চাকরি খোয়ালেন সেই সাকলায়েন


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ১৮, ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম
চাকরি খোয়ালেন সেই সাকলায়েন

চিত্রনায়িকা পরীমনির সঙ্গে ‘অনৈতিক সম্পর্কে’ জড়িয়ে শেষমেশ চাকরি হারালেন পুলিশের অতিরিক্ত এসপি গোলাম সাকলায়েন শিথিল।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) তাকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘অসদাচরণের প্রমাণিত অভিযোগের’ গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে সরকারি কর্মচারী বিধিমালা মোতাবেক তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর ‘গুরুদণ্ড’ দেওয়া হলো।

২০২১ সালের ১৪ জুন ঢাকা বোট ক্লাবে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের বিরুদ্ধে মামলা করেন পরীমনি।

সেই মামলা তদন্তের দায়িত্ব পায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। তখন ঢাকা ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার এডিসি ছিলেন সাকলায়েন।

এই ঘটনার মাস দুয়েক পর ৪ অগাস্ট পরীমনির বনানীর বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব। সেদিন এই চিত্রনায়িকা ও তার সহযোগী আশরাফুল ইসলাম দীপুকে আটক করা হয়।

সেই রাতেই বনানী থেকে আটক করা হয় চলচ্চিত্র প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজ ও তার ব্যবস্থাপক সবুজ আলীকে।

পরদিন তাদের বনানী থানায় হস্তান্তর করে তাদের বিরুদ্ধে মাদক আইন ও পর্নগ্রাফি আইনে একাধিক মামলা করা হয়।

সেসময় পরীমনির বাসায় অভিযান নিয়ে তুমুল আলোচনার মধ্যে সংবাদমাধ্যমে বলা হয়, ওই অভিযানের তিন দিন আগে তৎকালীন গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তা গোলাম সাকলায়েনের সরকারি বাসায় ‘প্রায় ১৮ ঘণ্টা সময় কাটান’ পরীমনি।

কয়েকটি টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, ১ অগাস্ট সকালে পরীমনি নিজের গাড়ি নিয়ে ওই বাসায় যান এবং গভীর রাতে বেরিয়ে আসেন। গাড়ি থেকে নেমে তাদের দুজনের ওই বাসায় ঢোকা এবং মধ্যরাতে ভিন্ন পোশাকে নিচে নেমে আসার সিসিটিভি ভিডিও দেখানো হয় টেলিভিশনের সংবাদ প্রতিবেদনে।

এরপরই গোলাম সাকলায়েনকে ডিবি থেকে পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট (পিওএম) পশ্চিম বিভাগে বদলি করার কথা জানানো হয়েছিল ঢাকা মহানগর পুলিশের তরফে।

আর পাঁচ বছরের মাথায় এসে তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিল সরকার।

অবসরে পাঠানোর প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গোলাম সাকলায়েন দায়িত্বে থাকা অবস্থায় চিত্রনায়িকা পরীমনির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ান।

“তিনি বিবাহিত ও এক সন্তানের জনক হওয়া সত্ত্বেও পরীমনির সঙ্গে জন্মদিন উদযাপন ও নিজের সরকারি বাসভবনে স্ত্রীর অবর্তমানে সময় কাটানোর মত ঘটনা ঘটান। এসব ঘটনা বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমে আসায় সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুণ্ণ হয়।”

এতে আরো বলা হয়, ২০২৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার ৩ (খ) বিধি মোতাবেক ‘অসদাচরণের’-এর অভিযোগে বিভাগীয় মামলা হয়। এরপর অভিযোগনামা ও অভিযোগের বিবরণী তার কাছে পাঠিয়ে কারণ দর্শাতে বলা হয়।

তিনমাস পর অভিযোগনামার জবাব দেন সাকলায়েন। একই বছরের ২৩ অগাস্ট তার ব্যক্তিগত শুনানি হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সাকলায়েন বর্তমানে পুলিশের ইন সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত। তাকে চাকরি থেকে ‘বাধ্যতামূলক অবসরের’ পাঠানোর ‘গুরুদণ্ড’ বুধবার অনুমোদন করেন রাষ্ট্রপতি।

জাতীয় বিভাগের আরো খবর

Link copied!