রিয়াদ বিমানবন্দরে ধোঁয়া


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: অক্টোবর ৮, ২০২৬, ১১:১৭ পিএম
রিয়াদ বিমানবন্দরে ধোঁয়া

রিয়াদ বিমানবন্দরে বৃহস্পতিবার একটি দাঁড়িয়ে থাকা উড়োজাহাজ থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন একজন প্রত্যক্ষদর্শী ও এ বিষয়ে অবহিত তিন ব্যক্তি। তবে ঘটনাটি নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। রিয়াদ বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা জানিয়েছে হুতিরা। অন্যদিকে, সৌদিকে সহায়তা করলেও তুরস্ক আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছে ইস্তাম্বুল।

ওই তিন ব্যক্তি জানান, ঘটনার সময় উড়োজাহাজটি খালি ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সৌদি আরব বুধবার রাতে জানিয়েছিল, রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আবহা বিমানবন্দরে আরেকটি হামলায় নিহত হয়েছেন আরও দুজন।

ইরানের মিত্র ইয়েমেনের হুতিরা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে প্রাণঘাতী হামলা আরও জোরদার করেছে। বৃহস্পতিবার সেখানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, ব্যাহত হয়েছে ফ্লাইট চলাচল। এ ছাড়া কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করতে বলা হয়েছে।

হুতিরা জানিয়েছে, তারা রিয়াদ বিমানবন্দর লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। পাশাপাশি সৌদি আকাশসীমা বন্ধ করে দিতে বাধ্য করার হুমকিও তারা পুনর্ব্যক্ত করেছে। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনীকে সৌদি আরব সমর্থন দেওয়ার পর নতুন করে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এ হুমকি দেওয়া হয়।

দক্ষিণ-পশ্চিম ইয়েমেনে, লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশপথের কাছে হুতিদের দখল করা এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে সৌদি আরব। এ প্রচেষ্টায় মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে সহায়তা চেয়েছে দেশটি।  


এদিকে ইরানের মিত্র ইয়েমেনের হুতিযোদ্ধাদের হামলা থেকে সৌদি আরবকে কীভাবে প্রতিরক্ষা সহায়তা দেওয়া যায়, তা মূল্যায়ন করছে তুরস্ক। পাকিস্তানের সঙ্গে করা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় এ সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তবে আক্রমণাত্মক অভিযানে তুরস্ক অংশ নেবে না বলেও তিনি জানিয়েছেন।

আগস্টে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সই করে। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এরপর হুতিদের হামলার প্রেক্ষাপটে তিন দেশ রাজনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ে বৈঠক করেছে।

সোমবার তিন দেশ জানায়, তারা সম্মিলিত প্রতিরক্ষার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়া এবং সৌদি আরবে সামরিক বাহিনী ও সামরিক সক্ষমতা ‘দ্রুত মোতায়েন’ নিশ্চিত করতে একমত হয়েছে।
আঙ্কারায় হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিতা অরবানের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ফিদান জোর দিয়ে বলেন, চুক্তিটি আক্রমণাত্মক নয়, বরং প্রতিরক্ষামূলক। সামরিক কর্মকর্তারা সম্ভাব্য সহায়তার বিষয়টি মূল্যায়ন করছেন বলেও জানান তিনি। বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ও কারিগরি সহায়তার বিষয়গুলো বিবেচনা করা হচ্ছে।

ফিদান বলেন, ‘ইয়েমেনের বৈধ সরকারের বাহিনী ইতোমধ্যে স্থলভাগে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে এবং সৌদি আরব তাদের সমর্থন করছে।’

তিনি বলেন, ‘তবে এটি একটি প্রতিরক্ষামূলক চুক্তি। চুক্তির কোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে তার প্রতিরক্ষায় আপনারা পাশে দাঁড়াবেন। এটি কোনো আক্রমণাত্মক চুক্তি নয়। তুরস্ক অন্য কোনো দেশে হামলা চালানোর জন্য সেনা পাঠাবে না।’

দুজন কর্মকর্তা বুধবার রয়টার্সকে জানান, হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের লড়াইয়ে সহায়তা করতে তুরস্ক মূলত প্রতিরক্ষামূলক ও কারিগরি সহায়তা পাঠাচ্ছে।

তুরস্কের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ পর্যায়ে দেওয়া যেকোনো সহায়তা মূলত দ্বিপক্ষীয় ভিত্তিতে হবে। কারণ তুরস্কের পার্লামেন্ট এখনো যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করেনি।

ফিদান বৃহস্পতিবার বলেন, চুক্তিটি পার্লামেন্টের অনুমোদনের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতির কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। তারা এটি ‘যত দ্রুত সম্ভব’ পার্লামেন্টে পাঠাতে চান।

Link copied!