বিরোধীদের সমাবেশের উত্তাপ দিল্লিতে


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: নভেম্বর ১, ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম
বিরোধীদের সমাবেশের উত্তাপ দিল্লিতে

ভারতের বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রতিবাদে দিল্লিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করছে বিরোধী দলগুলো। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রোববার এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানীর রামলীলা ময়দান এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ।

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে প্রায় দেড় কিলোমিটার পথ মিছিল করে রামলীলা ময়দানে যাওয়ার কথা বিরোধীদের। এতে কয়েক লাখ মানুষের অংশ নেওয়ার আশা করছে তারা। সমাবেশের আগে এলাকায় দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত যান ও লাঠি-ঢাল হাতে নিরাপত্তাকর্মীদের মোতায়েন করা হয়েছে। দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ জানিয়েছে, বড় জমায়েতের কারণে প্রয়োজন অনুযায়ী যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ ও পথ পরিবর্তন করা হবে।

দিল্লির মধ্য ও নতুন দিল্লি এলাকায় প্রায় ১০ হাজার পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে রামলীলা ময়দান ও আশপাশের এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন চার হাজারের বেশি সদস্য। মিছিলের পথসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বসানো হয়েছে ব্যারিকেড। নিরাপত্তার জন্য ২০০ থেকে ২৫০টি সিসিটিভি ক্যামেরাও ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রোহিত রাজবীর।

বেলা ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মধ্য দিল্লির বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও পথ পরিবর্তন করা হচ্ছে। যাত্রীদের আগেই যাতায়াতের পরিকল্পনা করার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।

কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল গত মাসে ১ নভেম্বরের এই সমাবেশের ঘোষণা দেন। ‘চলো দিল্লি, ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানে আয়োজিত এ কর্মসূচিকে তিনি নির্বাচনী কারচুপি বন্ধের আন্দোলন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বেণুগোপালের অভিযোগ, বিভিন্ন রাজ্যে ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। রাহুল গান্ধী নির্ভয়ে এসব প্রশ্ন তুলে ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহির আওতায় আনার চেষ্টা করছেন।

গত মাস থেকে ভারতের বিভিন্ন স্থানে প্রায় প্রতিদিনই বিক্ষোভ হচ্ছে। বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি শিক্ষার্থী সংগঠন ও তরুণদের সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ এসব কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে। তাদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি—বিজেপিকে সুবিধা দিতে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছেন তারা।

গত বছর শুরু হওয়া এই সংশোধন প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটির বেশি নাম বাদ পড়েছে। এর মধ্যে ২ কোটি ৮০ লাখ মৃত, ৬ কোটি ৩০ লাখ অন্যত্র চলে গেছেন এবং ৩ কোটি ভোটারের খোঁজ পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় মুসলিমসহ সংখ্যালঘু ভোটারদের নাম বেশি বাদ পড়েছে। এসব ভোটার সাধারণত বিজেপিকে সমর্থন করেন না।

তবে নির্বাচন কমিশন কোনো দলকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কমিশনের বক্তব্য, ভুল করে কারও নাম বাদ পড়লে তিনি আবার ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হতে পারবেন। বিজেপিও বিরোধীদের অভিযোগ নাকচ করেছে। দলটির দাবি, বৈধ নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধীরা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে।

গত সেপ্টেম্বরে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোটার তালিকা সংশোধন, নিবন্ধন পদ্ধতি ও ডিজিটাল ব্যবস্থা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্য অভ্যন্তরীণভাবে আপত্তি তুলেছিলেন। এরপরই কমিশনপ্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ জোরালো হয়।

এদিকে ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী দাঙ্গায় নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে পশ্চিম দিল্লিতে আলাদা মিছিলের আয়োজন করেছে বিজেপি। কংগ্রেসের সমাবেশের দিনটিকে দাঙ্গার বার্ষিকী উল্লেখ করে দলটির সমালোচনা করেছে বিজেপি।

সকাল সাড়ে ১১টায় হরি নগর বাস ডিপো থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে তিলক নগর মেট্রো স্টেশনে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা। এতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা এবং বিজেপির কয়েকজন নেতা ও সংসদ সদস্যের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। দাঙ্গায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি ও নিহতদের পরিবারের সদস্যরাও মিছিলে যোগ দেবেন।

অন্যদিকে, দিল্লির ব্যবসায়ীরা বিরোধীদের সমাবেশের কারণে যান চলাচলে বিঘ্ন ও ক্রেতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন। দীপাবলির আগে উৎসবের কেনাকাটার সময়ে সড়ক বন্ধ ও যানজট ব্যবসায় ক্ষতি করতে পারে বলে তাদের উদ্বেগ।

অটোমোটিভ পার্টস মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিনয় নারাং বলেছেন, ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভের অধিকারকে সমর্থন করেন। তবে সমাবেশের স্থান ও সময় নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নই, গণতান্ত্রিক বিক্ষোভেরও বিরোধী নই। তবে এর সময় ও স্থান সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত।’

সূত্র : রয়টার্স 

Link copied!