প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ

রায় কার্যকর চাইল আবরারের পরিবার, জানাল আরও নানা দাবি


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: অক্টোবর ৮, ২০২৬, ১১:১৪ পিএম
রায় কার্যকর চাইল আবরারের পরিবার, জানাল আরও নানা দাবি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করলেন আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যরা। তার হত্যাকাণ্ডের বিচার নিষ্পত্তি করে রায় কার্যকরের আহ্বান জানালেন তারা, অনুরোধ করলেন পালিয়ে যাওয়া আসামিকে গ্রেপ্তারের। আবরারের নামে একটি সেতু নির্মাণের দাবিও তুলে ধরেন তারা। আবরারের মা আকুতি জানালেন, আর কোনো শিক্ষার্থীর যেন এমন পরিণতি না হয়।

আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যান আবরার ফাহাদের বাবা মো. বরকত উল্লাহ, মা রোকেয়া খাতুন, ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ, এক মামা ও এক চাচা।

তারেক রহমান এই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব সুজন মাহমুদ।

সাত বছর আগে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) হলে পিটিয়ে হত্যা করা হয় এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে স্বাক্ষরিত কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতার সমালোচনা করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন আবরার। তার জেরে ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ) একদল নেতা-কর্মী তাকে পিটিয়েছিল।

উপপ্রেস সচিব সুজন মাহমুদ জানান, সাক্ষাৎকালে আবরার ফাহাদের বাবা তার ছেলে হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে রায় কার্যকরের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। আদালত স্বাধীনভাবে বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন। এ ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে পরিবারকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

আবরার হত্যাকাণ্ডের পর বরকত উল্লাহ চকবাজার থানায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। তদন্ত শেষে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ২৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় আদালতে।

২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ মামলার রায়ে ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

২০২৫ সালের ১৬ মার্চ হাইকোর্ট ওই রায় বহাল রাখেন। বর্তমানে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারাধীন।

আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ তার ছেলের হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।

তিনি জানান, একজন আসামি কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়ার প্রায় ছয় মাস পর বিষয়টি পরিবারকে জানানো হয়েছিল।

কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং এখনো গ্রেপ্তার না হওয়া আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান আবরারের বাবা।

আবরারের বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গ্রামে। কুষ্টিয়ায় গড়াই নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবিও প্রধানমন্ত্রীকে জানায় আবরারের পরিবারের সদস্যরা।

ওই এলাকার প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষকে সাঁকো দিয়ে নদী পার হতে হচ্ছে। একথা শুনে প্রধানমন্ত্রী সেতুটি নির্মাণের আশ্বাস দেন এবং সেতুর নাম আবরার ফাহাদের নামে করার প্রতিশ্রুতি দেন।

আবরার ফাহাদের কবর পাকা করা এবং পাশের মসজিদটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন বরকত উল্লাহ। মসজিদটির নির্মাণকাজ অবিলম্বে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ এখন বুয়েটে পড়ছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে বুয়েট ক্যাম্পাসে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান। একই সঙ্গে বুয়েটে আবরার ফাহাদের নামে একটি নতুন হল নির্মাণের দাবি জানান তিনি। তা শুনে প্রধানমন্ত্রী তখনই শিক্ষাসচিবের সঙ্গে কথা বলেন।

নতুন প্রজন্মকে আবরার ফাহাদের বিষয়ে জানাতে পাঠ্যবইয়ে তার ঘটনা অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও জানান তার ভাই।

আবরার ফাইয়াজ প্রধানমন্ত্রীকে আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনে নিহতদের তালিকা সরকারের পক্ষ থেকে তৈরি করা হয়েছে। এর আগে আবরার ফাহাদের মতো যারা বিভিন্ন সময়ে নিহত হয়েছেন, তাদেরও একটি তালিকা করার দাবি জানান তিনি।

 এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ-সংক্রান্ত একটি প্রকল্প মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন এবং এ নিয়ে কাজ চলছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবরারের মতো আর কোনো প্রাণ যেন না ঝরে, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আবরারের মা রোকেয়া খাতুন।

তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক ক্যাম্পাসের ছেলেমেয়েই আমার মতো কোনো না কোনো মায়ের সন্তান। আমি চাই, কোনো ক্যাম্পাসেই যেন আর আগের মতো পরিবেশ ফিরে না আসে। আমার মতো কোনো মায়ের বুক যেন এভাবে খালি না হয়।’

সাক্ষাতের সময় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরও উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় বিভাগের আরো খবর

Link copied!