• ঢাকা
  • বুধবার, ২৪ জুলাই, ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১, ১৮ মুহররম ১৪৪৫

রোজায় গ্যাস্ট্রিক থেকে মুক্তি পেতে ইফতারে রাখবেন যে খাবার


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: এপ্রিল ২০, ২০২২, ০৩:৩২ পিএম
রোজায় গ্যাস্ট্রিক থেকে মুক্তি পেতে ইফতারে রাখবেন যে খাবার

রমজান মাসে অনেকেরই গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বেশি দেখা দেয়। এর সবচেয়ে বড় কারণ আমাদের খাদ্যাভ্যাস। রোজায় আমরা সাধারণত এমন কিছু মুখরোচক খাবার খেয়ে থাকি, যা স্বাদের হলেও স্বাস্থ্যকর নয়। তেলে ভাজা খাবার এবং অতিরিক্ত মসলাদার এ খাবার পেটে গ্যাসের সৃষ্টি করে। অন্যদিকে সারা দিন খালি পেটে থাকার পর এ ধরনের খাবার খেলে তা হজমেও নানান সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তাই রোজায় গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থেকে বাঁচতে খেয়াল রাখতে হবে খাবারের দিকে। ভুল খাদ্যাভ্যাসের জন্য পেটে গ্যাস জমলে তা দূর করার জন্য খেতে হবে কিছু খাবার। 

চলুন জেনে নেওয়া যাক কোন খাবার খেলে মিলবে গ্যাস্ট্রিক থেকে মুক্তি

দই

ইফতারে স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে খেতে পারেন দই। এটি পেট ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি হজমশক্তি বাড়াতেও কাজ করে দই। প্রতিদিন দই খেলে খাবার ভালোভাবে হজম হয়। সে কারণে পেটে গ্যাস জমতে পারে না। এক্ষেত্রে মিষ্টি দইয়ের বদলে টক দই বেশি কার্যকরী।

শসা 

গরমে উপকারী খাবার হলো শসা। প্রতিদিনের ইফতারে শসা রাখুন। কারণ এটি পেট ঠান্ডা রাখতে বেশ কার্যকরী। শসায় আছে ফ্লেভানয়েড ও অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান। এই দুই উপকারী উপাদান পেটে গ্যাস জমলে তা দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়া শসায় পানির পরিমাণ বেশি থাকার কারণে এটি শরীর আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে। ফলে দূরে থাকে পানিশূন্যতার মতো সমস্যা।

কলা

রোজায় প্রতিদিন কলা খাওয়ার অভ্যাস করুন। কারণ এটি গ্যাসের সমস্যা অনেকটাই কমিয়ে দেবে। উপকারী এই ফল পাকস্থলীর অতিরিক্ত সোডিয়াম দূর করতে কার্যকরী। তাই নিয়মিত কলা খেলে পেটে গ্যাস জমতে পারে না। কলায় আছে স্যলুবল ফাইবার যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূরে রাখতে কাজ করে। ইফতার ও সাহরিতে একটি করে কলা খান। এতে পেট পরিষ্কার থাকবে।

পেঁপে 

হজমশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে পেঁপে। এতে আছে উপকারী এনজাইম পাপায়া যা হজমশক্তি বাড়াতে বেশ কার্যকরী। ইফতারে একবাটি পাকা পেঁপে খান। পেঁপের জুস বা স্মুদি তৈরি করেও খেতে পারেন। পাশাপাশি কাঁচা পেঁপের ভর্তা কিংবা তরকারিও খেতে পারেন।

লবঙ্গ 

গ্যাস্ট্রিকের তাৎক্ষণিক সমাধান করবে লবঙ্গ। ইফতারির পর দু’টি লবঙ্গ মুখে নিয়ে চিবোতে থাকুন। চুষে রসটা খেয়ে ফেলুন। দেখবেন কিছুক্ষণের মধ্যেই দূর হয়ে গেছে অ্যাসিডিটি।

পুদিনা পাতা

গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর করতে সেই প্রাচীনকাল থেকেই পুদিনা পাতার রস ব্যবহার হয়ে আসছে। প্রতিদিন ইফতারিতে পুদিনা পাতার রস বা পাতা চিবিয়ে খেলে অ্যাসিডিটি ও গ্যাস্ট্রিক থেকে মুক্তি পাবেন।

আদা 

বুক জ্বালাপোড়া এবং অ্যাসিডিটি সমস্যা সমাধানে বেশ কার্যকর আদা। রমজান মাসে প্রতিদিন রাতের খাবার খাওয়ার আধঘণ্টা আগে ছোট এক টুকরো আদা কাঁচা চিবিয়ে খান দেখবেন গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা একেবারেই থাকবে না।

তুলসীপাতা

ঔষধি গুণে ভরা তুলসীপাতার কথা কে না জানেন। অ্যাসিডিটি দূর করতেও এটি বেশ কার্যকর। গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা শুরু হলে ৫-৬টি তুলসীপাতা চিবিয়ে খেয়ে দেখুন ভালো ফল পাবেন। এছাড়া প্রতিদিন তুলসীপাতা পানির সঙ্গে ব্লেন্ড করে খেলে একেবারে দূর হবে গ্যাস্ট্রিক ও অ্যাসিডিটির সমস্যা।

গুড় 

আপনার বুক জ্বালাপোড়া এবং অ্যাসিডিটি থেকে তাৎক্ষণিকভাবে রেহাই দিতে পারে গুড়। যদি বুক বেশি জ্বালাপোড়া করে একটুকরো গুড় মুখে নিয়ে রাখুন। যতক্ষণ না সম্পূর্ণ গলে যায় ততক্ষণ মুখে রেখে দিন। তবে এ সমাধান অবশ্যই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নয়।

বোরহানি 

বদহজম থেকে রক্ষা করে বোরহানি। এ পনীয়টি টক দই, বীট লবণ ইত্যাদি অ্যাসিডিটি-বিরোধী উপাদান দিয়ে তৈরি। প্রতিদিন খাবারের পর একগ্লাস বোরহানি পানের অভ্যাস করতে পারলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা অনেকাংশে দূর হবে।

Link copied!