মাদক নিয়ন্ত্রণে ট্রাইব্যুনাল

 আগ্নেয়াস্ত্র ও ডগ স্কোয়াড ব্যবহারের প্রস্তাব সংসদে


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ২৮, ২০২৬, ০১:৪৫ এএম
 আগ্নেয়াস্ত্র ও ডগ স্কোয়াড ব্যবহারের প্রস্তাব সংসদে

মাদক বিষয়ক অপরাধের বিচার দ্রুত করতে পৃথক ট্রাইব্যুনাল এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যদের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ক্ষমতা দেওয়া ও ডগ স্কোয়াড গঠনের বিধান রেখে সংসদে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সংশোধন বিল তোলা হয়েছে।

একই সঙ্গে সংশোধিত আইনে অধিদপ্তরের জন্য পৃথক হাজতখানা রাখা, সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ শাখা, ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ সেল গঠনের প্রস্তাবও করা হয়েছে।

এছাড়া শনিবার (২৭ জুন) সাইবার সুরক্ষা আইন থেকে সাইবার স্পেসে জুয়া খেলার অপরাধ ও দণ্ডের ধারা বিলুপ্ত করার প্রস্তাব রেখে ‘সাইবার সুরক্ষা সংশোধন বিল’ উত্থাপন করা হয়েছে।

এদিন সংসদের বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল, ২০২৬ উত্থাপন করেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সংশোধন বিলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে ‘পোশাক ও আগ্নেয়াস্ত্র সজ্জিত জনবল সংবলিত একটি বিশেষায়িত সংস্থা’ হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অধিদপ্তরের নিজস্ব মনোগ্রাম ও পতাকা রাখার কথাও বলা হয়। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অসাধারণ কৃতিত্ব, বীরত্ব, সততা, দক্ষতা ও সেবার স্বীকৃতিস্বরূপ পদক, সম্মাননা বা পুরস্কার দেওয়ার ক্ষমতাও যুক্ত করা হচ্ছে।

পরে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম উত্থাপন করেন সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) বিল, ২০২৬।

দুটি বিলই পরীক্ষা করে তিন ‘বৈঠক’ দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সংশোধন বিল’ উত্থাপনের পর একজন সংসদ সদস্য আপত্তি তুলতে চাইলে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল তাকে থামান। বলেন, বিধি অনুযায়ী বিল উত্থাপনের বিরোধিতা থাকলে আগে বলা যেত। এখন বিলটি বিবেচনার জন্য গ্রহণের সময় আবার আপত্তি ও বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ থাকবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিলটি এখন পাস হচ্ছে না; কেবল উত্থাপিত হয়েছে। কমিটিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা হবে, সদস্যরা সেখানে মতামত দিতে পারবেন। প্রতিবেদন আসার পর অবিলম্বে বিবেচনার প্রস্তাব উঠলে তখনও আলোচনা করা যাবে।

এরপর সাইবার সুরক্ষা সংশোধন বিল উত্থাপনের আগে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান প্রশ্ন তোলেন।

তিনি বলেন, আগের বিলের ক্ষেত্রে একজন সংসদ সদস্য তার অধিকার ও দায়িত্বের জায়গা থেকেই কথা বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু স্পিকার যে খণ্ডন করেছেন, তা আগে স্পষ্টভাবে বলা হয়নি। এখন কোনো ইমারজেন্সি না। কিন্তু এটা প্রয়োজন জাতির জন্য। সেই বিল আসার আগে পদ্ধতি সবকিছু অনুসরণ করার সমস্যাটা কোথায়?

বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো বিল অবিলম্বে বিবেচনার জন্য তোলা হলে সদস্যরা বলতে পারেন যে, তিন দিন আগে বিল পাননি বা সাত দিন আগে নোটিস পাননি। কিন্তু উত্থাপনের পর্যায়ে বিষয়টি আলাদা। বিলের কপির সঙ্গে তুলনামূলক বিবরণী চাইতে পারেন, তা বৈধ। তবে সেটি এখন দেওয়া হয়নি।

জাতীয় বিভাগের আরো খবর

Link copied!