‘ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকতে হবে’


জাহিদ রাকিব
প্রকাশিত: জুলাই ৬, ২০২৩, ০৫:১১ পিএম
‘ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকতে হবে’

রাজধানী ঢাকাতে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী। আক্রান্তের সঙ্গে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। বিগত বছরগুলোতে যেভাবে আক্রান্ত ও মৃত্যু হয়েছে, এবারের মৌসুম সেটাকে হার মানাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মশা নিধন ও জনসচেতনতাই পারে এই পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ করতে।

এদিকে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জন্য হাসপাতালগুলোতে নেওয়া হয়েছে পর্যাপ্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা। সবার চিকিৎসা নিশ্চিতে দেওয়া হয়েছে জাতীয় গাইড লাইন।

ডেঙ্গুর প্রকোপ কীভাবে কমবে ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রস্তুতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের সঙ্গে কথা হয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলমের। পাশাপাশি কথা হয় জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এডিস বাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণের প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. ইকরামূল হকের।

ডেঙ্গু নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কী ধরনের পরিকল্পনা নিয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, “ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জন্য হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে দেওয়া হয়েছে জাতীয় গাইড লাইন। এ নিয়ে সবাইকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকতে হবে। বর্তমান অবস্থায় ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে যেখানে চলে গেছে, সেখান থেকে উদ্ধারের একমাত্র উপায় মশা নিধনের কার্যক্রম গতিশীল করা। পাশাপাশি সবার সচেতনতা সৃষ্টি করা।”

ডেঙ্গু রোগীর লক্ষণের বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, “ডেঙ্গু হওয়ার ৩-৭ দিন পর শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক কমে যাওয়া, তীব্র পেট ব্যথা, ক্রমাগত বমি করা, বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া, ঘন ঘন শ্বাস নেওয়া, শরীরে অবসাদ বোধ করা ও অস্থিরতা বোধ করা ডেঙ্গু রোগীর প্রধান লক্ষণ।”

সচেতনতার বিষয়ে তিনি বলেন, “নিজের বাসা-কর্মস্থলের জানালা সবসময় বন্ধ রাখতে হবে। মশার কামড় থেকে বাঁচতে যতটা সম্ভব শরীর ঢেকে রাখা যায় এমন পোশাক পরিধান করতে হবে। আশ-পাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। কোনোভাবেই পানি জমে রাখা চলবে না।”

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জন্য হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসার কোনো ঘাটতি আছে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে খুরশীদ আলম বলেন, “রাজধানীর প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালকে বলা হয়েছে, আলাদা করে ডেঙ্গু ওয়ার্ড খোলার জন্য। এখন শুধু ঢাকার ৫৩টি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসা নিয়ে আমাদের কোনো ঘাটতি নেই।”

জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এডিস বাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণের প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. ইকরামূল হক বলেন, “চলতি বছর ডেঙ্গুর ধরণ ‘ডেন-২’ -এ লোকজন বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) ২০০ জনের নমুনা বিশ্লেষণে ৬২ শতাংশ রোগীর এই ধরণ শনাক্ত করা হয়েছে। বাকি ৩৮ শতাংশ আক্রান্ত হয়েছেন ‘ডেন-৩’ -এ।”

ইকরামূল হক আরও বলেন, “প্রতি বছর আমরা মশা জরিপ কর্মসূচি পালন করি। কর্মসূচি শেষে আমরা মশক নিধনের সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে মশার হট স্পট জানিয়ে দেওয়া হয়। হট স্পট নির্ধারণে আমরা তিন ক্যাটাগরিতে ভাগ করি। উচ্চ ঝুঁকি, মধ্যম ঝুঁকি ও নিম্ন ঝুঁকি। সেই অনুযায়ী তারা কার্যক্রম পরিচালনা করেন।”

বর্তমান দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে মোট এক হাজার ৯১১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন। সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১০ হাজার ৪৫৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

Link copied!