জাতির উদ্দেশে ভাষণে তারেক রহমান

এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬, ১০:৫০ পিএম
এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে দেশে এক কোটি তরুণ-তরুণীর বেকার সমস্যা দূর করা হবে। এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির।”

 সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তারেক রহমান এসব কথা বলেন।

বিএনপির চেয়ারম্যান আরও বলেন, সাইবার নিরাপত্তা, আউটসোর্সিং, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে কাজ করবে বিএনপি। বিএনপি শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের জন্য ছয় মাস থেকে এক বছর, কখনো চাকরি না হওয়া পর্যন্ত বেকার ভাতা প্রদান করবে।

পরিবারের নারী প্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করা হবে। প্রথমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের পরিবারগুলোকে প্রদান করা হবে। যেখানে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা বা সমমূল্যের খাদ্যসেবা প্রদান করা হবে।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, নিরাপদ দেশ গঠনের জন্য আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, ন্যায়বিচার, জনগণের সরকার গঠন, দুর্নীতি দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তারুণ্যের প্রথম ভোট হবে ধানের শীষে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদিন ধানের শীষে ভোট দিন।

তারেক রহমান বলেছেন, কোন কিছুর বিনিময়ে শহীদদের মৃত্যু বৃথা যেতে দিতে পারি না। ২০ কোটি মানুষের আশা আকাঙ্খা পূরণ করতে না পারলে মানবিক দেশ গড়া সম্ভব নয়। বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। স্কুল কলেজ মাদ্রাসা ছাত্র-ছাত্রীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানে যোগদানের ব্যবস্থা করা হবে। বর্তমানে তরুণ-তরুণীদের বেকার সমস্যা দূর করা হবে। পরিবারগুলোর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে এটি বৃদ্ধি করা হবে। নারী শিক্ষার উন্নয়নে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত শিক্ষা মওকুফ করা হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে উচ্চশিক্ষায় নারীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নারীদের জন্য পৃথক যানবাহনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নারীদের জন্য নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষকদের জন্য ফার্মার্স কার্ড ব্যবস্থা করা হবে। এতে কৃষকরা সকল তথ্য জানতে পারবে। জনগণকে জনশক্তিতে রূপান্তর করতে একাধিক ভাষাজ্ঞানের জন্য শিক্ষার কারিকুলাম প্রস্তুত করা হবে। জনগণের দৌঁড়গড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে হেলথকেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। নারীদের থেকে স্বাস্থ্যকর্মী সবচেয়ে বেশি নিয়োগ দেওয়া হবে। দেশ থেকে ১৬ কোটি বিলিয়ন ডলার পাচার হয়ে গেছে। জনগণ রাষ্ট্রের মালিক। কিন্তু ফ্যাসিবাদের সময় কিছু মাফিয়াদের কাছে সকল অর্থ চলে যায়। দেশে ২ লক্ষ মসজিদ রয়েছে। এতে ইমাম ও মুয়াজ্জিন রয়েছে। সকল ধর্মগুরুদের জন্য আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হবে।

তারেক রহমান বলেন, প্রশাসন পরিচালনার মূলনীতি হবে সংবিধান। সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণা করা হবে। প্রবাসীদের সকল সমস্যা সমাধান ও বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধ করা হবে। বিদেশগামীদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া হবে। শহীদ জিয়াউর রহমান সংবিধানে আল্লাহ সর্বশক্তিমান শব্দ যুক্ত করলেও তাবেদার সরকার সংবিধান বাদ দিয়েছিল। তবে ১২ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতায় এলে আমরা তা পুনস্থাপন করব। বিএনপি এমন একটি দেশ গড়তে চায় যেখানে সকল ধর্মের লোক নিরাপদে থাকবে। প্রতিটি ব্যক্তি তার নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে। ধর্ম যার যার নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবাইর। ধর্মীয় উগ্রবাদকে কেউ বিশ্বাস করে না।

দেশের পক্ষে থাকায় জিয়াউর রহমানকেও শাহাদাত বরণ করতে হয়েছে। বেগম জিয়াকে ও দেশ প্রেমের কারণে তাকে শেষ বয়সে এসে জেলে যেতে হয়েছে। বেগম জিয়া জনগণের চূড়ান্ত বিজয় দেখে যেতে পারেননি। কিন্তু দেশের সকল মানুষের প্রতি আমার আবেদন ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে ভোট দিবেন।

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, বিদেশে থাকলেও মনপ্রাণ জুড়ে ছিল বাংলাদেশ। গণতান্ত্রিক উত্তরণের ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে উপনীত বাংলাদেশ। দেশের সংবিধানের সপ্তম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রাজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। কিন্তু পতিত পরাজিত বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট চক্র জনগণের কাছ থেকে রাষ্ট্রের মালিকানা কেড়ে নিয়েছিল। কেড়ে নিয়েছিল জনগণের সব গণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক অধিকার। অবশেষে দীর্ঘ আন্দোলন, সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় হাজারো প্রাণের বিনিময়ে জনগণের কাছে রাষ্ট্রের মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার এক মাহেন্দ্রক্ষণ আমাদের সামনে উপস্থিত। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে গণতন্ত্রকামী জনগণের বহুল আকাঙ্ক্ষিত জাতীয় নির্বাচন।

তারেক রহমান বলেন, প্রিয় দেশবাসী, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার শুভ সময়ে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করে আমি আপনাদের সামনে কয়েকটি কথা বলতে চাই। গণতন্ত্রকামী জনগণের সামনে এমন একটি শুভ সময় হঠাৎ করেই আসেনি। এর জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপিসহ গণতন্ত্রের পক্ষের সব দল এবং গণতন্ত্রকামী জনগণকে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় আন্দোলন-সংগ্রাম করতে হয়েছে। ফ্যাসিবাদ-বিরোধী এই ধারাবাহিক আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষকে গুম, খুন, অপহরণ করা হয়েছিল। আয়নাঘর নামের এক বর্বর বন্দিখানা যেন হয়ে উঠেছিল জ্যান্ত মানুষের কবরস্থান। শুধু ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে ১৪ শতাধিক মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩০ হাজার মানুষ। বাংলাদেশের জন্মযুদ্ধ থেকে আজ পর্যন্ত দেশে গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বিভিন্ন সময়ে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের মাগফিরাত কামনা করছি। যারা আহত হয়েছেন তাদের প্রতি জানাই, গভীর সহানুভূতি ও সহমর্মিতা। হতাহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি জানাই গভীর সমবেদনা।

জাতীয় বিভাগের আরো খবর

Link copied!