টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দেশের বিভিন্ন জেলায় নদ-নদীর পানি বেড়ে যাচ্ছে। এর ফলে উত্তরাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে কোথাও সড়ক তলিয়ে যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে, কোথাও দেখা দিয়েছে নদীভাঙন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও স্থানীয় অবকাঠামো। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সিলেটের সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
লালমনিরহাট: উজানের পাহাড়ি ঢল ও থেমে থেমে বৃষ্টিতে জেলার তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। রবিবার দুপুর ১২টা ও বেলা ৩টায় তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার মাত্র ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। ফলে তিস্তার নিম্নাঞ্চলে বন্যা হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কুড়িগ্রাম: তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৮ সেন্টিমিটার নিচ প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার অন্যান্য নদ-নদীর পানিও বাড়ছে। রবিবার সকালে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, আগামী পাঁচ দিন পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। এতে তিস্তা, ধরলা, ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমার নদের অববাহিকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা।
রংপুর: উজানের পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে জেলার গঙ্গাচড়ায় মহীপুর দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর রক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রায় ৮৫০ মিটার দীর্ঘ বাঁধের মধ্যে অন্তত ৬০ মিটার অংশ নদীগর্ভে চলে গেছে। এতে দ্বিতীয় তিস্তা সেতু ও রংপুর-লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়ক হুমকির মুখে পড়েছে।
শনিবার তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হওয়ায় ব্যারাজ কর্তৃপক্ষ ৪৪টি কপাট খুলে দেয়। এতে কয়েকটি গ্রামের প্রায় ১ হাজার ৪০০ পরিবার ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ: উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিপাতে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। শনিবার দুপুরে পানির তীব্র স্রোতে সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের বাহুকা গ্রামে নদীর তীর রক্ষা বাঁধের ৩০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। হুমকির মুখে রয়েছে ফসলি জমি ও বসতভিটা। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ভর্তি বালুর বস্তা ফেলছে।
সুনামগঞ্জ: কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীর পানি উপচে আনোয়ারপুর সড়ক ডুবে যাওয়ায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, আগামী তিন দিন ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সিলেট: দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন। রবিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রবিন মিয়া স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
তবে উজানে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় জেলার কয়েকটি নদীর পানি বাড়ছে। বিশেষ করে সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। এ কারণে বন্যার শঙ্কা প্রকাশ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
রবিাবর সকাল ৯টা পর্যন্ত পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, জেলার কোনো নদীর পানি এখনো বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। তবে সুরমা, কুশিয়ারা, গোয়াইন ও পিয়াইন নদীর কয়েকটি পয়েন্টে পানি বাড়ছে। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্ট। সেখানে বিপৎসীমা ১২ দশমিক ৭৫ মিটার হলেও সকাল ৯টায় পানির সমতল ছিল ১২ দশমিক ১৪ মিটার অর্থাৎ পানি বিপৎসীমার মাত্র ৬১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

































