দেশে মাদকের বিরুদ্ধে জোরালো সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বঙ্গভবনে ঠাকুরগাঁও জেলার তরুণ শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের সংগঠন ‘আহবান’ এর একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করতে গেলে এ আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
এ সময় রাষ্ট্রপতি বলেছেন, মাদকের ভয়াবহতা থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করা না গেলে জাতির কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়। মাদকের কারণে বহু তরুণের সম্ভাবনাময় জীবন নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’
তিনি বলেন, একটি জনপদকে সমৃদ্ধ করতে হলে সে অঞ্চলের মানুষকে জাগিয়ে তুলতে হবে এবং শিক্ষা, সংস্কৃতি, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটাতে হবে। সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তন ও মানুষের কল্যাণে দেশের সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
রাষ্ট্রপতি এ সময় ‘আহবান’-এর উদ্যোগে আয়োজিত ঠাকুরগাঁও স্কুলভিত্তিক সায়েন্স ফেস্ট, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে ফুটবল টুর্নামেন্ট, মেডিকেল ক্যাম্প, শীতবস্ত্র বিতরণ, জেন-জি কার্নিভালসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন।
ঠাকুরগাঁও জেলার সার্বিক উন্নয়নে তরুণদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, ‘জেলার অর্থনীতি ও কৃষির উন্নয়ন, দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কল্যাণ, মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের সহায়তা, মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা নিরসন এবং জনগণের সরকারি সেবাপ্রাপ্তি সহজতর করতে তরুণ ও পেশাজীবীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন।’
সাক্ষাৎকালে ‘আহবান’-এর সদস্যরা রাষ্ট্রপতিকে তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ঠাকুরগাঁও জেলার উন্নয়ন ও জনকল্যাণে তার ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
তারা একটি সুন্দর, মানবিক, আলোকিত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা সংগঠনের কার্যক্রমে রাষ্ট্রপতির দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি তাদের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন ও সকল সদস্যের সার্বিক মঙ্গল কামনা করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন— ‘আহবান’-এর আহ্বায়ক লুকমান শারীফ এবং সদস্যসচিব ডা. তাহমিদ আহমেদ, রাষ্ট্রপতির সচিবগণ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
পরে বঙ্গভবনে ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতাল ট্রাস্টের সমন্বয়ক অধ্যাপক মাহমুদর রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতাল ট্রাস্ট দীর্ঘদিন ধরে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের চিকিৎসা সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
তিনি নিজেও অনেক দরিদ্র রোগীকে ওই হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠিয়েছেন এবং প্রতিষ্ঠানটি তাদের চিকিৎসাসেবায় সহযোগিতা করেছে। এ জন্য ট্রাস্টের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি।
প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে সহযোগিতা কামনা করা হলে রাষ্ট্রপতি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
আগামী ৩০ নভেম্বর রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিতব্য একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানানো হলে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সম্মতি জ্ঞাপন করেন তিনি।
সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব ও জনবিভাগের সচিব এবং ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতাল ট্রাস্টের প্রকল্প ও গবেষণা পরিচালক গোলাম মোস্তফা, পরিচালক ওমর শরীফ ইবনে হাসান ও জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক ওয়াকার হোসেন তপন উপস্থিত ছিলেন।
















