• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৯ জুলাই, ২০২৪, ৪ শ্রাবণ ১৪৩১, ১২ মুহররম ১৪৪৫

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভ, ‘আমাদের দেহ নিষিদ্ধ করুন’


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: মে ১৫, ২০২২, ১১:০৪ এএম
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভ, ‘আমাদের দেহ নিষিদ্ধ করুন’
ছবি : রয়টার্স

গর্ভপাত বিরোধী সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আদালত। আদালতের এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন হাজার হাজার নাগরিক। আন্দোলনকারীদের মূখ্য দাবি একটাই, ‘গর্ভপাত নিষিদ্ধ করা হলে আমাদের দেহ নিষিদ্ধ করুন’।

দেশের বিভিন্ন প্রদেশে গর্ভপাত নিষিদ্ধ সিদ্ধান্তের ক্ষমতা দেওয়া সম্প্রতি একটি খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। এটি আইন আকারে প্রকাশিত হওয়ার আগে দেশজুড়ে আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলনাকারীদের দাবি, এই আইনের মাধ্যমে তাদের ‍‍‘ব্যক্তিগত অধিকার‍‍’ কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।

ফিলাডেলফিয়া থেকে এসে ওয়াশিংটন ডিসিতে আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন ৬২ বছর বয়সী ব্রিটা ভ্যান রোসাম বলেন, “আপনি যদি সন্তান নিতে না চান, সেটা আপনার মৌলিক অধিকার না হলে, সেটা কি তা আমার জানা নেই।”

শনিবার আন্দোলনকারীরা নিউইয়র্ক, আটলান্টা, শিকাগো ও লস অ্যাঞ্জেলসের রাস্তা অবরোধ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ‘আমাদের দেহ নিষিদ্ধ করুন’ দাবিতে চলছে বিক্ষোভ। ক্ষুব্ধ জনতার যুক্তিতে সমর্থন দিচ্ছে রিপাবলিকানরা। যেটিকে উসকানি হিসেবে দেখছে ডেমোক্র্যাট। নভেম্বরে নির্বাচনের আগে এমন আন্দোলন কার জন্য লাভ আর লোকসান, সেই হিসাব কষছে সবাই।

এদিন ওয়াশিংটন ডিসিতে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হয়। দিনের শুরুতে ২০ হাজারের বেশি জড়ো হন। বৃষ্টির মধ্যে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার জন্য তারা জড়ো হন। আদালতের সামনে উপস্থিত হয়ে শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। আন্দোলনকারীরা আদালতের উদ্দেশে বলতে থাকেন, ‘লজ্জা লজ্জা’, ‘আমাদের দেহ নিষিদ্ধ করুন’।

বেশ কয়েক জন নারী বিক্ষোভকারীকে ঘিরে রাখে পুলিশ। তাদের হাতে ছিল কিছু ব্যানার। যেসব ব্যানারে লেখা, ‘গর্ভপাত সহিংসতা বন্ধ করুন, গর্ভে নারীর অধিকার শুরু হয়।’ দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে মাঝেমধ্যে উত্তেজনা বাড়ে।

রয়টার্স বলছে, ১৯৭৩ সালে মার্কিন সরকার গর্ভপাতকে সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিল। নতুন আইন হলে সেই অধিকার লঙ্ঘন করা হবে। গত ২ মে দেশটির আদালত গর্ভপাত বন্ধের পক্ষে প্রথম খসড়া প্রকাশ করে। এরপর থেকে আন্দোলন শুরু হয়, যা ধীরে ধীরে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

আদালতের চূড়ান্ত রায় আসতে পারে জুন মাসে। গর্ভপাতের বিপক্ষে রায় দেওয়া হলে রাজ্য আইনসভাগুলো গর্ভপাত নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা ফিরে পাবে। দেশের ৫০টি রাজ্যের অর্ধের মতো গর্ভপাত নিষিদ্ধ বা কঠোরভাবে সীমাবদ্ধ করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

Link copied!