• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন, ২০২৪, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

ডেঙ্গু রোগীদের জন্য রক্ত সংগ্রহে হিমশিম খাচ্ছে স্বজনরা


জাহিদ রাকিব
প্রকাশিত: আগস্ট ৩১, ২০২৩, ০৯:০৭ পিএম
ডেঙ্গু রোগীদের জন্য রক্ত সংগ্রহে হিমশিম খাচ্ছে স্বজনরা

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ কোনোভাবেই কমছে না। প্রতিদিনই হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর চাপ। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর প্লাটিলেট কমে যাওয়ায় চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন হচ্ছে রক্তের। স্বজনরা রক্ত জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছেন।

রাজধানীর মহাখালী ডিএনসিসি ডেঙ্গু ডেডিকেটেড হাসপাতালে ভর্তি পিরোজপুর জেলার শাহাদাত হোসেন। তার ভাই শাখাওয়াত হোসেন সংবাদ প্রকাশকে বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার দ্রুত প্লাটিলেট কমতে থাকায় গত মঙ্গলবার এই হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন তিনি। পরীক্ষার পর দেখেন প্লাটিলেট কমে ৪৫ হাজার হয়ে গেছে, একপর্যায়ে তা ৮ হাজারে নেমে যায়। ঢাকায় পরিচিত কেউ না থাকায় রক্ত ম্যানেজ করতে বেগ পেতে হয় তাকে। দীর্ঘ চেষ্টার পর এক বন্ধুর মাধ্যমে আজ সকালে দুই ব্যাগ রক্ত ম্যানেজ হয়।

একই হাসপাতালে ভর্তি বাড্ডার বাসিন্দা আবদুল্লাহ সংবাদ প্রকাশকে বলেন, ছয় দিন ধরে জ্বরে আক্রান্ত তিনি। সোমবার চিকিৎসকের কাছে গেলে রক্ত পরীক্ষা করতে দেন। মঙ্গলবার পরীক্ষার পর দেখা যায় প্লাটিলেট কমে ২৩ হাজারে নেমেছে। পরে তার নিকট আত্মীয়র মাধ্যমে তাকে রক্ত দেওয়া হয়।

শিশু ওয়ার্ডের ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি ১৫ বছরে তাবাসসুম। তার মা রাবেয়া বেগম সংবাদ প্রকাশকে বলেন, তার মেয়ে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত। রক্তের প্লাটিলেটে কমে যাওয়ায় ইমার্জেন্সি রক্তের প্রয়োজন। গত দুইদিন আগে প্লাটিলেট দেওয়া হয়েছে। এখন আবার প্লাটিলেট কমে যাচ্ছে। দুইজন ডোনারকে বলে রেখেছেন।

কলেজ ছাত্র মো. নজরুল ইসলাম ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে রোববার যখন ডিএনসিসি হাসপাতালে ভর্তি তিনি। তার মা আনোয়ারা বেগম সংবাদ প্রকাশকে বলেন, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর পরীক্ষার মাধ্যমে জানতে পারেন তার রক্তের প্লাটিলেট ১৮ হাজার। ডাক্তার তাকে দ্রুত রক্ত দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া দেন। আত্মীয় স্বজনের মাধ্যমে চার ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয় তাকে।

ডিএনসিসি হাসপাতালের ডিউটি ডাক্তার ডেঙ্গু আক্রান্তদের প্লাটিলেট কমে যাওয়া নিয়ে সংবাদ প্রকাশকে বলেন, চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্তদের প্লাটিলেট দ্রুত কমে যাচ্ছে। দেখা যাচ্ছে প্লাটিলেট কমে ১০-১৫ হাজারে চলে আসছে, এবার এই হার খুব বেশি। রোগীকে প্লাটিলেট দেওয়ার পরও তা আগের অবস্থায় ফিরতে তুলনামূলকভাবে সময় বেশি লাগছে, ফলে রোগীকেও হাসপাতালে বেশি দিন থাকতে হচ্ছে।

এই চিকিৎসক আরও বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্তদের প্লাটিলেট কমে গেলে রক্তক্ষরণসহ নানা ঝুঁকি তৈরি হয়। বিশেষ করে দাঁতের গোড়ায়, বমির সঙ্গে, পায়খানার সঙ্গে বা শরীরের যে কোনো অঙ্গে রক্তক্ষরণ হয়। পেটে, বুকে পানি জমে যায়। ফলে রোগী মৃত্যুও হতে পারে। মৃত্যু ঝুঁকি এড়াতে প্লাটিলেট এক লাখের নিচে নামলেই রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া উচিত বলে পরামর্শ দেন তিনি।  

সন্ধানী ব্লাড ব্যাংকের প্রোগ্রাম ম্যানেজার সোহান আহমেদ সংবাদ প্রকাশকে বলেন, “ডেঙ্গুর কারণে ঢাকাতে রক্তের প্লাটিলেট অনেক চাহিদা বেড়ে গিয়েছে। আগে রক্তের যে চাহিদা ছিল তা এখন কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। ঢাকার মধ্যে যে হাসপাতালগুলো আছে সবগুলো থেকেই ফোন আসছে। ২৪ ঘণ্টায় ৭০-১০০ জনের ফোন কল আসছে। তার মধ্যই ডেঙ্গু রোগীর জন্য বেশি কল আসে। অনেকে সরাসরি আসছেন। আমাদের সারা দেশে ৩৪টি ডোনার ক্লাব আছে। সবগুলো ক্লাবে ডেঙ্গু শুরু হওয়ার রক্তের সন্ধান চেয়ে মানুষের যোগাযোগ বেড়ে গিয়েছে।”
 

Link copied!