মামলাপূর্ব মধ্যস্ততা কার্যক্রম আশাব্যঞ্জক ফল দিচ্ছে : আইনমন্ত্রী


সংবাদ প্রকাশ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ২১, ২০২৬, ০৯:০৭ পিএম
মামলাপূর্ব মধ্যস্ততা কার্যক্রম আশাব্যঞ্জক ফল দিচ্ছে : আইনমন্ত্রী

প্রি-কেস মেডিয়েশন বা ‘মামলাপূর্ব মধ্যস্ততা কার্যক্রম’ নতুন মামলা দায়েরের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে ‘আশাব্যঞ্জক ফল’ দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘এই কার্যক্রম কার্য করভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দীর্ঘদিনের মামলাজট নিরসনে বড় অগ্রগতি হবে।


গতকাল মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষ থেকে দেশের ১০ জেলায় ‘মামলাপূর্ব মধ্যস্ততা কার্যক্রম’ উদ্বোধনের সময় তিনি একথা বলেন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ে জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন, যা বিচার ব্যবস্থার ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। এ বাস্তবতায় আদালতে মামলা দায়েরের আগেই বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ সৃষ্টি করতে পারলে বিচারপ্রার্থীর সময়, অর্থ ও ভোগান্তি কমবে এবং আদালতের ওপর চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।


উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, পটুয়াখালী, ভোলা, নাটোর, যশোর, শরীয়তপুর, কক্সবাজার, পঞ্চগড় ও টাঙ্গাইলে নতুন করে এই কার্যক্রম চালু হলো। আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) আইন, ২০২৬ -এর ২১খ ধারা অনুসারে এখন থেকে এই জেলাগুলোতে নির্দিষ্ট ৭টি আইনের আওতায় আদালতে মামলা করার আগে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিতে হবে।

একটি পাইলট প্রকল্পের আওতায় ২০টি জেলায় প্রি-কেস মেডিয়েশন চালুর পর বিভিন্ন আইনে মামলা দায়েরের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘গত বছরের ফেব্রুয়ারি-মে মাসের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে গড়ে ৬২.০২ শতাংশ মামলা দায়ের হ্রাস পেয়েছে।


’ আদালতে মামলা দায়েরের প্রবাহ এভাবে কমানো গেলে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা দ্রুত কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করেন আসাদুজ্জামান। একই সঙ্গে প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আদালত, জেলা লিগ্যাল এইড অফিস, আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করলে আগামী এক বছরের মধ্যে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কমিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে।’
এই কার্যক্রমে মধ্যস্থতাকারীদের দায়িত্বকে কেবল চাকরি হিসেবে না দেখে জনসেবামূলক চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করার আহ্বান জানান আইনমন্ত্রী। পাশাপাশি মধ্যস্থতা কার্যক্রমে যেকোনো ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’ বলেও স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন।

বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মনজুর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আইন সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা।


এছাড়া ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন যশোরের জেলা ও দায়রা জজ মাহমুদা খাতুন, কক্সবাজারের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু সালেহ মোহাম্মদ নোমানসহ বিভিন্ন জেলার লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা ও জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা।

জাতীয় বিভাগের আরো খবর

Link copied!