এনসিপির সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদের বক্তব্য ঘিরে সংসদে বিতর্ক


সংবাদ প্রকাশ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ২১, ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম
এনসিপির সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদের বক্তব্য ঘিরে সংসদে বিতর্ক

প্রধানমন্ত্রী অসত্য তথ্য দিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন—এনসিপির সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদের এমন বক্তব্য ঘিরে জাতীয় সংসদে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে বিতর্ক হয়েছে।

আজ রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনার এক পর্যায়ে এই অনির্ধারিত বিতর্ক হয়।


বাজেট আলোচনায় নিজের বক্তব্যের শেষ দিকে হান্নান মাসউদ বলেন, ‘আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আজকে এখানে নেই। উনি যখন বিভিন্ন ভাষণে গিয়ে অসত্য তথ্য দিয়ে বলেন, বিরোধী দল মিছিল করতেছে মদের দাম কেন বৃদ্ধি করা হয়েছে, কেন সিগারেটের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে, এ রকম অসত্য তথ্য দিয়ে যখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেন আমরা খুবই আশাহত হই।’

এ সময় সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা হইচই করে তাঁর এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান।

হান্নান মাসউদ দাবি করেন, তাঁরা যখন সংসদে ঋণখেলাপি, ইসলামী ব্যাংক দখল নিয়ে কথা বলতে চান তখন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা সবাই জমিদার যারা ঋণ নেন নাই’। তিনি বলেন, এর মধ্য দিয়ে মূলত প্রধানমন্ত্রী ঋণখেলাপিদের উৎসাহিত করেন।

সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা সংসদে হইচই করে এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান।


হান্নান মাসউদের বক্তব্যের পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিন ফারুক। তিনি এনসিপির সদস্যের বক্তব্য এক্সপাঞ্জ (বাদ দেওয়া) করার দাবি জানিয়ে বলেন, সংসদে কোনো অসত্য বাক্য উত্থাপন করা বা সংসদ নেতাকে কটূক্তি করা হোক তা তাঁরা চান না।


এরপর বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম ফ্লোর নেন। জয়নাল আবদিন ফারুকের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘উনি (ফারুক) কিন্তু ঢালাওভাবে বলে গেলেন যে বক্তব্যে অসত্য কথা বলা হয়েছে। উনাকে তো ফ্যাকচুয়ালি বলতে হবে, কোন ইনফরমেশনটা এখানে ভুল ছিল।’


নাহিদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীও ভুল করতে পারেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করার অধিকারও বিরোধী দলের আছে।

প্রধানমন্ত্রীকে তাঁরা সম্মান করেন উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘কিন্তু তার মানে এই না যে, তাঁকে নিয়ে কোনো কথাই বলা যাবে না। তাঁর কোনো বক্তব্যের সমালোচনা করা যাবে না। আমরা তো গণতন্ত্রের দিকে যেতে চাচ্ছি। আমরা কোনো ফ্যাসিবাদের দিকে আবার যেতে চাচ্ছি না।’


নাহিদের বক্তব্যের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিরোধী দলের চিফ হুইপ যা বলেছেন সেটা সঠিক নয়। বিরোধী দলের সদস্য (হান্নান মাসউদ) সুনির্দিষ্টভাবে বলেছেন যে সংসদ নেতা, প্রধানমন্ত্রী অসত্য বক্তব্য দিয়েছেন।

এ সময় বিরোধী দল হইচই শুরু করলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের বলতে দিন। আপনারা ফ্যাসিস্টের কথা বলেন, ফ্যাসিস্ট আচরণ তো আপনাদের কাছ থেকে আসছে। আমাদেরকে অবশ্যই বলতে দিতে হবে। আপনারা যখন কথা বলেছেন আমরা কেউ কথা বলিনি।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও হান্নান মাসউদের বক্তব্যে যে অংশটুকু অসত্য আছে, তা এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানান।


মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের পর হান্নান মাসউদ কিছু বলতে চাইলেও ডেপুটি স্পিকার তাঁকে ফ্লোর দেননি। তারপরও তিনি মাইক ছাড়া কথা বলতে থাকলে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, ‘এইভাবে সংসদে যখন খুশি তখন দাঁড়াবেন, ইজ নট নরমস, প্লিজ টেক ইউর সিট, মিস্টার হান্নান মাসুদ।’


ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘হান্নান মাসুদ, দয়া করে বসুন। এটা শাহবাগ চত্বর নয়। জাতীয় সংসদ।’


এ পর্যায়ে বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান ফ্লোর নেন। তিনি ডেপুটি স্পিকারকে অনুরোধ করেন যেন সংসদে বাইরের কোনো বিষয়কে টেনে এনে এক্সপাঞ্জ করা বা বক্তব্য দেওয়া কোনোটারই অনুমতি দেওয়া না হয়।

বিষয়টিকে গুরুত্ব না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘বাইরের জবাব বাইরে দিব, সংসদের জবাব সংসদে হোক। তবে এটা সত্য, এটা অসত্য, এই ঝগড়ায় যদি আমরা যাই, তাইলে অনেক কিছু আমাদের জন্য হয়তোবা লজ্জাজনক হয়ে যাবে।’

পরে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, সব কিছু বিচার বিশ্লেষণ করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Link copied!