বাইডেনের শিক্ষাঋণ মওকুফ প্রস্তাব সুপ্রিম কোর্টে খারিজ


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ১, ২০২৩, ০৫:৩০ পিএম
বাইডেনের শিক্ষাঋণ মওকুফ প্রস্তাব সুপ্রিম কোর্টে খারিজ

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের শত শত কোটি ডলারের শিক্ষাঋণ ক্ষমা করে দিতে চেয়েছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তবে তার এই প্রস্তাব আটকে দিয়েছে সেখানকার সুপ্রিম কোর্ট। শিক্ষার্থীপ্রতি ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার ডলারের ঋণ মওকুফ করতে চেয়েছিলেন বাইডেন। তার এই প্রস্তাবের সঙ্গে চার কোটিরও বেশি মার্কিন নাগরিকের জীবন জড়িত।

শনিবার (১ জুলাই) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় চার কোটি ৩০ লাখ মানুষ শিক্ষাঋণের জালে জর্জরিত। যেসব শিক্ষার্থীর আর্থিক অবস্থা দুর্বল তারা শিক্ষাঋণ নেওয়ার সুযোগ পায়। মূলত উচ্চমাধ্যমিকের পরের ধাপের লেখাপড়ার জন্য এই ঋণ নেওয়া হয়।

বাইডেনের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ ছিল শিক্ষাঋণের বোঝা কমানো। গত ১৫ বছরে দেশটিতে শিক্ষাঋণের পরিমাণ প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। ২০০৭ সালে মার্কিন শিক্ষার্থীদের ওপর ঋণের বোঝা ছিল প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার, যা এখন (২০২৩ সালে) বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন (এক লাখ ৬০ হাজার কোটি) ডলারে।  

শুক্রবারের রায়ে সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার বাইডেন প্রশাসনের নেই। বিচারপতি জন রবার্টস লিখিত রায়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব ঋণগ্রহীতাই বাইডেন প্রশাসনের ঋণ মওকুফ কর্মসূচির সুযোগ নেবে।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রাপ্তবয়স্ক প্রতি ছয় জনের মধ্যে একজনেরই মাথায় এই ঋণ রয়েছে।

মার্কিন অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই ঋণগ্রস্তদের মধ্যে ৭ শতাংশের ঋণ এক লাখ ডলারের ওপরে, আর ১৭ শতাংশের ঋণ ১০ হাজার ডলারের নিচে। ঋণের গড় ১৭ হাজার ডলারের মতো।

বাইডেন বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তে মার্কিন নাগরিকরা ‘রাগান্বিত’ হবে। তবে তিনি বিদ্যমান আইনকানুন ব্যবহার করেই বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ঋণের বোঝা কমানোর উদ্যোগ নেবেন।

গত বছর (২০২২ সাল) যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগ ৪৩০ বিলিয়ন ঋণ মওকুফের এক কর্মসূচি হাতে নেয়। ঋণগ্রহণকারী ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী এর দ্বারা উপকৃত হবে বলে মনে করেছিল বাইডেন প্রশাসন। তবে রিপাবলিকান পার্টির নেতৃত্ব রয়েছে এমন কয়েকটি রাজ্যে শিক্ষাঋণ মওকুফের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে মামলা করে। বাইডেন অতি মাত্রায় ক্ষমতা ব্যবহার করছেন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের এধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার নেই বলে অভিযোগ ছিল এই রাজ্য সরকারগুলোর। সুপ্রিমকোর্ট এসব রাজ্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেছে।

আন্তর্জাতিক বিভাগের আরো খবর

Link copied!