বনপাড়া ও পাবনার ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া হয়ে রূপপুর প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়।

এ সময় মহাসড়কের প্রতিটি মোড়ে পুলিশের উপস্থিতি দেখা গেছে। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি এসআরবি ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করেন।

পুলিশ ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, বিশেষ নিরাপত্তা বলয়ে ঢাকা থেকে সড়ক পথে এই ইউরেনিয়াম বহনকারী গাড়িগুলো রওয়ানা হয়। এ সময় মহাসড়কটি যানজটমুক্ত রাখতে সাময়িকভাবে ভারী যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি কার্গোতে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ‍্যাসেম্বল এবং প্রথম ইউনিটের রিফুয়েলিংয়ের জন্য দুটি কার্গোতে বাড়তি ৪৮টি ইউরেনিয়াম অ‍্যাসেম্বল দেশে আনা হবে। আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে ৯টি ফ্লাইটে রাশিয়া থেকে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে ইউরেনিয়ামের এসব চালান দেশে আসবে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন (রসাটম) জানিয়েছে, ডিসেম্বরের মধ্যেই পুরো জ্বালানি সরবরাহ সম্পন্ন হবে।

এর আগে ২০২৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পৌঁছে প্রথম ইউনিটের জ্বালানি। ওই বছরের অক্টোবর ও নভেম্বর আরও ৪টি চালানে রূপপুর পৌঁছেছিল প্রথম ইউনিটের জ্বালানি। চলতি বছরের মে মাসে সেই জ্বালানি পারমাণবিক চুল্লিতে বসানো হয়েছে।

তবে প্রায় দেড় বছর পর ওই ইউনিটের ব্যবহৃত জ্বালানির এক-চতুর্থাংশ পরিবর্তন করতে হবে। এ কারণে প্রয়োজনীয় জ্বালানি আগাম আনা হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম তিন বছর রাশিয়া জ্বালানি সরবরাহ করবে। এরপর নির্ধারিত সময় পরপর জ্বালানি পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশকে তা আমদানি করতে হবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হলেও বিভিন্ন জটিলতায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময়সূচি পিছিয়েছে। চলতি মাসে উৎপাদনে যাওয়ার কথা থাকলেও স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন (সেফটি) ভালভে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। জানা গেছে, প্রথম দুই পরীক্ষা সফল হয়েছে। তবে তৃতীয়টিতে কাঙ্ক্ষিত ফল মেলেনি। ফলে তৃতীয় ভালভটি পুনরায় পরীক্ষার প্রস্তুতি চলছে।
তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করতে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। এসব পরীক্ষা সফল হলে প্রথম ইউনিটে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। একই সঙ্গে দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণ ও কমিশনিং কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে।


 

Link copied!