রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলই বিএনপির প্রার্থী


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: আগস্ট ১৩, ২০২৬, ০২:২৯ পিএম
রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলই বিএনপির প্রার্থী

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এগিয়ে ছিলেন দলের মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অবশেষে তাই ঘটেছে। তাকেই প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে দুপুর পৌনে ১টায় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মনোনীত করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।

বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, দুপুরের পর বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেবেন মির্জা ফখরুল।

সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় ভোট হলে এ দলের প্রার্থীর রাষ্ট্রপতি হওয়া অনেকটাই নিশ্চিত। যদিও জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য অলি আহমদকে তাদের প্রার্থী করেছে।

বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকটে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা, মামলা-হামলা ও কারাবরণ করা এবং নানা চাপের মুখেও দলীয় নেতৃত্বের প্রতি অবিচল থাকা— সব মিলিয়ে রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলই সবচেয়ে নিরাপদ ও গ্রহণযোগ্য পছন্দ। পাশাপাশি বিরোধী রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, সামাজিক সংগঠন ও আন্তর্জাতিক মহলেও তার যে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে, সেটিকেও গুরুত্ব দিয়েছে দলটি।

বিএনপির নেতাদের পর্যবেক্ষণ, রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের ক্ষেত্রে আগের দুটি অভিজ্ঞতা দলটির জন্য সুখকর ছিল না। ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে দলের প্রতিষ্ঠাকালীন মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি করেছিল বিএনপি। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে দলটির সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত সাড়ে সাত মাসের মাথায় রাষ্ট্রপতির পদ থেকে তাকে সরে দাঁড়াতে হয়।

এরপর রাষ্ট্রপতি করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে। বিএনপি সরকারের মেয়াদ শেষে ২০০৬ সালে তিনি রাষ্ট্রপতির পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানের দায়িত্বও নেন। সে সময় তৈরি হওয়া রাজনৈতিক সংকট শক্ত হাতে সামাল দিতে না পারায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে বলে মনে করেন বিএনপির নেতারা।

তাদের মতে, ওই সংকটের ধারাবাহিকতাতেই পথ তৈরি হয়েছিল ওয়ান-ইলেভেনের, যার পর দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকটে পড়ে বিএনপি।

এই অতীত অভিজ্ঞতার কারণে এবার রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে দলটি ছিল অনেক বেশি সতর্ক। বিএনপির নীতিনির্ধারকদের ধারণা, রাষ্ট্রপতি পদটি এখন আর শুধু আনুষ্ঠানিক বা আলংকারিক পদ নয়। বিশেষ করে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে এমন কাউকে এ পদে বসাতে চায় বিএনপি, যিনি দলীয় নেতৃত্বের কাছে আস্থাভাজন হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়েও গ্রহণযোগ্য।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলাকেই সবচেয়ে বড় যোগ্যতা হিসেবে দেখেছে বিএনপির হাইকমান্ড। দলের কঠিন সময়ে এক দশকের বেশি সময় ধরে মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে মামলা, হামলা, গ্রেপ্তার ও নানা রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার ক্ষেত্রে তার ভূমিকার কথা বলেছেন বিএনপির নেতারা।

গত ১৬ বছরে মির্জা ফখরুলের বিরুদ্ধে ১১১টি মামলা হয়েছে। তাকে ১১ বার কারাগারে যেতে হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিন বছর কারাবন্দি ছিলেন তিনি। রাজপথের আন্দোলনে পুলিশের টিয়ার শেল, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের মুখেও দলীয় অবস্থান থেকে সরে যাননি।

বিএনপির নেতাদের মতে, দল ভাঙতে তৎকালীন সরকারের নানা উদ্যোগ ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও মির্জা ফখরুল দলীয় নেতৃত্বের প্রতি আস্থা ধরে রাখেন। বিশেষ করে জিয়া পরিবারের প্রতি তার আনুগত্য ও আস্থাকে দলের হাইকমান্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেছে।

বিএনপির নেতারা মনে করছেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় রাষ্ট্রপতি পদে শুধু দলীয় আনুগত্য যথেষ্ট নয়; জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গ্রহণযোগ্যতাও গুরুত্বপূর্ণ। সে জায়গায় মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা বড় সম্পদ হতে পারে।

আওয়ামী লীগবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনে মাঠের রাজনীতিতে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে তার যোগাযোগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও পররাষ্ট্রনীতির নানা দিক সম্পর্কেও তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। ফলে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি দলীয় ও জাতীয় স্বার্থের মধ্যে সমন্বয় করতে পারবেন বলে আশা করছে বিএনপি।

সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন তৎকালীন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু হয়। তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

তফসিল অনুযায়ী, ভোট হবে ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে। আজ বৃহস্পতিবার নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। এর মধ্যে ১১ দলীয় ঐক্য তাদের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে।

জাতীয় বিভাগের আরো খবর

Link copied!