সম্প্রতি পাল্টাপাল্টি ব্যাপক বিমান হামলার মধ্যেই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের অর্থনৈতিক অবকাঠামোয় আরও জোরালো হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রাশিয়ার পাল্টা হামলা আরও তীব্র হবে।
দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভেস্তি টিভিকে স্থানীয় সময় শনিবার পুতিন বলেছেন, রাশিয়ার অর্থনৈতিক স্থাপনায় ইউক্রেনের হামলা ‘বিশেষ বাক্স’ খুলে দিয়েছে।
তিনি বলেছেন, ‘কিয়েভের সরকার আমাদের অর্থনীতির ক্ষতি করতে চেয়েছে। কী করেছে তারা? নিজেরাই আমাদের হাতে সুযোগ তুলে দিয়েছে।’
পুতিন হুমকির সুরে বলেছেন, ‘পাল্টা জবাব দিতে বেশি সময় লাগবে না। রাশিয়ার পদক্ষেপ আরও বেশি ক্ষতিকর ও ধ্বংসাত্মক হবে। আমি বহুবার বলেছি, এর জবাব দেওয়া হবে।’
এর আগে, শুক্রবার রাতে রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনে নিহত হয়েছেন অন্তত ৭ জন। অন্যদিকে, ইউক্রেনের পাল্টা অভিযানে রুশ নিয়ন্ত্রিত এলাকায় নিহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন।
শনিবার ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার সামারা অঞ্চলে একটি শিল্প স্থাপনা ও অনলাইন পণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওজনের একটি গুদামে আঘাত হানে। হামলায় শিল্প স্থাপনায় আগুন ধরে যায়। ওজন জানিয়েছে, তাদের সামারা অঞ্চলের একটি পণ্য সরবরাহকেন্দ্রের কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। হামলায় কয়েকজন আহতও হয়েছেন।
রাশিয়ার সামারা অঞ্চলের গভর্নর ভিয়াচেস্লাভ ফেদোরিশচেভ জানিয়েছেন, নোভোকুইবিশেভস্ক শহরে শিল্প স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অনলাইন বিক্রেতা ওজন জানিয়েছে, সামারা অঞ্চলের চাপায়েভস্ক শহরে তাদের পণ্য সরবরাহকেন্দ্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কয়েকজন আহত হন এবং সেখানে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহে রাশিয়ার আরেক বড় অনলাইন বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজের বিভিন্ন স্থাপনায়ও ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলা হয়েছে। ইউক্রেন এসব হামলাকে রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনায় সহায়তা করা অর্থনৈতিক স্থাপনার বিরুদ্ধে বড় অভিযানের অংশ হিসেবে দেখছে।
এদিকে, ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, কিয়েভের কাছাকাছি একটি তেল শোধনাগারে শনিবার হামলা চালানো হয়েছে। সেখানে আগুন ধরে যায়।
রাশিয়ার হামলার পর ইউক্রেনকে আরও সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইউরোপের মিত্র দেশগুলো।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট মাখোঁ বলেছেন, ইউক্রেনে সামরিক সরঞ্জাম ও ক্ষেপণাস্ত্র পাঠানো দ্রুত করা হবে। ফ্রান্সে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনে উৎপাদনের অনুমতি দেওয়ার বিষয়েও দেশটি প্রস্তুত বলে জানান তিনি।
জেলেনস্কির সঙ্গে ফোনালাপের পর ম্যাখোঁ রাশিয়ার হামলায় ‘ভয়াবহতা ও আবেগ’ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, রাশিয়া সন্ত্রাসের মাধ্যমে ইউক্রেনকে দুর্বল করতে চাইছে।
ইউক্রেনকে নতুন ইতালি-ফ্রান্সের তৈরি সাম্প/ টি-এনজি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেওয়ার কথা রয়েছে। এটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম বলে ধারণা করা হয়।
ইউরোপীয় কূটনীতিকদের মতে, আগে এই ব্যবস্থা ২০২৭ সালের বসন্তের আগে ইউক্রেনে পৌঁছানোর কথা ছিল না।
সোমবার অনুষ্ঠেয় ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’ বৈঠকের প্রস্তুতি নিয়েও জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনা করেছেন মাখোঁ।
শনিবার কিয়েভ সফরে গিয়ে রাশিয়ার হামলার তীব্র সমালোচনা করেছেন জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ওয়াডেফুল। তিনি বলেছেন, পুতিন যুদ্ধের তীব্রতা বাড়াচ্ছেন এবং ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষকে আতঙ্কিত করছেন।
তিনি ইউক্রেনের জন্য আরও ৫ কোটি ৮০ লাখ ডলারের মানবিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন। এ অর্থ সামনের সারির এলাকার মানুষের সহায়তায় জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ও বেসরকারি সংগঠনকে দেওয়া হবে।
আসন্ন শীতের প্রস্তুতি নিয়েও জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনা করেছেন ওয়াডেফুল। রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোয় আবারও ব্যাপক হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জার্মানি ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো ও ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে ন্যাটোর একটি তহবিলে আরও প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ডলার দেওয়ার কথা জানিয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা




































