কুমিল্লায় মা-ভাতিজিকে কুপিয়ে হত্যা


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬, ১২:২২ পিএম
কুমিল্লায় মা-ভাতিজিকে কুপিয়ে হত্যা

কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলায় নিজ মা ও আট মাস বয়সী ভাতিজিকে কুপিয়ে ও আছড়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে এক যুবক। এ সময় ঘাতককে বাধা দিতে গেলে তার ভাবিকেও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।

আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের বড়শালঘর গ্রামের দক্ষিণপাড়ার মোস্তফা মাস্টারের বাড়িতে এই মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই স্থানীয় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত ঘাতক যুবক ইমনকে (২৪) হাতেনাতে আটক করে একটি ঘরে তালাবদ্ধ করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ইমন ওই বাড়ির মৃত ফরিদ মিয়ার ছেলে। সোমবার সকালে কোনো এক অজ্ঞাত কারণে সে হঠাৎ ক্ষিপ্ত ও উত্তেজিত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে হাতের কাছে থাকা ধারালো দা দিয়ে সে তার নিজ মা পেয়ারা বেগমকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। এরপর তার আট মাস বয়সী অবুঝ ভাতিজিকে নির্দয়ভাবে মাটিতে আছড়ে মেরে ফেলে।

চোখের সামনে এমন নৃশংস দৃশ্য দেখে ইমনের ভাবি রাবেয়া বেগম বাধা দিতে এগিয়ে এলে, তাকেও দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে সে। পরে তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে রক্তাক্ত রাবেয়াকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠায় এবং ঘাতক ইমনকে আটক করে পাশের একটি ঘরে আটকে রাখে।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পুলিশ। দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে অভিযুক্ত ইমন দীর্ঘ দিন ধরে অসুস্থ ছিল। তবে ঠিক কী কারণে বা কোন ক্ষোভ থেকে সে নিজ পরিবারে এমন নারকীয় হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমানও এই জোড়া খুনের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ ও তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত ও আটকের পর বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এই জোড়া খুনের প্রকৃত কারণ পরিষ্কার হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

Link copied!