মৃত সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে ৬ দিন ধরে ভেসে বেড়াচ্ছে মা ডলফিন!


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: আগস্ট ৬, ২০২৬, ১১:২৩ পিএম
মৃত সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে ৬ দিন ধরে ভেসে বেড়াচ্ছে মা ডলফিন!

সমুদ্রবিজ্ঞান ও প্রাণীবিদ্যার ভাষায় তিমি ও ডলফিনের এ জাতীয় আচরণকে বলা হয় ‘পোস্টমর্টেম অ্যাটেনটিভ বিহেভিয়ার’। অর্থাৎ পরিবারের প্রিয় কোনো সদস্যের মৃত্যুর পর তাকে পাহারা দেয়া বা সঙ্গে করে বয়ে নিয়ে যাওয়া।
সন্তান হারানোর যন্ত্রণা কেবল মানুষেরই নয়, কখনো কখনো গভীর সমুদ্রেও নেমে আসে শোকের ছায়া। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার লেশেনল্ট মোহনায় ভেসে থাকা এক মা ডলফিনের করুণ দৃশ্য দেখে এখন স্তব্ধ নেট দুনিয়া।
মাত্র দুই সপ্তাহ বয়সে প্রাণ হারানো নিজের সদ্যজাত সন্তানকে ভাসিয়ে রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ‘ফ্র্যাগল’ নামের একটি মা ডলফিন। নিজের জীবনের পরোয়া না করে মৃত সন্তানকে পিঠে করে নিয়ে ভেসে চলার দৃশ্য ছড়িয়ে পড়েছে পুরো নেট দুনিয়ায়।
গবেষণা সংস্থা ‘জিওগ্রাফ মেরিন রিসার্চ’-এর বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ফ্র্যাগলকে দেখতে পান। তারা লক্ষ্য করেন, নিজের মৃত সন্তানকে পানির ওপরে তুলে রাখার বা ভাসিয়ে রাখার ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এই মা ডলফিনটি। সন্তান হারানোর এই শোক উদযাপনে ফ্র্যাগল কিন্তু একদম একা নয়। মোহনায় বসবাসকারী দুটি ডলফিনসহ উপকূলীয় এলাকা থেকে আসা আরো বেশ কয়েকটি ডলফিন তার পাশে এসে যোগ দেয়। নিজেদের সামাজিক বন্ধন এবং মায়ের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করতে অন্য ডলফিনগুলোকে ভিডিওতে ফ্র্যাগলকে চারপাশ থেকে ঘিরে রাখতে দেখা যায়।
বিজ্ঞানীদের মতে, মা ডলফিনের এই পরিণতি হঠাৎ করে হয়নি। শীতের তীব্রতার মধ্যে জন্ম নেয়া এই বাচ্চাটির শ্বাসপ্রশ্বাসের গতি অস্বাভাবিক বেশি দেখে আগে থেকেই উদ্বিগ্ন ছিলেন গবেষকরা। হাজার চেষ্টার পরও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি তাকে।
মর্মান্তিক বিষয় হলো, এটি ফ্র্যাগলের টানা চতুর্থ বাচ্চার মৃত্যু। পর পর চারটি সন্তানকে হারিয়ে মা ডলফিনের এই শোক আর ব্যাকুলতা ছুঁয়ে গেছে সবাইকে।
সমুদ্রবিজ্ঞান ও প্রাণীবিদ্যার ভাষায় তিমি ও ডলফিনের এ জাতীয় আচরণকে বলা হয় ‘পোস্টমর্টেম অ্যাটেনটিভ বিহেভিয়ার’। অর্থাৎ পরিবারের প্রিয় কোনো সদস্যের মৃত্যুর পর তাকে পাহারা দেয়া বা সঙ্গে করে বয়ে নিয়ে যাওয়া।
২০১৮ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে এ ধরনের আচরণের প্রায় ৯২ শতাংশই ঘটায় ডলফিন। অনেক সময় সংজ্ঞা হারানো সন্তানকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে তারা এমনটি করে, আবার অনেক সময় এটি নিছকই গভীর শোকের প্রকাশ।
তবে অনেক সময় এই ভালোবাসার মাশুল মা ডলফিনকে নিজের জীবন দিয়েও দিতে হতে পারে। মৃত সন্তানকে অনবরত পিঠে তুলে রাখা ও বয়ে নিয়ে যাওয়ার কারণে ফ্র্যাগল স্বাভাবিকভাবে খাওয়া-দাওয়া করতে পারছেন না। নিজের বেঁচে থাকার স্বার্থেই একসময় তাকে এই মৃত দেহটি ছেড়ে দিতে হবে।
গবেষকরা জানিয়েছেন, ফ্র্যাগলের শারীরিক অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, হয়তো খুব দ্রুতই তাকে সেই কঠিন ও বেদনাদায়ক সিদ্ধান্তটি নিতে হবে।
—আনাদোলু এজেন্সি থেকে তথ্য নেয়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক বিভাগের আরো খবর

Link copied!