মানসিক চাপে সাগরে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা মার্কিন নাবিকদের


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: আগস্ট ১৩, ২০২৬, ১২:০৫ এএম
মানসিক চাপে সাগরে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা মার্কিন নাবিকদের

যুদ্ধজাহাজে খাবার সংকট, টয়লেট অচল। লন্ড্রি সপ্তাহের পর সপ্তাহ বন্ধ। কখনো গরম পানি নেই, কখনো খাবারেও টান। এর সঙ্গে টানা যুদ্ধের চাপ, অথচ কবে বাড়ি ফেরা যাবে তারও ঠিক নেই। এমন পরিস্থিতিতে ইরান যুদ্ধের মিশনে থাকা মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন-এর নাবিকদের মানসিক ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে কয়েকজন নাবিক সাগরে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টাও করেছেন।

এসব অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে গত বৃহস্পতিবার। সেদিন যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগোর নেভাল এয়ার স্টেশন নর্থ আইল্যান্ডে মার্কিন নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত প্রধান হাং কাওয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন রণতরিটিতে থাকা নাবিক ও মেরিনদের ২০০-এর বেশি পরিবারের সদস্য। সেখানে তারা দীর্ঘ মোতায়েন, খাবারের সংকট, পানির মান, অচল টয়লেট, ডাক না পৌঁছানো এবং নাবিকদের মানসিক অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে ওই দিন রাতেই নৌবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আরেকটি ভার্চুয়াল বৈঠকে একই উদ্বেগ উঠে আসে।

রণতরিটি গত ২১ নভেম্বর সান ডিয়েগো ছেড়েছিল। সাত মাসের মধ্যে ফেরার কথা থাকলেও মোতায়েন এখন নবম মাসে গড়িয়েছে। মে মাসে মিশন শেষ হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু ইরান যুদ্ধের কারণে তা বাড়ানো হয়। এখনো কবে নাবিকেরা দেশে ফিরবেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তারিখ জানায়নি মার্কিন নৌবাহিনী।

এক পর্যায়ে টানা ২০৮ দিন সমুদ্রে থাকার পর ৭ জুলাই ওমানে অল্প সময়ের জন্য থামে আব্রাহাম লিংকন। চলমান মোতায়েনে এটি আধুনিক যুগে কোনো মার্কিন বিমানবাহী রণতরির টানা সমুদ্রে থাকার রেকর্ড৷

এক নাবিকের স্ত্রী জানিয়েছেন, তার স্বামী সাগরে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন এবং পরে তাকে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে নেওয়া হয়। আরেক পরিবারের সদস্যের ভাষ্য, এক নাবিককে শেষ মুহূর্তে এমন চেষ্টা থেকে থামিয়েছিলেন তার সহকর্মী। তবে ঠিক কতজন নাবিক এ ধরনের চেষ্টা করেছেন, তা প্রকাশ করেনি মার্কিন নৌবাহিনী।

নৌবাহিনীর কর্মকর্তারাও দীর্ঘ মোতায়েনের চাপের কথা স্বীকার করেছেন। ভাইস অ্যাডমিরাল জোসেফ কাহিল পরিবারের সদস্যদের বলেন, এই পরিস্থিতি নাবিক ও তাদের পরিবারের ওপর কী প্রভাব ফেলছে, তা তারা বুঝতে পারছেন। জাহাজে মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শদাতা, ধর্মীয় পরামর্শদাতা ও চিকিৎসা সহায়তা রয়েছে বলেও জানিয়েছে নৌবাহিনী।

জীবনযাপন নিয়েও অভিযোগ কম নয়। কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, জাহাজের একটি অংশে দীর্ঘ সময় টয়লেট অচল ছিল। পরিবারের অভিযোগ, কোথাও গোসলখানায় ছাঁচ বা ফাঙ্গাসের সমস্যা, কোথাও লন্ড্রি বন্ধ, আবার খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীতেও ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

আব্রাহাম লিংকনের চাপ কমাতে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট রণতরি বহরকে তার জায়গায় পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। তবে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বদলির নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।

ইরান যুদ্ধের প্রভাব তাই শুধু ক্ষেপণাস্ত্র আর যুদ্ধবিমানের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই। মাসের পর মাস সমুদ্রে থাকা মার্কিন নাবিকদের দৈনন্দিন জীবন ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও যে যুদ্ধের চাপ জমছে, আব্রাহাম লিংকনের পরিস্থিতি এখন সেই ছবিই সামনে আনছে।

Link copied!