সারাদিনের ক্লান্তি শেষে ভালো ঘুম দরকার হয়। ঘুমের ব্যাঘাত ঘটলে শরীর ও মন দুটোই বিগড়ে থাকে। প্রতিদিন ৮ ঘণ্টার গভীর ঘুম প্রয়োজন। এতে মেজাজ যেমন ফুরফুরে থাকে। দেহঘড়িও নিয়মমাফিক চলে।
ভালো ঘুমের জন্য় আমরা অনেকেই চা-কফি পর্যন্ত পান করি না। এমনকি ঘড়ি ধরে সময় মতো বিছানায় চলে যাই। তবুও ভালো ঘুম হচ্ছে না? হয়তো আপনার বেডরুমের কারণেই ঘুমের ব্যাঘাত ঘটছে। বেডরুমের সজ্জা মানসিক প্রশান্তি দেয়। যা ঘুমের উপর প্রভাব ফেলে। তাই বেডরুমের পরিবেশ ঘুমের অনুকূলে রাখতে কিছু বিষয়ে এখনই নজর দিন।
অগোছালো
অগোছালো বেডরুম ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাবেই। বেডরুমের জিনিসপত্র অগোছালো থাকে তা মানসিক অস্থিরতা বাড়ায়। বিছানায় শুয়ে পড়লেও বারবার অগোছালো জিনিসেই নজর যায়। তাই প্রতিদিন ঘরের বেডরুম পরিস্কার রাখার অভ্যাস করুন। যে জিনিস যেখানে থাকে, ব্যবহারের পর সেখানেই রাখুন। এতে মানসিক শান্তি মিলবে। ঘুমও ভালো হবে।
দেয়ালের রং
বেডরুম হচ্ছে শান্তির জায়গা। তাই বেডরুমের দেয়ালের রঙটাও প্রশান্তির হতে হয়। এক্ষেত্রে হালকা রং ব্যবহার করুন। অতিরিক্ত চোখ ধাঁধানো বা গাঢ় রঙে মানসিক অস্থিরতা হতে পারে। এছাড়াও দেয়ালে হিজিবিজি ওয়ালপেপার বা সাজানো ডেকোরেশন ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাবে। এগুলো মস্তিষ্ককে উত্তেজিত করে রাখে। তাই যতটা সম্ভব হালকা রং ও হালকা ডেকোরেশনে রুম সাজিয়ে নিন।
আলো প্রবেশ
ফোন বা ল্যাপটপ চালু থাকলে মোটেও ঘুম আসবে না। বেডরুমে আলো নেভানোর পর ফোন বা ল্যাপটপের নীল আলো ঘুম নষ্ট করে দেয়। তাই ঘুমের সময় এগুলো দূরে রাখুন। ঘরের ল্যাম্প শেডের আলো যদি নিচের দিকে প্রতিফলিত হয়, তা পাল্টে নিন। যদি আলো জ্বালিয়ে ঘুমাতেই হয় তবে উপরের দিকে প্রতিফলিত হওয়া আলোর ল্যাম্পশেড ব্যবহার করুন। কোনোভাবেই যেন আলো বিরক্তির কারণ না হয়।
ম্যাট্রেস-বিছানার চাদর
বেডরুমের বিছানার ম্যাট্রেস বা চাদরের কারণেও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। এগুলো পুরোনো বা অপরিস্কার হলে সেখানে ঘুমানো কষ্টকর। ঘুম থেকে ওঠার পরও যদি ক্লান্ত বোধ করেন তবে বুঝে নিবেন তা ম্যাট্রেসের জন্য় হচ্ছে। অপরিস্কার পুরোনো চাদর বা ম্যাট্রেসে ঘুম হয় না। তাই আরামদায়ক বিছানার চাদর ব্যবহার করুন। ম্যাট্রেসও বছরের একবার পাল্টে নিতে পারেন।
শব্দ প্রবেশ
বেডরুমের জানালায় ভালো মানের পর্দা ব্যবহার করুন বা জানালা লাগিয়ে ঘুমাবেন। বাইরের কোনো শব্দ যেন প্রবেশ না করে তা খেয়াল রাখুন। বাইরের শব্দ প্রবেশে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটবে। বেডরুমে কার্পেট ব্যবহার করুন। এটি শব্দ কমাতে সাহায্য করবে।
ডাস্ট অ্যালার্জি
অনেকের ডাস্ট অ্যালার্জি থাকে। বেডরুম নোংরা থাকলে এই সমস্যাও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাবে। যাদের ঘরে ধুলো বেশি হয় তারা বেডকভার, ম্যাট্রেস সবসময় এগুলো পরিষ্কার রাখুন। ঘরের কার্পেটও নিয়মিত পরিস্কার করে নিন।
গরম বেশি হলে
বেডরুমের তাপমাত্রা স্বাভাবিক বা শীতল হলে ভালো ঘুম হয়। তাপমাত্রা বেশি থাকলে গরমে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। তাই চেষ্টা করুন ঘুমের আগেই বেডরুমের তাপমাত্রা কমিয়ে আনার। এক্ষেত্রে ঘরের জানালা খুলে রাখতে পারেন কিংবা এয়ারকুলার বা এয়ারকন্ডিশনার ব্যবহার করতে পারেন। মনে রাখবেন, শীতল অনুভূতিতে ভালো ঘুম হয়। তাই শীতের সময় মানুষের ঘুম বেশী হয়।








































