নেতানিয়াহুর অফিসে হামলার দাবি ইরানের


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: মার্চ ২, ২০২৬, ০৮:০০ পিএম
নেতানিয়াহুর অফিসে হামলার দাবি ইরানের

তেল আবিবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়, হাইফার বিভিন্ন নিরাপত্তা ও সামরিক কেন্দ্র এবং পূর্ব জেরুজালেমে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী আইআরজিসি।

এই প্যারামিলিটারি বাহিনীটে আগে সরাসরি আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অধীনে ছিল। শনিবার যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার শুরুতেই ইরানের এ সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা নিহত হন।

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রে কেঁপে উঠল উপসাগর, কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে দেশগুলো
“জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠীর বদমাশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং ওই শাসকগোষ্ঠীর বিমান বাহিনী কমান্ডারদের সদরদপ্তর লক্ষ্য করে হামরা চালানো হয়েছে,” সোমবার ইরানি বার্তা সংস্থা ফারসে তাদের এই বিবৃতিটি প্রকাশ করে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

ইসরায়েলে এদিনের হামলায় খাইবার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে বলেও বিবৃতিতে জানিয়েছে তারা।

তাদের হামলার দাবির প্রসঙ্গে এখনও ইসরায়েলের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, বলেছে রুশ সংবাদমাধ্যম প্রাভদা।

সোমবার জেরুজালেমের ওপর একাধিক নতুন বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে প্যারিসভিত্তিক একটি বার্তা সংস্থার সাংবাদিক জানিয়েছেন। তার আগে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীও তাদের লক্ষ্য করে ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার কথা জানিয়েছিল।

“কিছুক্ষণ আগে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী ইরান থেকে ইসরায়েলের ভূখণ্ডের দিকে আসা একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করতে পেরেছে। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা সেগুলো প্রতিহতে কাজ করছে,” বিবৃতিতে বলেছিল তারা।

এদিকে ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রধান উরসুলা ফন দার লিয়েন মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ‘সার্বভৌম দেশগুলোতে ইরান ও তারা সহযোগীদের বেপরোয়া ও নির্বিচার’ হামলার কড়া নিন্দা জানিয়েছেন।

সাইপ্রাসে যুক্তরাজ্যের একটি বিমান ঘাঁটি ও সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হামলার পর তিনি এ নিন্দা জানান।

“সংঘাতের বিস্তৃতি রোধে এবং উত্তেজনা প্রশমনে আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ওই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা,” ব্রাসেলসে সাংবাদিকদের উরসুলা এ কথাই বলেছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৫৫ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।

শনিবার থেকেই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন এলাকায় লাগাতার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। খামেনিকে হত্যার মাধ্যমে শুরু হওয়া যুদ্ধ এরই মধ্যে পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে উত্তপ্ত করে তুলেছে, গত কয়েকদিনে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, ইরাকসহ ওই অঞ্চলের প্রায় সব দেশই বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে।

সোমবারও কুয়েতের মার্কিন দূতাবাস থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। দেশটিতে বেশ কয়েকটি মার্কিন ভূপাতিত হওয়ারও খবর পাওয়া গেছে। উপসাগরের এই দেশটির একটি মার্কিন ঘাঁটি ও একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রেও হামলা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতাকে হত্যার জেরে ইরান উপসাগরের দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালিয়ে যাওয়ায় গত দুই দিনে আবু ধাবি, দুবাই, দোহা ও মানামাতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।


 

Link copied!