গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ ফুরোচ্ছে এ বছরই; এরপর কী হবে? পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলছেন, ভারত আন্তরিকভাবে এগিয়ে এলেই এক্ষেত্রে ইতিবাচক সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব।
আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) আয়োজিত সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এ কথা বলেন তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেছেন, দুদেশের মধ্যে আন্তরিকতা থাকলে এবং নেতৃত্ব পর্যায়ে সহযোগিতার মানসিকতা তৈরি হলে পানি বণ্টনসহ অভিন্ন নদীগুলোর সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।
‘অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। এটা অব্যাহত থাকবে,’ যোগ করেন তিনি।
অভিন্ন নদী গঙ্গার পানি বণ্টনে ভারতের সঙ্গে ৩০ বছর মেয়াদি চুক্তি হয়েছিল ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর। চুক্তি হলেও বাংলাদেশ পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
চলতি বছরের ডিসেম্বরে চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তাই এটি নবায়নের আলোচনা চলছে। তবে গত দুই বছর ধরে বাংলাদেশ-ভারত শীতল সম্পর্ক এক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলেও মনে করা হচ্ছে।
তবে সম্প্রতি ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, দুদেশের সরকারপ্রধান একসঙ্গে বসলেই বিদ্যমান সব সংকট কেটে যাবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরও সমস্যা সমাধানে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
তিনি বলেছেন, এক্ষেত্রে দুদেশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, নেতৃত্ব পর্যায়ের আলোচকদের মধ্যে আন্তরিকতা থাকা জরুরি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ একটি কমিটি গঠন করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ভারত সরকারও বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছে। ভারতের নেতৃত্ব সহযোগিতার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসলে সমস্যাগুলোর ইতিবাচক সমাধান সম্ভব হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, আলোচনা, সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমেই এসব সমস্যার সমাধান করতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইনের বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখতে হবে।
সেমিনারে বক্তব্যে হুমায়ুন কবির দেশের মানুষের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেছেন, মানুষের আত্মত্যাগকে স্মরণে রাখা রাজনৈতিক শ্রেণির বড় দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ও দল সেই আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেছেন, প্রচলিত ধারায় কাজ না করে দেশের ভবিষ্যৎ সংকট ও চ্যালেঞ্জগুলো গুণগতভাবে মোকাবিলা করতে চায় সরকার।
















