ফুটপাতের দোকান কিংবা রেস্তোরাঁ থেকে কেনা খাবারের সঙ্গে থাকা সাদা রঙের প্লাস্টিকের বাক্সটির সঙ্গে আশা করি আমরা সবাই পরিচিত। প্লাস্টিকের এইসব স্টোরেজ বক্সে থাকে থেলেট নামক এক ধরনের প্রক্রিয়াজাত রাসায়নিক পদার্থ বা সিনথেটিক কেমিক্যাল।
শুধু খাবারের বাক্স নয় আমাদের বাথরুমে থাকা শ্যাম্পুর বোতল কিংবা মেকআপ বক্স আর পারফিউমের বোতলেও ব্যবহার হয় থেলেট। এমনকি বাচ্চাদের প্লাস্টিকের খেলনাতেও এর অস্তিত্ব পাওয়া যায়।
কিন্তু এই সাধারণ রাসায়নিক পদার্থটি একজন জলজ্যান্ত মানুষের প্রাণহানীর কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে – সেকথা কি ভেবেছেন কখনো? সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের এক গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য।
যুক্তরাষ্ট্রে ৫৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী মানুষদের ওপর পরচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে বছরে ৯১ হাজার থেকে থেকে ১ লাখ ৭ হাজার মানুষের মৃত্যুর পেছনে এই রাসায়নিক পদার্থটির হাত থাকতে পারে। মার্কিন সংবাদমধ্যম সিএনএন-এ প্রকাশিত হয়েছে এই গবেষণাপত্র।
মঙ্গলবার এনভায়রনমেন্টাল পলিউশন নামের একটি বিজ্ঞান সাময়িকীতে এই গবেষণাটি প্রথম প্রকাশ পায়। এতে গবেষকরা দাবি করেন, উচ্চ মাত্রার থেলেট মানবদেহে প্রবেশের কারণে মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে কার্ডিওভাসকুলার বা হৃদযন্ত্রের অসুখ সৃষ্টির মাধ্যমেই মৃত্যু ঘটাচ্ছে প্লাস্টিকের এই উপাদানটি।
সমীক্ষায় দেখা গেছে প্লাস্টিক ব্যবহারে এসব মৃত্যুর কারণে প্রতি বছর চার হাজার কোটি মার্কিন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র।
নিউইয়র্কের এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন হেলথের জনস্বাস্থ্য ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক লিওনার্দো ট্রাসান্দে বলেন, “মানবদেহে প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাবের ভয়াবহতা ফুটিয়ে তুলেছে এই গবেষণা। ফলে জনস্বাস্থ্য ও ব্যবসায়িক দিক বিবেচনায় প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধের দাবিও আরও জোরাল হল।”
এর আগেও বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে থেলেটের উপস্থিতি শরীরে হরমোন উৎপাদনে বাধা দেয়। এছাড়াও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ এনভায়রনমেন্টাল হেলথ সায়েন্সেসের তথ্যমতে, এর প্রভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে এবং দৈহিক বৃদ্ধি, প্রজনন, মস্তিষ্কজনিত অন্যান্য রোগ বেড়ে যায়।































