• ঢাকা
  • সোমবার, ২৪ জুন, ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১, ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

তালেবান সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কেমন হবে?


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২১, ১০:০২ পিএম
তালেবান সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কেমন হবে?

১৫ আগস্ট কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মাধ্যমে আফগানিস্তানের অধিকাংশ এলাকা দখল করে নেয় সশস্ত্র গোষ্ঠী তালেবান। আশরাফ গনি সরকারের পতনের মাধ্যমে ২০ বছর পর আবারও ক্ষমতায় ফিরে বিদ্রোহীরা।

যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানিসহ অনেক দেশ শুরু থেকেই বিরোধিতা করলেও পাকিস্তান, চীন আর রাশিয়ার মত পরাশক্তির সমর্থন পেয়েছে তালেবানরা। কয়েকদিনের মধ্যে সরকার গঠনেরও প্রস্তুতি চলছে। 

তালেবানের সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করবে আফগানিস্তান। তাই অনেক দেশকেই আফগানদের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি আর রাজনীতিতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়।

তাই বাংলাদেশের সঙ্গে নয়া আফগানিস্তানের সম্পর্ক কেমন হতে পারে তা নিয়ে সংবাদপ্রকাশের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে নিজেদের মতামত জানান আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষক ও বিশিষ্ট কূটনীতিকরা। সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহামান বলেন, “আফগানিস্তান এখনও পর্যন্ত একটি হতদরিদ্র দেশ। অর্থনৈতিকভাবে অন্য দেশকে কিছু তাদের দেওয়ার মত ক্ষমতা নেই। বাংলাদেশ থেকে আফগানিস্তানে ওষুধসহ বেশ কিছু শিল্পজাত পণ্য রপ্তানি হয়। তবে সেটিও সীমিত পরিমাণে। আমরা যদি কেবলমাত্র অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে প্রাধান্য দেই সেক্ষেত্রে আফগানিস্তানের কাছে আমাদের পাওয়ার বেশি কিছু নেই।”

এদিকে আফগানিস্তানে তালেবানের উত্থানের কারণে অনেকেই বিভিন্ন দেশে উগ্রবাদী গোষ্ঠীর তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়য়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “রাষ্ট্রের কোন অংশ যখন কথাবার্তা বা আচরণে উগ্রবাদকে উৎসাহ দেয় তখন বাকিরা এ ধরনের রাজনীতি সুযোগ পেয়ে বসে। যেটা আমরা ভারতেও দেখি। বিজেপি আসার পরে এ ধরনের রাজনীতির চর্চা বেড়েছে। একই জিনিস আমরা পাকিস্তানেও দেখেছি। উপর মহলে অনেকেই যখন এ ধরনের কথাবার্তা বলে তখন যারা নিচে আছে তারাও উৎসাহ পেয়ে উগ্রবাদ ছড়ায়।”

তবে তালেবানের প্রভাবে দেশে উগ্রবাদ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা নিয়ে এখনই কোন মন্তব্য করতে রাজি নন ড. ইমতিয়াজ। তিনি বলেন, “আমাদের একটু ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করা দরাকার, আফগানিস্তানের রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেয় তা দেখা দরকার। ২০ বছরে আমাদেরও অনেক শিক্ষা হয়েছে। এই দেশে যারা তালেবানের রাজনীতি চর্চার চিন্তভাবনা করেছিল তারাও বুঝতে পেরেছে বাংলাদেশের জনগণ সেই ধরনের রাজনীতি পছন্দ করে না। তারপরও মনে রাখতে হবে, একসময় কিন্তু বাংলাদেশের জনগণের একটি অংশও উগ্রবাদের সমর্থক ছিল। তাই জনগণ ও নিরাপত্তা বাহিনীকেও তাই সতর্ক থাকতে হবে।”

এদিকে তালেবানের মত কোন গোষ্ঠী বাংলাদেশে সক্রিয় হয়ে ওঠার সম্ভাবনা খুব একটা আছে বলে মনে করছেন না অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ। এ বিষয়ে তিনি জানান, “যেহেতু বাংলাদেশ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে আছে সেক্ষেত্রে আমাদের চিন্তিত হওয়ার কিছু নাই। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। তবে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে, আফগানিস্তান কোন দিকে এগোচ্ছে সেদিকেও আমাদের নজর রাখতে হবে।”

অন্যদিকে তালেবান নতুন সরকার গঠনের পরেও কৌশলগতভাবে আফগানিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বজায় রাখা উচিৎ বলে মনে করছেন মাহফুজুর রহামান। তিনি জানান, “সাংস্কৃতিকভাবে আফগানিস্তান দক্ষিণ এশিয়া তথা সার্কের সদস্য দেশ। এছাড়াও ভৌগলিকভাবে সমগ্র অঞ্চলে সাম্যাবস্থা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। সেদিক থেকে আফগানিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠা হলে উভয় পক্ষই এর সুফল পাবে।”

দক্ষিণ এশিয়ার অপার সম্ভাবনাময় দেশ বাংলাদেশ বর্তমানে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখছে। আর তাই আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন কোন শক্তির উত্থানে অবশ্যই সতর্ক অবস্থানে থাকবে সরকার।

Link copied!