পাওনা টাকার জন্যই খুন হন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা


সংবাদ প্রকাশ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: নভেম্বর ১৫, ২০২১, ০২:৪৪ পিএম
পাওনা টাকার জন্যই খুন হন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ গম গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী ও হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। ১২ লাখ টাকা ও বাড়ি আত্মসাৎ করতেই এই হত্যাকাণ্ডের শিকার হন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আনোয়ার শহীদ (৭২)।

সোমবার (১৫ নভেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

এর আগে রোববার (১৪ নভেম্বর) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রাজধানীর গাবতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী মো. জাকির হোসেন (৩৭) ও হত্যাকারী মো. সাইফুল ইসলামকে (২৬) গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-২ ও সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা। তাদের দুইজনের বাড়ি দিনাজপুরে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানায় র‌্যাব।

র‌্যাব জানায়, বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাজধানীর শ্যামলীর হলি লেনে আনোয়ার শহীদকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান সাইফুল। পরে স্থানীয়রা আনোয়ার শহীদকে উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের ছোট বোন ফেরদৌস সুলতানা অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে আদাবর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, গম গবেষণা কেন্দ্রে চাকুরিকালীন আনোয়ার শহীদ ১৯৯০ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত দিনাজপুরে কর্মরত ছিলেন। সেখানেই তার সঙ্গে পরিচয় এবং ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক হয় জাকির হোসেনের। পরে চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর জাকিরের মধ্যস্থতায় পেনশনের টাকা দিয়ে দিনাজপুরে একটি জায়গা কিনে বাড়ি করেন আনোয়ার হোসেন। এছাড়া বিভিন্ন সময় জাকিরকে ১২ লাখ টাকা ধারও দেন আনোয়ার।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন আরো জানান, এক বছর আগে জাকির তার চালের গোডাউন বন্ধক রেখে ব্যাংক থেকে ২০ লাখ টাকা ঋণ পাইয়ে দেওয়ার জন্য আনোয়ারের সহযোগিতা চান। কিন্তু আনোয়ার তাকে সহযোগিতা করতে অপারগতা জানায় এবং পাওনা টাকার জন্য জাকিরকে চাপ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই আনোয়ারকে হত্যার পরিকল্পনা করে জাকির। এমনকি তিন-চার মাস আগে একবার তার চালের চাতালের শ্রমিক সাইফুলকে দিয়ে আনোয়ারকে হত্যার চেষ্টাও করেন। কারণ এই ধারের টাকার কথা কেউ জানত না। আনোয়ারকে হত্যা করতে পারলে ধারের টাকাও দিতে হতো না। আবার তার সম্পত্তিও ভোগ করা যেত।

র‌্যাব জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে জাকির ও সাইফুল জানিয়েছে, আনোয়ার হোসেনকে হত্যার উদ্দেশে তারা গত ১১ নভেম্বর সকালে দিনাজপুর থেকে ঢাকায় আসেন এবং কল্যাণপুরে একটি আবাসিক হোটেলে ওঠেন। সেখানেই আনোয়ারকে হত্যার শেষ পরিকল্পনা করেন তারা। এজন্য হোটেলের পাশের একটি গলি থেকে ১৮০ টাকা দিয়ে একটি ছুরিও কেনেন। পরে ওইদিন সন্ধ্যায় নির্দিষ্ট স্থানে আনোয়ারকে দেখা করতে বলেন জাকির। আনোয়ার এলে তাকে প্রয়োজনীয় কেনাকাটার কথা বলে একটি মার্কেটে নিয়ে যান। কেনাকাটা শেষে শ্যামলীর হলি ফ্যামিলির গলিতে নিয়ে যাওয়া হয় আনোয়ারকে। সেখানে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা সাইফুল আনোয়ারকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। এতে আনোয়ার গুরুতর আহত হন এবং মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পথচারীরা আহত আনোয়ারকে ঘিরে ধরলে সুযোগ বুঝে জাকিরও সেখান থেকে পালিয়ে যান।

র‌্যাব আরো জানায়, এই ঘটনার পর জাকির ও সাইফুল কল্যাণপুর থেকে বাসে করে দিনাজপুর পালিয়ে যান। পরে ঘটনাটি গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হলে তারা দিনাজপুর থেকে অন্য জেলায় পালিয়ে যান।

গ্রেপ্তার জাকির একজন ব্যবসায়ী এবং জমির দালাল। দিনাজপুরে তার একটি চালের চাতাল আছে। সাইফুল একজন মাদকসেবী। সে জমি, বাড়ি ও অর্থের লোভে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

 

Link copied!